০৭:৩১ পি.এম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ইয়াবা ও গাঁজার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’-এর মতো ভয়ংকর মাদকের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত ইউনিয়ন পর্যন্ত মাদকের কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগে স্থানীয়রা শঙ্কিত। প্রশাসনের অভিযানে বড় পরিমাণে মাদক উদ্ধার হলেও এর সরবরাহ থামছে না। এতে তরুণ ও যুবসমাজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। অলিগলি পর্যন্ত মাদক পৌঁছে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, সহজে মাদক পাওয়ার সুযোগ থাকায় তরুণদের একটি অংশ ধীরে ধীরে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের পড়াশোনা, কর্মজীবন ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
থানা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে পৌরসভার আরামবাগ এলাকায় একটি তালাবদ্ধ ঘরে অভিযান চালিয়ে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে তারা।
আরও পড়ুন: প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান
এর পর জুন মাসে ঢাকা থেকে মঠবাড়িয়াগামী ‘বিএম লাইন পরিবহন’-এর একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ের অভিযানে গাঁজা এবং ইয়াবা উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তেমন দেখা যাচ্ছে না। তার দাবি, প্রশাসনের কিছু সদস্যের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঠবাড়িয়ার একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক অভিভাবক বলেন, "আমার ছেলে এখানে পড়াশোনা করে। কিন্তু মাদকের ছোবলে এখন তার লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কায় আছি। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি চাই, মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।"
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, "অভিভাবকেরা সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু মাদকের সহজলভ্যতায় সেই সন্তান যখন নেশায় জড়িয়ে পড়ে, তখন পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক তরুণ পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, শুধু মাদকসেবীদের আটক করলেই হবে না। যারা মাদক সরবরাহ করছে এবং এর পেছনে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।"
আরও পড়ুন: কক্সবাজার সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আশেক উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করছি। অলিগলিতে মাদক বিক্রি বন্ধে বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, "আমি এ উপজেলায় অল্প কয়েক দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, "বিগত সরকারের সময়ের তুলনায় কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমেছে। তবে এখনো যে পরিমাণ মাদক রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কারবারিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন