প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অবশেষে আট বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে গতি ফিরতে শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলবাসীর লালিত স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। খুব শীঘ্রই সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া রেলপথের নির্মাণ কাজ শুরু হবে, এবং জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্তও শেষ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়াও চলছে, এবং এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। জমির মালিকদের মাঝে চেক বিতরণ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নতুন সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথটি উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এটি শুধুমাত্র দুটি জেলার সংযোগ সৃষ্টি করবে না, বরং গোটা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এখন সবার অপেক্ষা ট্রেনের হুইসিল বাজানোর।
বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের জন্য ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণেও কাজ চলছে।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের আলোচনা নতুন নয়। যমুনা সেতু চালুর পর থেকে উত্তরাঞ্চলের সাথে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হতে শুরু করে। বিভিন্ন সময়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, রুট নির্বাচন এবং কারিগরি বিশ্লেষণ করা হলেও প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে ফাইল বন্দি ছিল।
২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন অবকাঠামো সংযোজন এবং মূল্যস্ফীতির কারণে সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে ভূমির মূল্য এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। বগুড়া অংশে মোট ৪৮১ দশমিক শূন্য ৯ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে।
এখন পর্যন্ত বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর, ও কাহালু উপজেলার মোট ৫৬টি মৌজার যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মাঠ জরিপ, ভিডিও ধারণ এবং মালিকানা যাচাই কাজও সম্পন্ন হয়েছে। গত ২২ জুন ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ এক হাজার ৯৬৯ কোটি ১০ লাখ টাকার চেক বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে এসেছে। এবার পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ কাজ চলছে।
প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৮৬ কিলোমিটার নতুন डুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সাথে লুপলাইন, নতুন স্টেশন, সেতু, কালভার্ট, সিগন্যালিং এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বহুল প্রত্যাশিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের অপেক্ষায় এ অঞ্চলের মানুষ রয়েছে। বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের জন্য প্রধান ভরসা হচ্ছে যমুনা সেতু হয়ে রেল ও সড়কপথ। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ ও রুটের জটিলতার কারণে সময় এবং খরচ দুইটোই একসাথে বেড়ে যাচ্ছে। নতুন এই রেলপথ সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া হয়ে আরও কয়েকটি উত্তরাঞ্চলের জেলার সাথে ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
সরাসরি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ট্রেন চলাচল শুরু হলে ঢাকা-বগুড়া যাত্রায় সময় প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘন্টা কমে যাবে। বর্তমানে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের প্রকৃত দূরত্ব মাত্র ৭২ কিলোমিটার হলেও সরাসরি কোনো রেলপথ না থাকার কারণে ট্রেনে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে পাবনা, সান্তাহার, নাটোর ও ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে বর্তমানে ঢাকা থেকে বগুড়া পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘন্টা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দূরত্ব ১১২ কিলোমিটার কমে যাবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণ এখন শেষ পর্যায়ে। রেল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণ করতে চাইলে যেকোনো সময় জমি বুঝিয়ে দেওয়া যাবে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন