আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০২:১৭ পি.এম
শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে মধুপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
পরে উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাই শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জন্য একটি সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবেন। শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মধুপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ।
এ সময় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরের ফুটপাতগুলো, যা দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে ছিল, অবশেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) দ্বারা দখলমুক্ত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের ফলস্বরূপ, মিরপুরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলোতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে এসেছে, যা সাধারণ পথচারীদের জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর স্বস্তির অনুভূতি নিয়ে হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, হোপ মার্কেট এলাকা, মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, ১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, বিআরটিএর সামনের সড়ক এবং মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স এলাকা সড়কের ফুটপাতগুলো দীর্ঘদিন ধরে হকারদের অবৈধ পসরা এবং স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানে দখল হয়ে ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হতো, যা মারাত্মক যানজট এবং পথচারীদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে, সিটি করপোরেশন বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিরপুর ও সংলগ্ন এলাকার ফুটপাতগুলো সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করেছে। অভিযানের পর ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ফুটপাত মুক্ত হওয়ায় উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক পথচারী জানান, "আগে হেঁটে যাওয়া অসম্ভব হলেও এখন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে চলাচল করা যাচ্ছে।" বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে গেছে।
তবে, ফুটপাত উচ্ছেদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অতীতে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর পুনরায় ফুটপাত দখলের ঘটনা ঘটেছে। তাই নগরবাসী নিয়মিত তদারকি ও পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্ধারিত সময় সূচির আওতায় এনে স্থায়ী বা বিকল্প পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন হকার প্রতিনিধিরা।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় হকাররা সিটি করপোরেশনের লোকজন ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা সিটি করপোরেশনের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর করে আগুন দেয় এবং সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) শেখ নূর ইসলামের বিরুদ্ধে কানাডায় বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য পেয়েছে। তদন্তের সময় তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের অন্তত ১৪ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৫৫ লাখ কানাডিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই শেখ নূর ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ থেকে কানাডায় গমন করেন। কানাডার বিমানবন্দরে শিলা ইসলাম ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার এবং দিশা ইসলাম ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার থাকার ঘোষণা দেন। তবে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অর্থ বাংলাদেশ থেকে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মানি লন্ডারিং আইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
তদন্তের সময় কানাডায় শেখ নূর ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন নামে একটি কোম্পানির অস্তিত্বও পাওয়া যায়। ২০১৮ থেকে পরবর্তী চার বছরে সিঙ্গাপুরের নাই এনগোয়ান রেমিট্যান্স সার্ভিসের মাধ্যমে ওই কোম্পানির হিসাবে প্রায় ২২ লাখ কানাডিয়ান ডলার পাঠানো হয়েছে পণ্য আমদানির বিল হিসেবে। বাংলাদেশের রংকন হোম সলিউশনস লিমিটেড এসব অর্থ পাঠিয়েছে।
তবে বিএফআইইউর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই অর্থের বিপরীতে কানাডা থেকে বাংলাদেশে কোনো পণ্য আসেনি। ফলে লেনদেনগুলোকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। এছাড়া, নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডায় একাধিক কোম্পানির তথ্যও পাওয়া গেছে। তদন্তে পাওয়া এসব তথ্য ও প্রমাণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে বর্তমান কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
অর্থনীতিবিদ শাহ মো. আহসান হাবিব মন্তব্য করেন, "কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বা ঘোষণা ছাড়া বিদেশে অর্থ নিয়ে গেলে এবং তার পক্ষে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক সরকারের সময়ে কোনো তদন্ত বা মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকলে পরবর্তী সরকারও তা চালিয়ে যেতে পারে। মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।"
অন্যদিকে, অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ নূর ইসলাম এক প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেছেন যে, সালমান মুক্তাদিরকে বিয়ে করার কারণে তার মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে পাওয়া সম্পদের বাইরেও কানাডায় নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা করেছেন। ২০২৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তা এক বছর আগে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৯ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মাদ্রিদের মনক্লোয়া প্রাসাদে এক বিবৃতিতে সানচেজ এই ঘোষণা দেন।
সানচেজ উল্লেখ করেন, স্পেনের জনগণের জন্য এখন তাদের দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। শুক্রবার সংসদে সানচেজের সংখ্যালঘু সরকার একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে, যার পরেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসে। ওইদিন আবাসন সংকট মোকাবেলায় সরকারের কিছু পদক্ষেপ সংসদ সদস্যদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়।
নির্বাচনকে স্পেনের ভবিষ্যৎ পথ বেছে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন সানচেজ। তিনি বলেন, ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দেশটি ‘চরম ডানপন্থার ঢেউয়ের’ দিকে যাবে, নাকি ‘উন্মুক্ততা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার’ পথে থাকবে।
সানচেজ আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি স্পেনের জনগণের ওপর আস্থা রাখেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সানচেজ বারবার বলেছেন, তার সরকার পুরো চার বছরের মেয়াদ শেষ করবে। শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তিনি।
এদিকে, স্পেনে বাড়ির দাম ও ভাড়া নিয়ে মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আবাসন সংকটের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে সানচেজের সরকার নতুন করে জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ