প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটের নিউ বাস টার্মিনাল এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটা ঘটে মঙ্গলবার, যখন পুলিশের গুলি পড়ে ৬ জন প্রাণ হারায়। ৯ জুন থেকে চলমান আন্দোলনে সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত ২৬ জন প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া গেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৪০ জনেরও বেশি।
পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে দুটি দফায় আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং বিদ্যুতের দামে ভর্তুকির দাবি উঠেছিল। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যা বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে গঠিত।
নতুন দফার আন্দোলন শুরু হয়েছে ৩৮ দফা দাবির ভিত্তিতে। আন্দোলনকারী নেতারা বারবার আলটিমেটাম দিলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আন্দোলনের দাবির মধ্যে রয়েছে আটা-ময়দাসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি এবং ভিআইপিদের প্রটোকল বাতিল করা। আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে, আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো বিধানসভায় কাশ্মীরের বাইরের কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিল করা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার এই সংরক্ষিত আসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কাশ্মীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তারা বলছেন, পাকিস্তান সরকার দাবি মানার পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দমননীতি হিসেবে খাদ্য, জ্বালানি এবং জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের পাশাপাশি ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ চালানো হচ্ছে। তবুও আন্দোলন তীব্র হচ্ছে এবং রাজপথে আজাদির দাবি উঠেছে। আন্দোলনকারীরা ভারতকে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা পুঞ্চ ও ডোডা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সাহায্য পৌঁছানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে বলছেন।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে চলমান আন্দোলনে সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে চলমান এই বিক্ষোভ মূলত পাকিস্তানের কয়েক দশক ধরে চালানো পদ্ধতিগত শোষণের ফল।’ মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের বর্বরতার জন্য আক্রমণ করেন এবং জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উচিত পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এদিকে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে কাশ্মিরীরা হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন