০৮:৩৬ পি.এম
বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বিশ্বস্ত দালালদের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এসও রতন ও সার্ভেয়ার ফারুক।
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় অবস্থিত বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস।
এটি ভূমি জরিপ, খতিয়ান বা পর্চা তৈরি, এবং মাঠ পর্যায়ের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করার জন্য দায়বদ্ধ, কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রের সক্রিয়তা এবং ঘুষ বাণিজ্যের কারণে এই অফিসটি অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ রয়েছে যে, টাকা ছাড়া এখানে পর্চা বা রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের সেবা পাওয়া কঠিন।
আরও পড়ুন: সিলেটের জকিগঞ্জে বিয়ের এক মাসের মাথায় সড়কে যুবক ফরহাদ আহমদের প্রাণ ঝরল
গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল মানুষদের ভুমি সংক্রান্ত জটিলতার সুযোগ নিয়ে, অসাধু সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাদী-বিবাদী আপিল শুনানির রায় পক্ষে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ অর্থ চুষে নিচ্ছে। ভোলা বোরহান উদ্দিনের কিছু আপিল শুনানির কেসের দায়িত্ব নিয়েছেন সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রতন। তার পেশকার হিসেবে ছিলেন মোঃ ফারুক হোসেন, সার্ভেয়ার। স্যারদের কিছু খরচ দিলেই রায় পক্ষে দেওয়ার অফার প্রদান করেছেন বিশ্বস্ত দালাল আইয়ুব আলীর মাধ্যমে। ২,৫০,০০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে রতন ও ফারুক ভুক্তভোগীরা সংবাদ কর্মীদের ভিডিও সাক্ষাৎকারে জানান এবং তথ্য-প্রমাণ দেয়। মৌখিকভাবে রায় দিলেও কাগজে কলমে তা তারা প্রদান করেননি। ভুক্তভোগীরা মনে করেন যে, পরবর্তী শুনানিতে তাদের কোনও ক্ষতি হতে পারে।
মোঃ ফারুক হোসেন, যিনি সার্ভেয়ার হিসেবে বানারিপাড়ায় পোস্টিং পাওয়া সত্ত্বেও, ঘুষের টাকা ভাগ- বাটোয়ারা করার কিছু কেস বাকি থাকার কারণে মাঝেমধ্যে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে দেখা দিচ্ছেন। সার্ভেয়ার মোঃ ফারুক হোসেনের সাথে যে সকল আপিল কেস বর্তমানে শুনানি চলছে, সেগুলোর মোটা অংকের ঘুষ বিশ্বস্ত দালাল মোঃ বাশেদ হাওলাদার ও আইয়ুব আলীর মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে, যার বেশিরভাগই নিজের পিয়ন মোঃ রাকিব হোসেনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
আকাশ হোটেলে চিহ্নিত দালালদের সাথে খাবার টেবিলে পর্চা দেওয়ার জন্য দরকষাকষি হয় এবং পিয়ন ও নিরাপত্তা প্রহরী যেখানে রাতের বেলায় ঘুমান, সেই রুমের মধ্যে দরজা আটকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করা হয়। পহেলা এপ্রিল বুধবার দুইটি কেসের শুনানি শেষে, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, পর্চা নিতে হলে একেকটি পর্চায় পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দুইটি পর্চায় এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। দর-কষাকষির পরে, ২০ হাজার টাকা করে রফা-দফায় আসে। দুইটির জন্য আক্রান্তদের দাবি চল্লিশ হাজার টাকা এমনটাই অভিযোগ।
এ বিষয়ে ওয়াহিদুজ্জামান রতনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২,৫০,০০০ টাকা অভিযোগের কেসটা তদন্ত করছে সার্ভেয়ার ফারুক, তাই আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। কিন্তু এই কেসের দায়িত্ব আপনার কাছে, রিপোর্ট ও পর্চা তো আপনার অনুমতিতে দেওয়া হয় এবং আপনি পিয়ন রাকিবকে বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে পর্চার বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন। সংবাদ কর্মীদের এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি রতন।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী হত্যায় অভিযুক্ত আরিফ হোসেনের ছবি ভাইরাল
এ বিষয়ে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মৃধা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম যখন সংবাদ কর্মীদের ঘুষ বাণিজ্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি জানান যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন