০৬:৫১ পি.এম
কাতারের সাবেক আমির এবং আধুনিক কাতারের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সে যিনি মারা গেছেন, তাকে রোববার (১২ জুলাই) দোহায় দাফন করা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে শেখ হামাদের মৃত্যুর খবরটি ঘোষণা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় রাজধানীর ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবদ আল-ওয়াহহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর তার জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার নামাজের সময় উপস্থিত জনগণ, যারা কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ছিলেন, শেখ হামাদের মরদেহের দিকে ফিরে দোয়া করেন। পরে, তার ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মরদেহটি মসজিদ থেকে বের করে আনেন। এর পর শিক্ষা হামাদের দোহার উত্তরে লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
আল জাজিরার সাংবাদিক জেইন বাসরাভি বলেন, দাফনের অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই অনাড়ম্বর। তিনি উল্লেখ করে বলেন, শেখ হামাদকে একটি সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সরলতা ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখেছে। এটি ফাদার আমিরের জীবনযাপনের প্রতীক। তিনি কখনোই আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতেন না; বরং জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হামাদ কাতার শাসন করেছেন। তার শাসনামলে কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। এর প্রধান কারণ ছিল দেশটির বিশাল গ্যাসসম্পদের উন্নয়ন এবং ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। ২০০৬ সাল নাগাদ এই ছোট দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিণত হয়।
বর্তমানে কাতারের রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতসহ বেশ কয়েকটি বিরোধে দেশটি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। ২০২২ সালে কাতার ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত দর্শকরা শেখ হামাদকে বিরল সম্মান জানান।
গুরুত্বপূর্ণ মহামারির সময়েই ১৯৯৬ সালে আল জাজিরা নিউজ চ্যানেল চালু হয়। পরে কয়েক বছরের মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গণমাধ্যম নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের মহাপরিচালক শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল থানি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, শেখ হামাদই ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের মূল ধারণার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং এর ভিত্তি স্থাপনকারী।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, শেখ হামাদ এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রথম বীজ রোপণ করেছিলেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সত্যের আলোকবর্তিকা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। তার দৃঢ় সংকল্পেই এই প্রতিষ্ঠানটি অনন্য উচ্চতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন