০৫:৫২ পি.এম
একাধিক ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও হিন্দুত্ববাদী নেতা গৌরব সিং রাজপুতকে একটি জনসভায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি দিতে এবং তাঁদের জনসংখ্যাগতভাবে নির্মূল করার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে। এই ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ফোরাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার হস্তিনাপুরে সংঘটিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজপুত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় ভারত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার এবং সব উপায়ে ‘মুল্লা-মুক্ত’ ভারত গড়ার উসকানিমূলক বার্তা দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ভারতে ‘মুল্লা’ শব্দটি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত কুরুচিকর ও বর্ণবিদ্বেষমূলক গালি, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজপুতের এই ভাষণ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৯৬, ১৯৭, ২৯৯ এবং ৩৫৩ ধারার অধীনে স্পষ্ট অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারাগুলি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি, সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরও পড়ুন: ভারতের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ২২২৭ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন
ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ঘৃণাভাষণ সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুসরণ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলি ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তারা অবিলম্বে একটি প্রথমিক তথ্য রিপোর্ট (এফআইআর) দায়ের এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
গৌরব সিং রাজপুত অনলাইন জগতে ‘গৌরব রাজপুত চম্বল’ নামে পরিচিত। তিনি নিজেকে “সনাতন জাতীয়তাবাদী” বলে দাবি করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ডানপন্থী রাজনৈতিক মন্তব্য ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করেন।
এটি তাঁর প্রথম বিতর্কিত ঘটনা নয়। তাঁর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অতীতে বিভেদমূলক ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শেয়ার করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে পবিত্র কুরআন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করার কারণে তিনি বিভিন্ন মিডিয়া ওয়াচডগ এবং ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
অধিকার কর্মীদের মতে, বারবার লিখিত অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যার ফলে এই ধরনের উসকানিমূলক ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটার সুযোগ পাচ্ছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলি জানিয়েছে, হস্তিনাপুরের এই ঘটনাটি দেশে ক্রমবর্ধমান ঘৃণাভাষণের ধারাবাহিকতারই অংশ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন জনসভায় মুসলিমবিরোধী বয়কট এবং অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ
রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মিরাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি এবং গৌরব সিং রাজপুতের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো স্পষ্ট তথ্য জানায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন