১০:১১ পি.এম
ওয়ালটন শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ কোচিং প্যানেল তৈরি করেছে, যেখানে জাতীয় দলের একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন আয়োজন ডি-থ্রি ট্রফিতে শিরোপা জয়ের উদ্দেশ্যে সাবেক তারকা স্পিনার আবদুর রাজ্জাককে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সহকারী কোচ হিসেবে রয়েছেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ তুষার ইমরান ও ডলার মাহমুদ। ছয় সদস্যের কোচিং ও সাপোর্ট স্টাফ গঠনের জন্য ক্রিকেট বিশ্লেষক, ফিজিওথেরাপিস্ট ও ফিটনেস ট্রেইনারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওয়ালটনের কোচিং প্যানেলে ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে নাসির আহমেদ, ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে এনামুল হক এবং ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে আসলাম খান দায়িত্ব পালন করবেন। এই প্যানেল খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন, ম্যাচ পরিকল্পনা, প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ এবং ফিটনেস ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
ডি-থ্রি ট্রফিতে ওয়ালটনের আইকন ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে স্কোয়াডে লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ, মুমিনুল হক, মার্শাল আইয়ুব, নাসুম আহমেদ, আরিফুল ইসলাম ও রনি তালুকদারের মতো প্রথম সারির ক্রিকেটাররা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারকেও দলে নিয়েছে। কোচিং প্যানেল এই তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াডের সর্বোচ্চ সামর্থ্য কাজে লাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়নস লিগে রাতে মাঠে নামছে বার্সেলোনা, ফ্রিতে খেলা দেখবেন যেভাবে
আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। তিনি বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন এবং দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রয়েছে। খেলোয়াড় হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেট সম্পর্কে গভীর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ওয়ালটনের বোলিং আক্রমণ, ম্যাচ পরিকল্পনা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তিনি।
সহকারী কোচ হিসেবে তুষার ইমরান যুক্ত হয়েছেন, যিনি দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটার। দীর্ঘ ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত এই সাবেক ক্রিকেটার। বিশেষ করে ব্যাটারদের টেকনিক, ইনিংস গঠন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং এবং দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্য সহকারী কোচ ডলার মাহমুদও দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে অর্জিত মাঠের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, অনুশীলন ও ম্যাচভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান কোচকে সহযোগিতা করবেন তিনি।
আধুনিক ক্রিকেটে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও কৌশলগত পরিকল্পনার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নাসির আহমেদকে ক্রিকেট বিশ্লেষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিপক্ষের খেলার ধরন, ব্যাটার-বোলারদের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোচিং প্যানেলকে প্রয়োজনীয় তথ্য সহায়তা করবেন।
আরও পড়ুন: এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রাথমিক দলে সাব্বির রহমান
অন্যদিকে, খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতা, চোট ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন ফিজিওথেরাপিস্ট এনামুল হক। ফিটনেস ট্রেইনার আসলাম খান কাজ করবেন ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে।
টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেট—তিন সংস্করণের সমন্বয়ে আয়োজিত হচ্ছে ডি-থ্রি ট্রফি। ফলে একই স্কোয়াডকে ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেদের দক্ষতা, কৌশল ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, ওয়ানডের পরিকল্পিত ইনিংস এবং চার দিনের ক্রিকেটের ধৈর্য ও মনোযোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোচিং প্যানেলের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত ডি-থ্রি ট্রফির খেলোয়াড় নিলামে ২৬৯ জন ক্রিকেটারকে তোলা হয়। ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল একজন করে পূর্বনির্ধারিত আইকন ক্রিকেটারের পাশাপাশি নিলাম থেকে ২২ জন করে খেলোয়াড় নিয়ে ২৩ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করে।
ওয়ালটনের স্কোয়াডে মিরাজের অলরাউন্ড দক্ষতা, লিটনের ব্যাটিং, তাসকিনের পেস আক্রমণ, মুমিনুলের দীর্ঘ সংস্করণের অভিজ্ঞতা এবং নাসুমের স্পিন বোলিং দলটিকে শক্তিশালী করেছে। তরুণ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলে নতুন উদ্যম এনেছে। এই অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়কে মাঠের সাফল্যে রূপ দেওয়াই হবে কোচিং প্যানেলের অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় ২৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করলেন এমপি মানসুরা আলম
নিলাম শেষে ওয়ালটনের কোচ আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, কোচ হিসেবে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, মাঠের কাছাকাছি সময় কাটানো এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তিনি উপভোগ করছেন। তবে ব্যক্তিগত ভালো লাগার চেয়ে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং দলকে ভালো ফল এনে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নিলামে ওয়ালটনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত চিত্রনায়ক আমিন খানও দল গঠন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিজ্ঞ কোচিং প্যানেল ও মানসম্পন্ন ক্রিকেটারদের নিয়ে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা আশা করি, আমরা ভালো খেলা উপহার দেব, অবশ্যই জিতব।”
ডি-থ্রি ট্রফিতে শক্তিশালী স্কোয়াডের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ কোচিং প্যানেল গঠনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করেছে ওয়ালটন। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য, কোচদের অভিজ্ঞতা, তথ্যভিত্তিক কৌশল এবং ফিটনেস ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে চায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। লক্ষ্য একটাই—শিরোপা জয়।
ডি-থ্রি ট্রফিতে ওয়ালটনের কোচিং ও সাপোর্ট প্যানেল :
আরও পড়ুন: সৌদি ক্লাবের ৩৪৮ কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে সালাহ তুরস্কেই থাকবেন
· কোচ : আবদুর রাজ্জাক
· সহকারী কোচ : তুষার ইমরান
· সহকারী কোচ : ডলার মাহমুদ
· ক্রিকেট বিশ্লেষক : নাসির আহমেদ
আরও পড়ুন: আফগান প্রিমিয়ার লিগে সাকিব-নাহিদ পেলেন দল
· ফিজিওথেরাপিস্ট : এনামুল হক
· ফিটনেস ট্রেইনার : আসলাম খান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন