ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার ও সংস্কারের তাগিদ


জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার ও সংস্কারের তাগিদ

‘সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ’ (সিবিএস)-এর উদ্যোগে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: বিচার, সংস্কার ও পুনর্গঠন’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে বিকাল ৪টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক।

আলোচনার শুরুতে সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাশিদুল হক তিমুর স্বাগত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যদি জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে চাই হয় তাহলে প্রথমেই গণহত্যা ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ সহজতর হবে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এসএএফএনের অনারারি সিনিয়র ফেলো নিযুক্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিলেন তার ভিত্তি ছিল বাহাত্তরের সংবিধান। এই রাজনৈতিক ব্যবস্থা হতে মুক্তি পেতে জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণেরা প্রাণ দিয়েছে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাযজ্ঞের বিচারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের দেশে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। এই হত্যাযজ্ঞ কোনো বহিরাগত শক্তির দ্বারা সংঘটিত হয়নি। যখন কোনো দেশের সরকার এরকম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করে তাকে স্টেট স্পন্সরড টেররিজম বলা হয়। আর্জেন্টিনা এবং চিলিতে পূর্বে এরকম ঘটনাগুলো পরিচালনা করেছিল দেশগুলোর ডিক্টেটররা।”

তিনি আরও বলেন, “ট্রানজিশনাল জাস্টিস গুরুত্বপূর্ণ। ট্রানজিশনাল জাস্টিস না থাকলে একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্ম নেয়। এই যে মব ভায়োলেন্সের কথা বলা হচ্ছে—এটি সবসময় আমাদের দেশে ছিল। যখন মানুষ সুবিচার পায় না, তখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করতে হলে আগে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, “আমি জানি না, বিএনপি সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের মধ্যে কী মধু খুঁজে পেয়েছে। বাহাত্তরের সংবিধান ত্রুটিপূর্ণ। এটি একটি গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতাকে তুলে দেয়। আমরা দেখেছি, তারা জুলাই সনদের ক্ষমতার ভারসাম্য সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তারা বলছে, তারা গণভোট মানে না। কারণ, গণভোট নাকি অসাংবিধানিক! ড. মাহবুব উল্লাহ এজন্যই বলেছেন, আমি বিএনপির অভ্যন্তরে আইন নিয়ে খোঁচাখুঁচির বিষয়টি দেখে বিরক্ত।”

আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সকল নাগরিক দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসে আমরা দেখলাম যে, বলা হচ্ছে, নির্বাচন যেন দ্রুত সংঘটিত হয় সেজন্য তারা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবসমূহ মেনে নিয়েছিলেন। আপনারা আপনাদের দল, জাতির সঙ্গে বেইমানি করছেন। ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে, এখনও সময় আছে। আপনারা জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবসমূহ মেনে নেন।”

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে হলে ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে তারা যে অপরাধসমূহ সংঘটিত করেছে সেগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। জুলাই একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব। আমরা জুলাই ব্যর্থ হতে দেব না। আমরা এর জন্য সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে থাকব।”

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের (বিডিআর হত্যাযজ্ঞ বিষয়ক) সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, “বিডিআর হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি। এই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা অফিসার শহীদ হন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যারা বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার দাবি করেছে তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এই সরকারের বিডিআর হত্যাযজ্ঞের বিচার করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। আমরা আমাদের তদন্তে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছি। শেখ হাসিনার ভাতিজা ফজলে নূর তাপস এবং শেখ সেলিম ২০০৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকেই বিডিআর সদস্যদের নানাভাবে উস্কানি দিতে থাকে।”

বিডিআর হত্যাযজ্ঞে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিডিআর হত্যাযজ্ঞে বহিরাগতরা জড়িত ছিল। বহিরাগতদের বিডিআরদের পোশাক সরবরাহ করেছিল সোহেল তাজ। তিনি বলেছেন, আমি বিডিআর পোশাক পরিধান করে প্যারেডে অংশগ্রহণ করব। একজন প্রতিমন্ত্রী কীভাবে পোশাক পরিধান করে প্যারেডে অংশগ্রহণ করে! যে ব্যক্তি পোশাক তৈরি করেছিল তার বক্তব্য নিয়েছি। যারা হত্যাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিল, তাদের বিষয়টি স্বীকার করেছে।”

আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগরীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৭৭ জন গ্রেফতার, ৩৪ মামলা দায়ের

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের হাজারিবাগ এলাকার নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে পিলখানায় প্রবেশ করে। সেই মিছিলের মাধ্যমে বহিরাগতরা পিলখানা ত্যাগ করে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে একটি দলের তৃণমূল নেতা-কর্মী হতে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তথা শেখ হাসিনা পর্যন্ত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল।”

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সে সময় গণমাধ্যম ন্যাকারজনক ভূমিকা পালন করে। মুন্নী সাহা, জ.ই. মামুন বিডিআর হত্যাকাণ্ডের লাইভ টেলিকাস্ট করলে সারাদেশে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। ডেইলি স্টারের জুলফিকার মানিক কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। কোনো সোর্স উল্লেখ না করে তিনি বলেন, পিলখানায় জঙ্গিরা আক্রমণ করেছে। ভারতের প্রায় সকল মেইনস্ট্রিম মিডিয়া এই প্রতিবেদনের ওপর রিপোর্ট করেছিল।”

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আমাদের সংবিধানের সমস্যাসমূহের সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবিধান সংস্কার নিয়ে কাজ করার সময় আমরা দেখেছি, দেশের সাধারণ জনগণ সংবিধান সংস্কার নিয়ে কতটা আগ্রহী। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা। এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে যেন ক্ষমতা কুক্ষিগত না থাকে।”

তিনি আরো বলেন, “ইতিহাসে এরকম সময় খুব কম আসে যখন আমরা রাষ্ট্রের পুনর্গঠন নিয়ে চিন্তা করি। রাষ্ট্রের যেকোনো সংকটকালীন সময়ে তরুণদেরই রক্ত দিয়ে তার মূল্য দিতে হয়। এরকম সংকট হতে উত্তরণের সুযোগ জুলাই আমাদের এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: এক মাস পর অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের গভীর উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের গভীর উদ্বেগ

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে ছাতার ভেতর শক্তিশালী বোমা (আইইডি) উদ্ধারের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ উদ্বেগের কথা শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

গোলাম পরওয়ার জানান, রাজধানীর অন্যতম জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকা মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ ধরনের প্রাণঘাতী বিস্ফোরক বা বোমা উদ্ধারের ঘটনা চরম উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে। এ ধরনের হীন ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার যেকোনো দেশবিরোধী চক্রান্ত ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বদা সজাগ ও তৎপর থাকতে হবে। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি মেট্রোরেল স্টেশনসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বোমা নিষ্ক্রিয়করণকালে স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত পথচারীর প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং তার সুষ্ঠু ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ জাতীয় নাশকতা চালানোর সাহস না পায়।

তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং যেকোনো উসকানি ও নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, নিখোঁজ নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ, নিখোঁজ নারী

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী একটি ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক নারী নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা বেলায়, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়াগামী 'কুমিল্লা' নামের ফেরিতে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফেরিটির কর্তৃপক্ষ থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে, কিন্তু রাত পর্যন্ত তার সম্পর্কে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফেরির ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার জানিয়েছেন, পাটুরিয়া ৩ নম্বর ঘাট থেকে ফেরিটি ছেড়ে যাওয়ার পর, মাঝ নদীর লাল বয়া এলাকায় এসে তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, এক নারী ফেরির পেছনের অংশ থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরিটি থামিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আলো ফেলে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করা হয়, তবে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন। অন্যান্য যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে অন্য কোনো যাত্রী বা আত্মীয় ছিলেন না। পরে এই ঘটনার বিষয়টি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি কর্তৃপক্ষ ও নৌপুলিশকে জানানো হয়।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেছেন, ফেরি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকার কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছু সমস্যা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম জানাচ্ছেন, নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে নৌপুলিশ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসাইন জানিয়েছেন, ফেরি থেকে নারী ঝাঁপ দেওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই ফেরিটি ঘুরিয়ে অনুসন্ধান করা হয় এবং পরে নৌপুলিশকে এই বিষয়টি জানানো হয়।

অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, দৌলতদিয়া ঘাটে এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

নিখোঁজ নারীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ভিত্তি গণিতে দক্ষতা: ডুয়েট উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ভিত্তি গণিতে দক্ষতা: ডুয়েট উপাচার্য

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল জানিয়েছেন, ‘কোনো জাতির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অধিকাংশই নির্ভর করে সেই জাতির গণিতে দক্ষতার ওপর।’

শনিবার ডুয়েটের গণিত বিভাগ ও ম্যাথ ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্স কার্নিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব‍্যমে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ডুয়েট সবসময় প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক বিজ্ঞান ও গণিতচর্চাকে উৎসাহিত করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির এই যুগে গণিতচর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে এমন কার্নিভাল আয়োজনের বিকল্প নেই।’

সকালে ডুয়েটের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে কার্নিভ্যালের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। কার্নিভ্যালের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার।

গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু নঈম শেখের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সালমা আখতার, বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ডুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাব উদ্দিনসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ ও লেখক আনিসুল হক। ম্যাথ ক্লাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ক্লাব সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ রতন ও সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউজ্জামান।

কার্নিভালে সারা দেশের প্রায় দেড়শো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা ও ম্যাথ গেমসের মতো নানা আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। বিকেলে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে কার্নিভ্যালের সমাপ্তি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তেজনা কমাতে সৌদি ও ইয়েমেনি গোষ্ঠীর জরুরি বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ পি.এম


উত্তেজনা কমাতে সৌদি ও ইয়েমেনি গোষ্ঠীর জরুরি বৈঠক

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিরা চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ওমানে, হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর মুখপাত্র মোহাম্মদ আব্দুলসালাম সৌদির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুতির সূত্র অনুযায়ী, এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা’ উদ্যোগে এগিয়ে যাওয়া।

এদিকে, সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পাল্টা জবাবে আজ সকালে সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর দুটি তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার গতকাল রাতে ইরানে কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরশু রাতে বলেছিলেন যে ইরানের ওপর আবারও পূর্ণমাত্রায় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%