ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেড় যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি আমতলী শহর রক্ষা বাঁধ, ঝুঁকিতে পৌরবাসী


প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেড় যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি আমতলী শহর রক্ষা বাঁধ, ঝুঁকিতে পৌরবাসী
 
আমতলী পৌর শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ। দীর্ঘদিনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধটির বিভিন্ন অংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সামান্য জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলেই পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। এতে বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো প্রয়োজনীয়ভাবে সংস্কার করা হয়নি। এরপর একের পর এক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানলেও বাঁধটির স্থায়ী সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
 
বিশেষ করে আমতলী ফেরিঘাট থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাশ্মশান ঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর জোয়ার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ এলাকার বাঁধ ও ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাঁধের ঢাল থেকে ব্লক সরে গিয়ে নদীর দিকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধসংলগ্ন বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে রেশমি, আইলা, মহাসেন, কোমেন, রোয়ানু, মোরা, ফণী, বুলবুল, আম্পান, ইয়াস, জাওয়াদ, সিত্রাং, মোখা, হামুন, রেমালসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব দুর্যোগের সময় আমতলী শহর রক্ষা বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বাঁধের বিভিন্ন অংশের অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে।
 
আমতলী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র দে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করছি। বাঁধের ব্লকগুলো একটু সংস্কার করে দেওয়া হলে আমরা অনেকটা নিরাপদে বসবাস করতে পারব। তা না হলে সামান্য জলোচ্ছ্বাস হলেই ঘরের আঙিনায় পানি ঢুকে পড়ে।”
 
স্থানীয় করাতকল ব্যবসায়ী আমির হোসেন তালুকদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের করাতকলটি বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আগে করাতকলের সামনে আরও ১০-১৫ ফুট জায়গা ছিল, এরপর ছিল ব্লকের ঢাল। কিন্তু বন্যা ও জোয়ারের পানিতে বারবার ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন সেই জায়গাটুকুও নেই। প্রতিনিয়ত আশঙ্কায় থাকি—কখন না ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।”
 
স্থানীয়দের দাবি, আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাঁধটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
 
এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, “বিষয়টি আমি অধস্তন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তাঁরা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদারকি করবেন। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রমাণিত হলে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
 
দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা ও একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমতলী শহর রক্ষা বাঁধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় পৌর শহরের জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদে পরমাণু চুল্লি বানানোর প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


চাঁদে পরমাণু চুল্লি বানানোর প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া

ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চাঁদে পরমাণু চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর) তৈরি করার প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়া অংশগ্রহণ করছে। এই দেশগুলোর মতে, চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা, খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান এবং মহাকাশের গভীরে অভিযান চালানোর জন্য পারমাণবিক শক্তি সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ব্যবহারের উপযোগী একটি পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই চুল্লিটি কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার সক্ষমতা রাখবে।

অন্যদিকে, রাশিয়া এবং চীন যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সেলিনা’ নামের একটি চন্দ্র চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যা চীনের নেতৃত্বাধীন চন্দ্র স্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী ঘাঁটি পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন। সৌর প্যানেল দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হলেও, চাঁদে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাত থাকে। ফলে শুধুমাত্র সৌরশক্তির উপর নির্ভর করা অসম্ভব। পারমাণবিক চুল্লি সূর্যালোক ছাড়াই অবিরত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। নাসার প্রস্তাবিত ‘লুনার রিঅ্যাক্টর’ অন্তত ২০ কিলোওয়াট এবং রাশিয়ার ‘সেলেনা’ ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। রকেট উৎক্ষেপণের ব্যর্থতার ফলে পৃথিবী বা মহাকাশে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া, পৃথিবীর মতো চাঁদে পারমাণবিক চুল্লিকে নিরাপত্তাবেষ্টনী দ্বারা ঢেকে রাখা কঠিন হবে। তবে ঝুঁকি কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া উভয়ই চুল্লিগুলোকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি অনুসারে, কোনো দেশ চাঁদকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করতে পারে না। তবে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পর নিরাপত্তার অজুহাতে যদি কোনো দেশ নির্দিষ্ট এলাকায় অন্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে তা কি আন্তর্জাতিক নীতির লঙ্ঘন হবে—এ বিষয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে এই তিন পরাশক্তি কত দ্রুত চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করতে পারবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নজর এখন মূলত এই বিষয়ের দিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য আল আমিন সরদারের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য আল আমিন সরদারের মৃত্যু

চট্টগ্রামের ইস্পাহানি এলাকায় ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের চেষ্টা করার সময় একটি বাসের ধাক্কায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কনস্টেবল আল আমিন সরদার নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

নিহত পুলিশ সদস্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পুলিশ লাইন্স এস এ এফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুরে এবং তিনি এক সন্তানের জনক। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘সিএমপি পুলিশ লাইনসের এসএএফ শাখায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার রবিবার (৪ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে ইস্পাহানি চেকপোস্টে কর্মরত ছিলেন। এ সময় একজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে একটি বাস এসে তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারেক রহমানের শিক্ষা রূপকল্প ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


তারেক রহমানের শিক্ষা রূপকল্প ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগের ঘোষণা

শিক্ষা একটি স্থির বা স্থবির প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি রূপান্তরকারী সামাজিক যাত্রা, যা ব্যক্তি, সমাজ এবং একটি দেশের সামগ্রিক সম্ভাবনাকে বিকশিত করে। শিক্ষকদের এই রূপান্তরের কেন্দ্রে অবস্থান রয়েছে। প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; বরং শিক্ষকদের অবদান, মর্যাদা, অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

১৯৬৬ সালে গৃহীত আইএলও-ইউনেসকোর ‘Recommendation concerning the Status of Teachers’ শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, নিয়োগ, পেশাগত প্রস্তুতি, কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। ১৯৯৭ সালে উচ্চশিক্ষার শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত পৃথক সুপারিশও গৃহীত হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

২০২৬ সাল বিশ্ব শিক্ষক দিবসের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছর ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক আইএলও-ইউনেসকো সুপারিশের ৬০তম বার্ষিকী। এবারের প্রতিপাদ্য—“Standing with teachers: 60 years of protecting the profession, advancing its status and shaping our futures”—অর্থাৎ শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, ছয় দশক ধরে পেশাটিকে সুরক্ষা দেওয়া, এর মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা শক্তিশালী করা।

ইউনেসকো বলছে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির মতো নতুন বাস্তবতা শিক্ষকতার পেশাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত স্বায়ত্তশাসন, সামাজিক স্বীকৃতি, বেতন, কর্মপরিবেশ ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও বিশ্ব শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। স্বাধীনতার পর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, নারী শিক্ষকের অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং বিভিন্ন স্তরে অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তবে একই সঙ্গে শিক্ষকসংকট, প্রশিক্ষণের মান ও ধারাবাহিকতা, কর্মপরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা, বেতন-ভাতা, গবেষণার সুযোগ এবং দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষক ধরে রাখার মতো বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

এই বাস্তবতার মধ্যে ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সরকারের শিক্ষা-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

৮ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতের ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানসম্মত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার কথা বলেন। জুলাই ২০২৬-এ তিনি আবারও জানান যে আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং শিক্ষক দক্ষতা উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।

শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে যুক্ত করার বিষয়টিও বর্তমান সরকারের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে। ৭ জুন ২০২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১২ হাজার কলেজ শিক্ষককে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি জাতীয় কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো নতুন দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষকদের পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন। জুন ২০২৬-এর এক বক্তব্যে তিনি চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রচলিত শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬-এর মূল বার্তারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার নতুন চাহিদা পূরণ করতে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের শিক্ষকসমাজের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেশাগত মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। জুলাই ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা ধীরে ধীরে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান এবং বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে ভালো বেতন ও প্রশিক্ষণের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আর্থিক সক্ষমতা, সময়সীমা এবং শিক্ষকসমাজের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব ভবিষ্যতের বাস্তবায়ন অগ্রগতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যাবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও কার্যকর, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা গেলে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বৈষম্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। চরাঞ্চল, হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য এলাকা এবং অন্যান্য দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা তুলনামূলকভাবে কঠিন। এসব অঞ্চলে শিক্ষকসংকট দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং বিশেষ প্রণোদনার বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও বাস্তুচ্যুতির প্রভাব মোকাবিলায় শিক্ষকদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষকের ভূমিকা শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান প্রদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তা, সৃজনশীলতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, নৈতিকতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা গড়ে তুলতেও শিক্ষককে ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের ফলে শিক্ষককে প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং প্রযুক্তিকে শিক্ষার কার্যকর সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম হতে হবে। এ জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন বা সিপিডি-এর সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতি বিশ্লেষণ ও জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, নগরায়ণ, ভূ-রাজনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো জটিল বিষয় মোকাবিলায় আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও গবেষকদের পর্যাপ্ত গবেষণা অর্থায়ন, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো এবং একাডেমিক স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ তাই বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে। প্রথমত, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত ও যুগোপযোগী ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা-নীতি প্রণয়নে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। চতুর্থত, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, নিরাপদ আবাসন ও যোগাযোগ সুবিধা বিবেচনা করা দরকার। পঞ্চমত, শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবনী কাজের জন্য প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

শিক্ষক সমাজ একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রশাসক, উদ্যোক্তা কিংবা শিল্পী—প্রত্যেক পেশাজীবীর জ্ঞান ও দক্ষতা গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো না কোনো শিক্ষক ভূমিকা রাখেন। তাই শিক্ষককে কেবল একটি পেশার সদস্য হিসেবে নয়, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬-এর ৬০তম বার্ষিকী আমাদের সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিক্ষকতার পেশার মর্যাদা, পেশাগত অধিকার, কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে শিক্ষা সংস্কারের কেন্দ্রে রাখা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের ঘোষিত শিক্ষা-সংক্রান্ত পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতার ওপর।

শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগ। বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬-এর মূল বার্তাও তাই—শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত করা এবং পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতের জন্য তাঁদের প্রস্তুত করা। শিক্ষকদের সমৃদ্ধি ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মানোন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে; আর মানসম্মত শিক্ষা একটি দক্ষ, মানবিক, উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হয়ে থাকবে।

লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর জিওইন্টেলিজেন্স পলিসি সাপোর্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমতলীতে এলপিজি গ্যাস সংকট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি সিলিন্ডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


আমতলীতে এলপিজি গ্যাস সংকট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি সিলিন্ডা
 
আমতলীতে  সংঙ্কট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলাররা এক হাজার ৮’শ টাকা দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। ওই গ্যাস সিলিন্ডার খুচরা বিক্রেতারা দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই’শ টাকায় বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোন তদরকি নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। দ্রুত ডিন্ডিকেটেকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
জানাগেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের  দাম নির্ধারণ করেছেন সরকার। খুচরা পর্যায় ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৫’শ ৯৮ টাকা বিক্রি। কিন্তু আমতলীতে একটি সিন্ডিকেট চক্র  সংঙ্কট দেখিয়ে ওই গ্যাস সিলিন্ডার দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই’শ টাকায় গ্যাস বিক্রি করছেন। এতে বেশ দুর্ভোগে পরছে ক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন গ্যাস ডিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা তাদের ইচ্ছে মাফিক অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী ক্রেতাদের।
ক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, গত তিন দিন আগে তালুকদার বাজার থেকে দুই হাজার এক’’শ টাকায় ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল ক্রয় করেছি। সরকারী নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বোতল প্রতি ৫’শ টাকা বেশী দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে।  
খুচরা বিক্রেতা আমান উল্লাহ বলেন, ডিলার ইব্রাহিম ও বাচ্চু ভ্যানগাড়ীতে করে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এক হাজার ৮’শ টাকা করে ওমেরা, আইগ্যাস,বিএম, সেনা ও পেট্টোম্যাক্স গ্যাসের ডিলিন্ডার ক্রয় করছি। ওই গ্যাস ৫০ টাকা বেশী দামে বিক্রি করছি। বেশী দামে কিনে বেশী দামে বিক্রি করছি।
পেট্টোমাক্স গ্যাস কোম্পানীর গ্যাস ডিলার ইব্রাহিম বলেন, এক হাজার ৮’শ টাকা করে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছি।
ওমেরা গ্যাস কোম্পানীর ডিলার মোঃ আতিকুর রহমান বাচ্চু বলেন, গ্যাসের তীব্র সংঙ্কট রয়েছে। মাত্র ছয়টি কোম্পানীর গ্যাসের সিলিন্ডার বাজারে সরবরাহ আছে। ওই কোম্পানীগুলো সিলিন্ডার প্রতি এক’শ ৩০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বসুন্ধরা গ্যাস কোম্পানীর ডিলার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, গত দুই মাস ধরে কোম্পানী গ্যাস সিলিন্ডার দিচ্ছে না। তাই বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
সেনা কোম্পানীর গ্যাস ডিলার মোঃ রেজাউল বলেন, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বেশ সংঙ্কট রয়েছে। ২০০ বোতল গ্যাস সিলিন্ডার মংলা থেকে আনতে ১৯ হাজার টাকায় ট্রাক ভাড়া করেছি। কোম্পানীর  মুল্য ও ভাড়া মিলিয়ে গ্যাস বিক্রি করতে হবে।   
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সরকার নির্ধারিত মুল্যেরে চেয়ে বেশী দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির সুযোগ নেই। বেশী দামে গ্যাস বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%