ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোদির ‘গদি’ উল্টে দেওয়ার ডাক রাহুল গান্ধীর


মোদির ‘গদি’ উল্টে দেওয়ার ডাক রাহুল গান্ধীর

ভারতের তরুণদের জন্য নতুন প্লাটফর্ম ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টির তীব্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এই আন্দোলনে সফলতার জন্য আন্দোলনকারীদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী।

তবে তিনি আন্দোলনকারীদেরকে এখানেই থেমে না থেকে মোদি সরকারের পতনের জন্য লড়ে যেতে বলেছেন। আন্দোলনে কৃষক-শ্রমিকসহ সমাজের অন্যান্য অংশেরও অংশগ্রহণ করতে বলেছেন এই কংগ্রেস নেতা।

শনিবার (২৫ জুলাই) তার বাসভবন ১০ জনপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। পরে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টও করেন তিনি। গণতন্ত্র, সংবিধান ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে লড়াই করার জন্য তিনি তরুণদের প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ইবি কর্মচারী দিপু, মেডিকেল ভর্তি

সেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, “সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা গর্বিত।” গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় যেসব তরুণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে অনড় ছিলেন, তাদেরকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

তিনি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সরকারের দমন-পীড়নের কড়া সমালোচনাও করেছেন। জরুরি অবস্থায় ভয় না পেয়ে সাংবিধানিক পদ্ধতির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নিজেদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় ভারতের কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র ও এ সরকারের হাতে নিপীড়িত প্রতিটি মানুষের প্রতি আহবান জানিয়ে রাহুল গান্ধী লেখেন, “সত্যিকারের সাহস হলো সাংবিধানিক পন্থায় নিজের মর্যাদার জন্য অবিচল থাকা। এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!”

এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে ভারত সরকার শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলোও মেনে নেওয়ায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্ট: ‘কাপুরুষের মতো সবকিছু পণ্ড করেছে’ যুক্তরাষ্ট্র

তারা জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি সরকার তাদের অন্য দাবিগুলোও মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা পুলিশের মামলা তুলে নেওয়া, ভবিষ্যতে তাদের হয়রানি না করা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

৩৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো মেনে নেওয়ায়, সব বিক্ষোভকারীকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদস্থল ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসিকে ধন্যবাদ জানালেন রিকেলমে, প্রশংসায় ভাসালেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ পি.এম


মেসিকে ধন্যবাদ জানালেন রিকেলমে, প্রশংসায় ভাসালেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা হুয়ান রোমান রিকেলমে আবারও প্রশংসায় ভাসালেন লিওনেল মেসিকে। তিনি জানিয়েছেন, মেসির খেলা উপভোগ করা অসম্ভব এবং আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দেশের জনগণের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিকেলমে বলেন যে, মেসি অন্য সবার চেয়ে ভিন্নভাবে ফুটবল খেলেন। মাঠে তিনি হাঁটতে হাঁটতেই খেলার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেন, যা অন্যদের কল্পনারও বাইরে।

রিকেলমের ভাষায়, “মেসি ফুটবল খেলছে, আর সেটা উপভোগ না করা অসম্ভব। সে হাঁটে, পর্যবেক্ষণ করে ম্যাচ কোনদিকে এগোচ্ছে। যখন আমরা গ্যালারিতে বা টিভির সামনে উদ্বিগ্ন থাকি, তখনও সে মাঠে থেকে পুরো খেলাটা পড়ছে। সে একেবারে ভিন্নভাবে খেলে, তাই এটা বিস্ময়কর।”

মেসির অসাধারণ প্রতিভার প্রশংসা করতে গিয়ে বোকা জুনিয়র্সের বর্তমান সভাপতি বলেন, সময়ের সঙ্গে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। ছোটবেলায় তার গতি ছিল অবিশ্বাস্য, পরে যোগ হয়েছে নিখুঁত পাস, দুর্দান্ত ফ্রি-কিক এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতা।

রিকেলমে উল্লেখ করেন, মেসি এমন কিছু ভাবে চিন্তা করে, যা অন্যদের কল্পনারও বাইরে। ছোটবেলায় সকলে বলত, সে বলের চেয়েও দ্রুত দৌড়াতে পারে। এরপর সে পাস দেওয়া, ফ্রি-কিক থেকে গোল করা সবকিছুই আয়ত্ত করে নিয়েছে। ২০ বছর ধরে সে নিজেকে সেরা প্রমাণ করে যাচ্ছে। এখন আর তার কোনো কিছুই তাকে অবাক করে না।

মেসির জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন রিকেলমে। শৈশবে স্পেনে চলে গিয়ে বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠায় স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল তার। তবে সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে জন্মভূমি আর্জেন্টিনার জার্সিই বেছে নেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে রিকেলমে বলেন, তাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। আমরা আর্জেন্টাইনরা সৌভাগ্যবান যে সে স্পেনকে নয়, আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার ও সংস্কারের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ পি.এম


জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার ও সংস্কারের তাগিদ

‘সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ’ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে বিকাল ৪টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক।

আলোচনার শুরুতে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাশিদুল হক তিমুর স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যদি জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে চাই হয় তাহলে প্রথমেই গণহত্যা ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজতর হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিলেন তার ভিত্তি ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা হতে মুক্তি পেতে জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণেরা প্রাণ দিয়েছে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাযজ্ঞের বিচারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের দেশে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এই হত্যাযজ্ঞ কোনো বহিরাগত শক্তির দ্বারা সংঘটিত হয়নি। যখন কোনো দেশের সরকার এরকম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে তাকে স্টেট স্পন্সরড টেররিজম বলা হয়। আর্জেন্টিনা এবং চিলিতে পূর্বে এরকম ঘটনাগুলো পরিচালনা করেছিল দেশগুলোর ডিক্টেটররা।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রানজিশনাল জাস্টিস গুরুত্বপূর্ণ। ট্রানজিশনাল জাস্টিস না থাকলে একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্ম নেয়। এই যে মব ভায়োলেন্সের কথা বলা হচ্ছে—এটি সবসময় আমাদের দেশে ছিল। যখন মানুষ সুবিচার পায় না, তখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করতে হলে আগে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, “আমি জানি না, বিএনপি সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের মধ্যে কী মধু খুঁজে পেয়েছে। বাহাত্তরের সংবিধান ত্রুটিপূর্ণ। এটি একটি গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতাকে তুলে দেয়। আমরা দেখেছি, তারা জুলাই সনদের ক্ষমতার ভারসাম্য সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তারা বলছে, তারা গণভোট মানে না। কারণ, গণভোট নাকি অসাংবিধানিক! ড. মাহবুব উল্লাহ এজন্যই বলেছেন, আমি বিএনপির অভ্যন্তরে আইন নিয়ে খোঁচাখুঁচির বিষয়টি দেখে বিরক্ত।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সকল নাগরিক দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসে আমরা দেখলাম যে, বলা হচ্ছে, নির্বাচন যেন দ্রুত সংঘটিত হয় সেজন্য তারা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবসমূহ মেনে নিয়েছিলেন। আপনারা আপনাদের দল, জাতির সঙ্গে বেইমানি করছেন। ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে, এখনও সময় আছে। আপনারা জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবসমূহ মেনে নেন।”

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে হলে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে তারা যে অপরাধসমূহ সংঘটিত করেছে সেগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। জুলাই একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব। আমরা জুলাই ব্যর্থ হতে দেব না। আমরা এর জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে থাকব।”

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, “বিডিআর হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি। এই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা অফিসার শহীদ হন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যারা বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার দাবি করেছে তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই সরকারের বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আমরা আমাদের তদন্তে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছি। শেখ হাসিনার ভাতিজা ফজলে নূর তাপস এবং শেখ সেলিম ২০০৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকেই বিডিআর সদস্যদের নানাভাবে উস্কানি দিতে থাকে।”

বিডিআর হত্যাযজ্ঞে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিডিআর হত্যাযজ্ঞে বহিরাগতরা জড়িত ছিল। বহিরাগতদের বিডিআরদের পোশাক সরবরাহ করেছিল সোহেল তাজ। তিনি বলেছেন, আমি বিডিআর পোশাক পরিধান করে প্যারেডে অংশগ্রহণ করব। একজন প্রতিমন্ত্রী কীভাবে পোশাক পরিধান করে প্যারেডে অংশগ্রহণ করে! যে ব্যক্তি পোশাক তৈরি করেছিল তার বক্তব্য নিয়েছি। যারা হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের বিষয়টি স্বীকার করেছে।”

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের হাজারিবাগ এলাকার নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে পিলখানায় প্রবেশ করে। সেই মিছিলের মাধ্যমে বহিরাগতরা পিলখানা ত্যাগ করে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে একটি দলের তৃণমূল নেতা-কর্মী হতে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তথা শেখ হাসিনা পর্যন্ত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল।”

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সে সময় গণমাধ্যম ন্যাকারজনক ভূমিকা পালন করে। মুন্নী সাহা, জ.ই. মামুন বিডিআর হত্যাকাণ্ডের লাইভ টেলিকাস্ট করলে সারাদেশে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। ডেইলি স্টারের জুলফিকার মানিক কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। কোনো সোর্স উল্লেখ না করে তিনি বলেন, পিলখানায় জঙ্গিরা আক্রমণ করেছে। ভারতের প্রায় সকল মেইনস্ট্রিম মিডিয়া এই প্রতিবেদনের ওপর রিপোর্ট করেছিল।”

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আমাদের সংবিধানের সমস্যাসমূহের সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার নিয়ে কাজ করার সময় আমরা দেখেছি, দেশের সাধারণ জনগণ সংবিধান সংস্কার নিয়ে কতটা আগ্রহী। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা। এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে যেন ক্ষমতা কুক্ষিগত না থাকে।”

তিনি আরো বলেন, “ইতিহাসে এরকম সময় খুব কম আসে যখন আমরা রাষ্ট্রের পুনর্গঠন নিয়ে চিন্তা করি। রাষ্ট্রের যেকোনো সংকটকালীন সময়ে তরুণদেরই রক্ত দিয়ে তার মূল্য দিতে হয়। এরকম সংকট হতে উত্তরণের সুযোগ জুলাই আমাদের এনে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের গভীর উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের গভীর উদ্বেগ

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ছাতার ভেতর শক্তিশালী বোমা (আইইডি) উদ্ধারের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ উদ্বেগের কথা শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

গোলাম পরওয়ার জানান, রাজধানীর অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ ধরনের প্রাণঘাতী বিস্ফোরক বা বোমা উদ্ধারের ঘটনা চরম উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। এ ধরনের হীন ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার যেকোনো দেশবিরোধী চক্রান্ত ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদা সজাগ ও তৎপর থাকতে হবে। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি মেট্রোরেল স্টেশনসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়করণকালে স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত পথচারীর প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং তার সুষ্ঠু ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ জাতীয় নাশকতা চালানোর সাহস না পায়।

তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং যেকোনো উসকানি ও নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, নিখোঁজ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, নিখোঁজ নারী

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী একটি ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক নারী নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা বেলায়, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়াগামী 'কুমিল্লা' নামের ফেরিতে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফেরিটির কর্তৃপক্ষ থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে, কিন্তু রাত পর্যন্ত তার সম্পর্কে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফেরির ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার জানিয়েছেন, পাটুরিয়া ৩ নম্বর ঘাট থেকে ফেরিটি ছেড়ে যাওয়ার পর, মাঝ নদীর লাল বয়া এলাকায় এসে তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, এক নারী ফেরির পেছনের অংশ থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরিটি থামিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আলো ফেলে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করা হয়, তবে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন। অন্যান্য যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে অন্য কোনো যাত্রী বা আত্মীয় ছিলেন না। পরে এই ঘটনার বিষয়টি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি কর্তৃপক্ষ ও নৌপুলিশকে জানানো হয়।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেছেন, ফেরি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছু সমস্যা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম জানাচ্ছেন, নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে নৌপুলিশ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসাইন জানিয়েছেন, ফেরি থেকে নারী ঝাঁপ দেওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ফেরিটি ঘুরিয়ে অনুসন্ধান করা হয় এবং পরে নৌপুলিশকে এই বিষয়টি জানানো হয়।

অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, দৌলতদিয়া ঘাটে এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

নিখোঁজ নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%