ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর; ছাত্রদল নেতাদের নামে মামলা


চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর; ছাত্রদল নেতাদের নামে মামলা
রাজশাহীতে জোর পূর্বক চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় মো. শাহীন আলী নামক এক কলেজ ছাত্রকে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শাহীন রাজশাহী কলেজের ছাত্র এবং রাজশাহী রুকইয়াহ অ্যান্ড হিজামা সেন্টারের পরিচালক। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় এজহার মতে, শুক্রবার (৩ জুলাই) জুম্মার নামাজের পূর্বে শাহ মাখদুম থানা মোড়ে একটি দোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা লেনদেন করতে যান শাহীন। সেখানে এক বৃদ্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মী কর্তৃক চাঁদাবাজি করতে খেয়াল করেন তিনি৷ পরে বৃদ্ধ কর্তৃক দোকানদারকে বিকাশে প্রেরিত ৩০ হাজার ওই ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দিতে বলেন। এ ঘটনায় শাহীন প্রতিবাদ ও ভিডিও করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আনুমানিক ৭ জন তাকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক পেটান এবং এতে তার ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার দামি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়।

এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, তাকে বেধড়ক পেটানোর ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ চরমভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তৎক্ষনাৎ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷

সুস্থ হয়ে গত মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) তিনি শাহ মাখদুম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করলেও পরে মামলা নিয়েছে বলে জানান শাহীন। তার দায়েরকৃত মামলা নাম্বার হলো–০৫।

মামলার এজাহারে, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মন্ডল (আহাদ),  যুবদল কর্মী মো. পলাশ, ছাত্রদল কর্মী মো. আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত নামা ৪-৫ নেতাকর্মী আসামী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শাহীন আলী বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। আমার চোখের সামনে এক বৃদ্ধের থেকে জোর করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের ছাত্র হিসেবে, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার চোখের সামনে ঘটা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমার কাছে নৈতিক দায়িত্ব মনে হয়েছে। এর জন্য আমাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হলো। আমি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের এবং বিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত ছাত্রনেতা শাকিল মন্ডল আহাদের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন চাঁদাবাজির শিকার হওয়া দুলাল মন্ডল। তিনি বলেন, আমাকে ফাঁদে ফেলে চরম মারধর করা হয়েছে। এরপর ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমার কাছে যা টাকা ছিল সাথে সাথে নিয়ে নিয়েছে। বাড়ি থেকে আমার মেয়ের মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে তাদেরকে দিয়ে আমি যলদি ওখান থেকে চলে আসি৷ ওরা আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি রেখে দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে শাহ মাখদুম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল আলীম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মারধর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে চাঁদাবাজির ঘটনা কেন হয়েছে, কি বিষয় আমরা এখনো জানতে পারেনি।
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।

সংবাদ সম্মেলনে, সচিব আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই কথা বলেন।

সচিব আরো বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তাঁর বিশ্বাস, একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালনা করা হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁদের মতামত প্রদান করেন।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর-এর অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এ কথা তিনি বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন।

মো. সেলিম রেজার প্রশ্নটি ছিল, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা? থাকলে সেটা কী এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে?

এমন প্রশ্নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মো. সেলিম রেজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ঐ সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রতিষ্ঠায় সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

তাদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই নীতির আলোকে আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল মঞ্চে শক্তিশালী কূটনৈতিক চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে।

সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে স্থাপন করার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের ও দাতা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএন এইচসিআর (UNHCR), ইউ এন ওমেন (UN Women) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম (WFP) এর প্রতিনিধিদল কcoxবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে সরকারি সফরে এসে কcoxবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো বিবেচনায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর ও টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিহিত। সেই জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে চলমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য পক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনা চলছে। মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি confidence building এর অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়ও বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বুনিয়াদ হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশ থেকে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি রাখা যায় অনেকাংশেই রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপর।

তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ গঠনের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

বর্তমান মন্ত্রীসভা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ বিষয় বজায় রাখার স্বার্থে এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় সুচিন্তিত ও বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাগতিক কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।

উল্লেখ্য, ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে।

বর্তমান সরকার বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে আলোচনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত জনগণকে সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে দুপুর ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রামগতিতে পুকুরে ডুবে দুই ভাই বোনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শোরাফ উদ্দিন রামগতি-কমলনগর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


রামগতিতে পুকুরে ডুবে দুই ভাই বোনের মৃত্যু

 

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নিজ বাড়ির পুকুরে ডুবতে যাওয়া ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ভাই-বোন দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের অদু মাঝির বাড়িতে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো চর রমিজ এলাকার প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে মাইশা আক্তার এবং রিয়াজ উদ্দিনের ভাই মজনুর তিন বছর বয়সী ছেলে মোজাহিদ।

রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বজনরা জানান, বুধবার দুপুরে দুই শিশু বাড়ির পুকুরঘাটে একসঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতে এক পর্যায়ে মোজাহিদ অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার বড় চাচাতো বোন মাইশাও পানিতে নেমে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পুকুর থেকে দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাদের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. কামনাশীষ মজুমদার বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে”।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুর নরম করে ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৪ পি.এম


সুর নরম করে ইতিবাচক বার্তায় ন্যাটো সম্মেলন শেষ করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ইরানের বিরুদ্ধে নিজ নিজ সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রতি আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এর ফলে, ইতিবাচক পরিবেশে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে, বিরূপ অবস্থান থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের দিকে ফিরে আসা ট্রাম্পের এই আচরণ তার বহুল আলোচিত অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক শৈলীর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আঙ্কারা থেকে এএফপি জানাচ্ছে, ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ছিল দারুণ একটি বৈঠক। কক্ষে অনেক আন্তরিকতা ছিল, ছিল ঐক্যের চেতনা।’ বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ট্রাম্প মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায়, যেখানে ন্যাটো নেতারা জোটের চুক্তির অনুচ্ছেদ-৫-এ বর্ণিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের প্রতি তাদের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন। ঘোষণায় বলা হয়, ‘এক সদস্যের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা।’ এই ভাষার মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে দিনের শুরুটা ছিল ভিন্ন এবং উত্তেজনাপূর্ণ। সম্মেলনের মূল অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ইরানবিরোধী অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার হুমকি দেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজের আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট... গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে তারা যা করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সহায়তা না করায়।’

তবে বৈঠকে সরাসরি অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর ট্রাম্পের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত ওই সূত্র। তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রকাশ্যে যা বলেন এবং বৈठকের ভেতরে যা বলেন—দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।’ ইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের ভাষাও তুলনামূলকভাবে সংযত ছিল। বৈঠকের আগে তিনি ইরানকে ‘আবর্জনা’ এবং ‘হিংস্র ও সহিংস মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করলেও, বৈঠকের ভেতরে তার বক্তব্য ছিল অনেক কম কঠোর। এছাড়া, বৈঠকের পর তিনি স্পেন বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গও আর তোলেননি। এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখালও বলেন, বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি গঠনমূলক। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তিনি মূলত এই বার্তাই দিয়েছেন যে ইউরোপকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিরক্ষায় বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং আলোচনাও ছিল গঠনমূলক।’

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ন্যাটো জোটের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি জানান, ‘আমি মনে করি না, এতে ন্যাটো দুর্বল হচ্ছে বা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা উচিত হবে না।’ ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হবে। তিনি জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেব। এটা দারুণ ব্যাপার, তাই না?’ রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী চাপে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান স্থিতিশীল করার মাধ্যমে ইউক্রেন পরিস্থিতি বদলে দিতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটি উত্তেজনা বাড়ালেও, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।’

একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়েই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান। সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর ‘৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার)’ সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আঙ্কারা ত্যাগের আগে ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকের কথাও রয়েছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজস্ব সামরিক ভূমিকা কমাতে চায় এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে অনড় থাকায়, ৭৭ বছর বয়সী ন্যাটো জোটের জন্য এই সম্মেলন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে মঙ্গলবার ন্যাটো সদস্যরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করে, যা প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তুরস্কের এ সম্মেলনের পর জোট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ‘আমি সব সময় মনে করি, যে পরিবারে কখনও খোলামেলা আলোচনা হয়, কখনও কিছুটা মতবিরোধও হয়—সেই পরিবারই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%