মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০৫:৪২ পি.এম
"উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)'র যৌথ আয়োজনে এই প্রথম জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (৬জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহদাত হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এসআরএমজি কিবরিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, বিআরডিবি'র চেয়ারম্যান হাজী হাফেজ মো. দ্বীন ইসলাম সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রণ করেন।
পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা শেষে চেক বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাস এবং গরুবোঝাই একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় পিকআপের চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন এবং পিকআপে থাকা ছয়টি গরু মারা গেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-পাকুন্ডিয়া সড়কের পাকুন্ডিয়া উপজেলার সুখিয়া বাজারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস ‘অনন্যা ক্লাসিক’-এর সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গরুবোঝাই পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপে থাকা তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আরো দুজন আহত হন। এ সময় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও প্রাণ হারায়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার পুন্দাইল গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩৫), একই এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে খুরশিদ (৬০) এবং পিকআপচালক নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা খোকন মিয়া (৩৯)।
দুর্ঘটনার ঘটনা জানার পর পুলিশ ও পাকুন্ডিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন। পাকুন্ডিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার নূর মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং এ সময় পিকআপের ভেতর আটকে থাকা কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়। নিহত তিনজনের লাশ ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের রাজনগরে, নিখোঁজ হয়ে ১৯ দিন পর এক নারীর মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে স্বামী আলমগীর হোসেন (৩৫) এবং তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
নিহত জায়েদা বেগম (৩৮) রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানাচ্ছে, গত ৩ জুলাই মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ৫ জুলাই আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি প্রথমে দাবি করেন, তার স্ত্রী গত ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। কিন্তু তার বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায়, তাকে থানায় নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, এক পর্যায়ে আলমগীর স্বীকার করেন যে, গত ১৭ জুন রাতে স্ত্রী জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এক সহযোগীর সহায়তায়। পরে ১৮ জুন সকালে তিনি বাড়ির উঠানে গর্ত করে মরদেহটি মাটি চাপা দেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠানে অভিযান চালানো হয়। পরে মাটি খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাজনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে স্বামী আলমগীর হোসেন ও তার এক সহযোগীকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম একটি বক্তব্যে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলা উত্তেজনার ফলে সার্কের অন্যান্য দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্বাসের অভাব সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, সোমবার (০৬ জুলাই) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটিজ্যিক স্ট্রাডিজের সার্ক নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে এই মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সার্কের সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক আলোচনা করা হয়েছে। সবাই সার্ককে কার্যকর করার জন্য আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, বিমসটেক এবং সার্ক এশিয়ায় একে অপরের প্রতি প্রতিযোগিতা তৈরি করবে না বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়া জাজারীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি তুলেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিক ছাইদুর রহমান নাঈম।
কখনো বৃষ্টির পানি টিনের ফাঁক দিয়ে পড়ে, আবার কখনো সূর্যের আলো ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় জামাকাপড়, বইপত্র এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে যায়।
ঝড়-তুফান এলেই আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারের সদস্যদের—এটাই বুঝি টিনের চাল উড়ে যাবে। এমন নড়বড়ে এবং জরাজীর্ণ ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্র রবি মিয়া।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাকালিয়া গ্রামের এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট ও অভাব যেন তাদের নিরন্তর সঙ্গী।
ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় বাবা-মা ও সন্তানদের। খাবারের কষ্টও লেগেই আছে—কখনো একেবারেই খাবার জোটে, আবার কখনো উপোস থাকতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে উপযুক্ত বয়স হয়ে গেলেও রবি মিয়া দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
ফলে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছেন। বড় দুই মেয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোন টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট বসতভিটায় তিনটি টিনের ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও নড়বড়েতে হয়ে পড়েছে। একটি ঘরে রবি মিয়ার বৃদ্ধ মা থাকেন, অপর দুটি ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ার ফলে কাগজ, কাপড় এবং পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। বইপত্রগুলো রক্ষার জন্য সেগুলোও পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চেহারায় অভাব-অনটনের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
ঘরের ভেতরে বৃষ্টিতে ভেজা বই দেখছেন রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। ঝড়-বৃষ্টি এলেই টিনের চাল উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়, কষ্ট এবং তীব্র অভাব যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্দশা স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।
রবি মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার তামান্না কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বইপত্র, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ভিজে যায়। নিজের কলেজের খরচের পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বহন করতে হয়। সামান্য টিউশনি করে সবকিছু সামলানো খুবই কঠিন।’
রবি মিয়া বলেন, ‘আমার বয়স হয়ে গেছে, শরীরে আর শক্তি পাই না। নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারি না। টাকার অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা যদি কোনো আবদার করে, তা পূরণ করতে পারি না। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। সংসার কীভাবে চলবে, আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই চিন্তায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘রবি মিয়ার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ