প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে (এমপিপি) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কমিয়ে ০.৫০ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। এ সংগঠন একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে ‘ডিমড জেনারেশন’-এর জন্য ক্ষতিপূরণ, এমপিপি বন্ধ করার আগে কমপক্ষে ২০ বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করা এবং গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের গাইডলাইন ও ট্যারিফ বিষয়ে গণ-শুনানিতে তারা এই দাবি জানায়।
এ সময় বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ছিলেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ কমিশনের সদস্যরা এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিরাও।
সংগঠনটির মতে, দেশে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের উন্নয়ন চারিপ্রান্তিই এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। তারা বলেছে, বেসরকারি বিনিয়োগের উত্সাহিত করতে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ ০.৫০ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা বাড়বে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারে গতিশীলতা আনবে।
গণ-শুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সৌরবিদ্যুৎ ভিত্তিক বেসরকারি মার্চেন্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির ট্যারিফ হিসেবে ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। কমিটি জানায়, সৌরভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যাবে।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৩২৬ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাথে নিয়ন্ত্রক কার্যকরী মূলধন বাবদ ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার টাকা যোগ করে মোট মূল্যভিত্তি ৩৭০ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত মুনাফার হার ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ নির্ধারণ করে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা হিসেবে ৩৩ কোটি ২২ লাখ টাকা পাওয়ার পর জনবল, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয়ের জন্য ১১ কোটি ২১ লাখ এবং অবচয়ের জন্য ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমনকি মোট রাজস্ব প্রয়োজন হিসেবে ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং অন্যান্য আয় হিসাবে ৯৮ লাখ টাকা বাদ দিয়ে নিট রাজস্ব প্রয়োজন হিসেবে ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ট্যারিফ হিসাব অনুযায়ী, কমিটির হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিট উৎপাদন হবে ৯ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট। এই উৎপাদন এবং নিট রাজস্ব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিদ্যুতের উৎপাদন ট্যারিফ ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা হিসাবে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
অধিকন্তু, সৌরবিদ্যুৎ গ্রাহকদের দিন এবং রাত হওয়া সাপেক্ষে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব করেছে। তারা মনে করছেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে সৌরবিদ্যুতের সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, বিএসআরইএ বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমপিপি থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করলেও, ডিআইএসকমের ত্রুটির কারণে গ্রিডে সরবরাহ সম্ভব না হলে ‘ডিমড জেনারেশন’-এর ক্ষতিপূরণের সুরক্ষা দিতেও ব্যবস্থা রাখতে হবে। তারা দাবি করেছে, এমপিপি বন্ধ করার আগে অবশ্যই কমপক্ষে ২০ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ নিশ্চিত করতে হবে এবং ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফের পোস্ট-পেমেন্ট ভিত্তিতে আদায়ের প্রস্তাবও এসেছে।
সংগঠনটি উৎপাদিত অব্যবহৃত বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ সরকারি খাতের ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের সুযোগ দিতে এবং এ বিদ্যুতের মূল্য বিইআরসি নির্ধারিত গড় হারে পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি করেছে।
এছাড়া স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিনিয়োগের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রকল্পের ডেভেলপার এবং বিনিয়োগকারীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সার্ভিস লিগ্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় যে ক্ষতি হয়, তা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও সরকারের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে সংগঠনের তরফ থেকে।
বিএসআরইএ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যও দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, অন্যান্য গৌণ উৎসের আগে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে ফিড করার সুযোগ দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ও শুল্ক সুবিধায় সমতা আনার করণীয়ও স্পষ্ট করেছে।
নিষ্কর্ষ ওই প্রস্তাবে এসআরও ১৮১-এর ভাষা সংশোধন করে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট, স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) এবং করপোরেট বা শিল্প খাতের সৌরবিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং গ্রিড-সংযুক্ত অবকাঠামো আমদানিতে অভিন্ন শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
সর্বশেষ, বিএসআরইএর মতে, নতুন ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ ব্যবস্থা বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, তবে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই বিনিয়োগবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির কাঠামো তৈরি করা গেলে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার পাশাপাশি ২০৩০ ও ২০৪১ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন