১২:১১ পি.এম
রাজধানীতে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে, যখন চাঁদা দাবির পর ভাঙচুরের ঘটনার প্রভাব এখনও কাটেনি। আগুনে গাড়ির অধিকাংশ মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে দাবি করেছে যে, এ ঘটনায় এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর রায়েরবাজার আড়তের সামনে ঘটে। মোহাম্মদপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলতাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘কারা আগুন দিয়েছে, তা জানা যায়নি, চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।’
এজেআর গ্রুপের এজিএম জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও যানবাহনে হামলা এবং অগ্নিসংযোগ করে আসছে।’
আরও পড়ুন: ইউপি নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের আহ্বান জানালেন এমপি হাফিজ ইব্রাহিম
তিনি আরও জানান, ‘নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আগুন দেয়ার পর শাহবাগ ও রায়েরবাজারে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মিরপুরে পেট্রলবোমা ছুড়ে এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করা হয়। সবশেষ রায়েরবাজারে প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও নথিপত্র পুড়ে গেছে।’
জয়ন্ত চৌধুরী প্রাথমিকভাবে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, ব্যাংক ও বিমাসংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মূল্যায়ন শেষে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কর্মী নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ঘটনার কারণে তাদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সঙ্গে হামলা ও নাশকতায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের একটি ওয়্যারহাউসে হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় ৩১ লাখ টাকা মূল্যের সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ওঠে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দলের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি ডাকাতির অভিযোগে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ জানিয়েছিল, ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজি। এ কারণে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা নেয়ার কথা জানায় পুলিশ।
আরও পড়ুন: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ: তারেক রহমান
পরদিন ২১ অক্টোবর সকালে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন হাজারীবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে মামলা করায় মোবাইলফোনে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ব্যক্তিরা ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে করে ওয়্যারহাউসের পশ্চিম গেটে আসেন। তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। বাকিরা বাইরে অবস্থান নেন। হামলাকারীদের আট থেকে ৯ জনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং দু-তিনজনের হাতে শর্টগানসদৃশ অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই সময় হামলাকারীরা একটি সিসকো কোর ডিভাইস, একটি রাউটার, বিভিন্ন সক্ষমতার নয়টি ডাহুয়া এনভিআর, ১০ টেরাবাইটের ৩৮টি হার্ডডিস্ক, একটি সার্ভার র্যাক, ৪০টি ক্যামেরা, আটটি সিপিইউ, আটটি মনিটর ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে যান। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ টাকা।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ওয়্যারহাউসে এসে অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন। তাকে না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান তারা। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। পরে জুয়েল নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের আরেকটি কার্যালয়ে হামলা, ডাকাতি ও দখলের পরিকল্পনার কথা জানান। ঘটনার পর সাইফুল নামের এক ব্যক্তি ফোন করে ডাকাতির ঘটনা ধামাচাপা দিতে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন আফসার উদ্দিন। এর আগেও ক্যাপ্টেন ইমনের নামে প্রতিষ্ঠানটির কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়কে কোটি টাকার নকল চকলেট, ৩ লাখ টাকা জরিমানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন