০৬:৪৬ পি.এম
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে লজিস্টিক খরচ কমানো এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত খালাস নিশ্চিত করার জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি একাধিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আজ জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সীমিত নাব্যতার কারণে অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার মতো আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের মাধ্যমে ফিডার জাহাজে বাংলাদেশে আনতে হয়। এই কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগে।
আরও পড়ুন: জনগণ বিএনপির রাজনীতির সঠিকতা প্রমাণ করেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
তিনি জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত রয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক নৌ-চ্যানেল, যার নাব্যতা মূলধনী ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বজায় রাখা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং গড়ে প্রায় ৩ হাজার টিইইউ (টুয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিটস) ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারে। তবে এটি জোয়ার-নির্ভর বন্দর হওয়ায় জাহাজের আগমন ও প্রস্থান জোয়ারের উপর নির্ভরশীল।
তিনি আরো জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকা, ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল (ডাইরেক্ট শিপিং) চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী প্রকাশ করেন, কনটেইনার খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রমের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে এবং বাকি ২০ শতাংশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: শিবচরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২ হাজার তালের বীজ বপন
তিনি আরো উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বে টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। এই দুটি বন্দর চালুর মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে, ফলে জাহাজের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর জমে থাকা ১০ হাজারের বেশি টিইইউ অবমুক্ত না হওয়া কনটেইনার সরকার কাস্টমসের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করার এবং প্রতিটি আমদানিকৃত কনটেইনার বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি/অফডক) দিয়ে সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যাতে বন্দরের জট কমে।
এছাড়া তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ বন্দরে ভিড়ানোর পূর্বেই আমদানি পণ্যের কাস্টমস ছাড়পত্র (প্রি-অ্যারাইভাল কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স) সম্পন্ন করার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান।
আরও পড়ুন: মঠবাড়িয়ায় ফের দুর্ঘটনা, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নাধীন এসব উদ্যোগ বন্দরের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং কম সময় ও কম ব্যয়ে পণ্য খালাস নিশ্চিত করবে।’
তিনি জানান, বর্তমানে সমুদ্রবন্দরগুলোর সীমিত গভীরতার কারণে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে প্রায় ১৬ মিটার গভীর নৌ-চ্যানেল এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনালসহ এ বন্দরের নির্মাণ কাজ চলছে।
তিনি জানান, ২০২৯ সালে বন্দরটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। চালু হলে এটি প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার জাহাজ বা প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজের ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
মন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও পোর্ট ক্লাংয়ের মতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এতে পরিবহন সময় এবং লজিস্টিক ব্যয় উভয়ই হ্রাস পাবে।
তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দ্রুত, দক্ষ ও কম ব্যয়ে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত হলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন