ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লজিস্টিক ব্যয় কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের: নৌমন্ত্রী


লজিস্টিক ব্যয় কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের: নৌমন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে লজিস্টিক খরচ কমানো এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত খালাস নিশ্চিত করার জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি একাধিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সীমিত নাব্যতার কারণে অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার মতো আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের মাধ্যমে ফিডার জাহাজে বাংলাদেশে আনতে হয়। এই কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগে।

আরও পড়ুন: জনগণ বিএনপির রাজনীতির সঠিকতা প্রমাণ করেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তিনি জানান, বর্তমানে কর্ণফুলী চ্যানেলের গভীরতা ৮ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত রয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক নৌ-চ্যানেল, যার নাব্যতা মূলধনী ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বজায় রাখা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ১০ মিটার ড্রাফটের এবং গড়ে প্রায় ৩ হাজার টিইইউ (টুয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিটস) ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ ভিড়তে পারে। তবে এটি জোয়ার-নির্ভর বন্দর হওয়ায় জাহাজের আগমন ও প্রস্থান জোয়ারের উপর নির্ভরশীল।

তিনি আরো জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে ইউরোপ, আমেরিকা, ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল (ডাইরেক্ট শিপিং) চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী প্রকাশ করেন, কনটেইনার খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রমের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে এবং বাকি ২০ শতাংশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: শিবচরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২ হাজার তালের বীজ বপন

তিনি আরো উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

শেখ রবিউল আলম জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বে টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। এই দুটি বন্দর চালুর মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে, ফলে জাহাজের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর জমে থাকা ১০ হাজারের বেশি টিইইউ অবমুক্ত না হওয়া কনটেইনার সরকার কাস্টমসের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করার এবং প্রতিটি আমদানিকৃত কনটেইনার বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি/অফডক) দিয়ে সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যাতে বন্দরের জট কমে।

এছাড়া তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ বন্দরে ভিড়ানোর পূর্বেই আমদানি পণ্যের কাস্টমস ছাড়পত্র (প্রি-অ্যারাইভাল কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স) সম্পন্ন করার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান।

আরও পড়ুন: মঠবাড়িয়ায় ফের দুর্ঘটনা, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নাধীন এসব উদ্যোগ বন্দরের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং কম সময় ও কম ব্যয়ে পণ্য খালাস নিশ্চিত করবে।’

তিনি জানান, বর্তমানে সমুদ্রবন্দরগুলোর সীমিত গভীরতার কারণে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে প্রায় ১৬ মিটার গভীর নৌ-চ্যানেল এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনালসহ এ বন্দরের নির্মাণ কাজ চলছে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালে বন্দরটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। চালু হলে এটি প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার জাহাজ বা প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজের ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে কলম্বো, সিঙ্গাপুর ও পোর্ট ক্লাংয়ের মতো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের উপর বাংলাদেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এতে পরিবহন সময় এবং লজিস্টিক ব্যয় উভয়ই হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দ্রুত, দক্ষ ও কম ব্যয়ে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত হলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় মারামারি

ভারতের বিহারে একটি বিয়েবাড়িতে খাসির মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস পরিবেশন করায় একটি ঘটনাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কনেপক্ষের এই আয়োজনে বরপক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে চড়াও হওয়ার ফলে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে আনুমানিক ৩টার দিকে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তির শুরু ঘটে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য খাবার পরিবশনের সময়।

বরপক্ষের একটি দলের দাবি, বিয়ের মেন্যুতে খাসির মাংস রাখার কথা থাকলেও তাদের প্লেটে মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়েছে। বরপক্ষের কিছু সদস্য প্রথমে কনেপক্ষের সাথে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে। কিছু মুহূর্তের মধ্যেই এই মৌখিক বিতর্কটি হাতাহাতিতে এবং পরে একটি বড় ধরনের সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কনেপক্ষের কিছু সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে বরপক্ষের অতিথিদের ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে দেখা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কিছু মানুষ লাঠি দিয়ে একে অপরকে আঘাত করছেন, এমনকি কাউকে কাউকে খোলা তলোয়ার উঁচিয়েও তাণ্ডব চালাতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারামারিতে গুরুতর জখম হওয়া ১২ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার পেছনে অন্য কোনো কারণ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

 

ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিরতির সময় অনেক তারকা ফুটবলারকে দেখা যায়, যারা মুখে পানি নিয়ে কুলি করেন এবং তা পরে ফেলে দেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপেরসহ প্রায় সবাইকে কোনো না কোনো সময় এমনটি করতে দেখা গেছে।

অনেকের বিশ্বাস, এটা হয়তো শুধুমাত্র একটি অভ্যাস। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আছে বৈজ্ঞানিক কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুটবলারদের এই অভ্যাসের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।

প্রথমত, ঘন লালা দূর করতে কুলি। ম্যাচের সময় টানা দৌড়ঝাঁপ ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে ‘এমইউসি৫বি’ নামে এক ধরনের মিউকাস বা শ্লেষ্মার পরিমাণ বেড়ে যায়।

এতে মুখের লালা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ও আঠালো হয়ে যায়। এই কারণে ফুটবলাররা মুখে পানি নিয়ে কুলি করে তা পরে ফেলে দেন, কারণ গিলে ফেলতে অস্বস্থি লাগে।

দ্বিতীয়ত, মুখের শুষ্কতা কমাতে। খেলার সময় দীর্ঘ সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।

এতে করে মুখ শুকিয়ে যায় এবং ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। কুলি করার মাধ্যমে মুখ আর্দ্র হয়ে ওঠে এবং অস্বস্তিও কমে যায়।

তৃতীয়ত, ‘কার্ব রিনসিং’ কৌশল। সবসময় মুখে থাকা তরল সাধারণ পানি নয়, বরং অনেক সময় ফুটবলারেরা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে কুলি করেন। একে বলা হয় ‘কার্ব রিনসিং’।

গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত তরল মুখের ভেতরের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এটি মস্তিষ্ককে নির্দেশ দেয় শরীরকে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য।

ফলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে সহায়তা করে।

অবশ্য, কেন পানীয়টি গিলে ফেলছেন না ফুটবলাররা? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ম্যাচ চলাকালে অতিরিক্ত স্পোর্টস ড্রিংক বা পানি পান করার ফলে অনেক সময় পেট ভারী লাগার, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এতে খেলায় প্রভাব পড়তে পারে, তাই অনেক ফুটবলার পানীয়টি গিলে না ফেলে কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে কুলি করে বাইরে ফেলে দেন।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, এই কার্ব রিনসিং পদ্ধতি খেলোয়াড়দের দৌড়ানোর সক্ষমতা, মনোযোগ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি অথবা বিশেষ স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দেওয়া কোনো অদ্ভুত অভ্যাস নয়, বরং এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত একটি কার্যকর কৌশল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে উদ্যোগ সরকারের: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াতে উদ্যোগ সরকারের: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা ও জীবনবিমুখ সংস্কৃতির বিস্তার রোধে সরকার সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৯ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।

আজ জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে যে অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা ও সংগ্রামবিমুখ সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছে, তা বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়। তিনি বলেন, একটি দেশে যখন জাতীয় পুঁজির বিকাশ ঘটে না এবং লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শিল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও আইনব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, ‘লুটপাটের অর্থ দিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা যায়। এভাবে শিল্প, সংস্কৃতি, আইনব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসস্তূপের ওপর এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সেসব পরিবর্তনের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করছি।'

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ যৌথভাবে কাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি জানান, যেসব উপজেলায় এখনো শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম নেই, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা চালু করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ভবনে কক্ষ নিয়ে সাময়িকভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থান নির্ধারণ করা গেলে চলতি বছরেই নতুন উপজেলাগুলোতে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশেও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার নেতৃত্বে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিতভাবে কাজ চলছে এবং এ প্রচেষ্টায় সফল হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদের দাফন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদের দাফন সম্পন্ন

কাতারের সাবেক আমির এবং আধুনিক কাতারের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সে যিনি মারা গেছেন, তাকে রোববার (১২ জুলাই) দোহায় দাফন করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে শেখ হামাদের মৃত্যুর খবরটি ঘোষণা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় রাজধানীর ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর তার জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার নামাজের সময় উপস্থিত জনগণ, যারা কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ছিলেন, শেখ হামাদের মরদেহের দিকে ফিরে দোয়া করেন। পরে, তার ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মরদেহটি মসজিদ থেকে বের করে আনেন। এর পর শিক্ষা হামাদের দোহার উত্তরে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি বলেন, দাফনের অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই অনাড়ম্বর। তিনি উল্লেখ করে বলেন, শেখ হামাদকে একটি সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সরলতা ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখেছে। এটি ফাদার আমিরের জীবনযাপনের প্রতীক। তিনি কখনোই আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতেন না; বরং জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদ কাতার শাসন করেছেন। তার শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এর প্রধান কারণ ছিল দেশটির বিশাল গ্যাসসম্পদের উন্নয়ন এবং ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। ২০০৬ সাল নাগাদ এই ছোট দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিণত হয়।

বর্তমানে কাতারের রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতসহ বেশ কয়েকটি বিরোধে দেশটি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। ২০২২ সালে কাতার ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত দর্শকরা শেখ হামাদকে বিরল সম্মান জানান।

গুরুত্বপূর্ণ মহামারির সময়েই ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা নিউজ চ্যানেল চালু হয়। পরে কয়েক বছরের মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।

আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের মহাপরিচালক শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, শেখ হামাদই ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের মূল ধারণার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এর ভিত্তি স্থাপনকারী।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, শেখ হামাদ এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রথম বীজ রোপণ করেছিলেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সত্যের আলোকবর্তিকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তার দৃঢ় সংকল্পেই এই প্রতিষ্ঠানটি অনন্য উচ্চতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%