০৩:২১ পি.এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর দেশটির সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে তিন দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে এবং এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে।
অন্যথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছে কমিটি। বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি হামলায় শিশুসহ ১২ নিহত, নিষিদ্ধ বোমার অভিযোগ
কমিটির ভাষ্য মতে, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও সরিয়ে নেওয়া কোনো প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং এটি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।
গত ২৩ জুলাই মোদি ইনস্টাগ্রামে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে সেটি ফেসবুকেও শেয়ার করা হয়। ভিডিওটিতে মোদি বিশেষভাবে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দেন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তবে ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড হওয়ার পর অল্প সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ বা সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মেটা দ্রুত ভিডিওটি পুনরায় চালু করে।
এ ঘটনার পর চলতি সপ্তাহে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটার কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি ভিডিও সরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং দুঃখ প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক
তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটার এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, যদি এটি সত্যিই প্রযুক্তিগত ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেটার উচিত দ্রুত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। এর ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক।
কমিটি জানিয়েছে, তিন দিনের মধ্যে যদি মার্ক জাকারবার্গ ক্ষমা না চান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হবে। এরপর কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর দায়েরের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
কমিটির মতে, সেফ হারবার সুরক্ষা উঠে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিতে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, মেটা দীর্ঘদিন ধরে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষার সুযোগের অপব্যবহার করছে।
আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে লিখেছি যে, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনো মধ্যস্থতাকারীর (ইন্টারমিডিয়ারি) কাজ নয়, এটি প্রকাশকের (পাবলিশার) ভূমিকার মধ্যে পড়ে। তাই মার্ক জাকারবার্গকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতেই হবে। তা না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য দেওয়া সেফ হারবার সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করব।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘যদি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা মেটা প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের শুরু করেন, তাহলে দেশজুড়ে অসংখ্য মামলা হতে পারে এবং দায়ীদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন