শোরাফ উদ্দিন রামগতি-কমলনগর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
১০:১১ পি.এম
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নিজ বাড়ির পুকুরে ডুবতে যাওয়া ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে ভাই-বোন দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের অদু মাঝির বাড়িতে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো চর রমিজ এলাকার প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে মাইশা আক্তার এবং রিয়াজ উদ্দিনের ভাই মজনুর তিন বছর বয়সী ছেলে মোজাহিদ।
রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনরা জানান, বুধবার দুপুরে দুই শিশু বাড়ির পুকুরঘাটে একসঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতে এক পর্যায়ে মোজাহিদ অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার বড় চাচাতো বোন মাইশাও পানিতে নেমে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পুকুর থেকে দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাদের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. কামনাশীষ মজুমদার বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে”।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ইরানের বিরুদ্ধে নিজ নিজ সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের প্রতি আন্তরিক সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এর ফলে, ইতিবাচক পরিবেশে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে, বিরূপ অবস্থান থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের দিকে ফিরে আসা ট্রাম্পের এই আচরণ তার বহুল আলোচিত অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক শৈলীর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঙ্কারা থেকে এএফপি জানাচ্ছে, ৩২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ছিল দারুণ একটি বৈঠক। কক্ষে অনেক আন্তরিকতা ছিল, ছিল ঐক্যের চেতনা।’ বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, রুদ্ধদ্বার আলোচনায় ট্রাম্প মিত্রদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গেই থাকতে চাই।’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায়, যেখানে ন্যাটো নেতারা জোটের চুক্তির অনুচ্ছেদ-৫-এ বর্ণিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের প্রতি তাদের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেন। ঘোষণায় বলা হয়, ‘এক সদস্যের ওপর হামলা মানেই সবার ওপর হামলা।’ এই ভাষার মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে দিনের শুরুটা ছিল ভিন্ন এবং উত্তেজনাপূর্ণ। সম্মেলনের মূল অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের ইরানবিরোধী অভিযানে সমর্থন না দেওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার হুমকি দেন এবং ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিজের আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর খুবই অসন্তুষ্ট... গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে তারা যা করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সহায়তা না করায়।’
তবে বৈঠকে সরাসরি অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পর ট্রাম্পের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় বলে জানান বৈঠকে উপস্থিত ওই সূত্র। তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রকাশ্যে যা বলেন এবং বৈठকের ভেতরে যা বলেন—দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।’ ইরান সম্পর্কে ট্রাম্পের ভাষাও তুলনামূলকভাবে সংযত ছিল। বৈঠকের আগে তিনি ইরানকে ‘আবর্জনা’ এবং ‘হিংস্র ও সহিংস মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করলেও, বৈঠকের ভেতরে তার বক্তব্য ছিল অনেক কম কঠোর। এছাড়া, বৈঠকের পর তিনি স্পেন বা গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গও আর তোলেননি। এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখালও বলেন, বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি গঠনমূলক। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তিনি মূলত এই বার্তাই দিয়েছেন যে ইউরোপকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে এবং প্রতিরক্ষায় বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং আলোচনাও ছিল গঠনমূলক।’
লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ন্যাটো জোটের দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি জানান, ‘আমি মনে করি না, এতে ন্যাটো দুর্বল হচ্ছে বা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা উচিত হবে না।’ ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়া হবে। তিনি জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেব। এটা দারুণ ব্যাপার, তাই না?’ রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী চাপে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান স্থিতিশীল করার মাধ্যমে ইউক্রেন পরিস্থিতি বদলে দিতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটি উত্তেজনা বাড়ালেও, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।’
একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়েই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান। সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় ইউরোপ ও কানাডা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি বছর ‘৭০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার)’ সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আঙ্কারা ত্যাগের আগে ট্রাম্পের সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকের কথাও রয়েছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজস্ব সামরিক ভূমিকা কমাতে চায় এবং সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবিতে অনড় থাকায়, ৭৭ বছর বয়সী ন্যাটো জোটের জন্য এই সম্মেলন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে মঙ্গলবার ন্যাটো সদস্যরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয়চুক্তি ঘোষণা করে, যা প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও তুরস্কের এ সম্মেলনের পর জোট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ‘আমি সব সময় মনে করি, যে পরিবারে কখনও খোলামেলা আলোচনা হয়, কখনও কিছুটা মতবিরোধও হয়—সেই পরিবারই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেবে।
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এই ঘোষণা দেন, যখন তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আঙ্কারা থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে বলেন, ‘আমরা যেসব বিষয়ে আলোচনা করব, তার একটি হলো আপনাদের প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়া। এটি দারুণ ব্যাপার, তাই না? এতে আপনারা আর বলতে পারবেন না যে আমরা যথেষ্ট প্যাট্রিয়ট দিচ্ছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানাইনি, তবে সেটি ঠিক হয়ে যাবে।’
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় ইউক্রেনকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কারণ রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালালেও, ইউক্রেন মনে করছে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে।
দেশটি সম্মুখসারি স্থিতিশীল রাখতে পারছে, অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর এলাকায় হামলাও চালাচ্ছে।
ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনের এসব হামলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই উত্তেজনা বৃদ্ধি, তবে এমন এক ধরনের উত্তেজনা যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সহায়ক হতে পারে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও তার বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন উভয়েই যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (জেলেনস্কি) এটি শেষ করতে চান এবং আমার বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট পুতিনও এটি শেষ করতে চান। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশের ফলস্বরূপ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় প্রস্তুতকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত বিদ্যমান। তদন্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে চলতি মাসে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে, এই তথ্য জানালেন প্রসিকিউশন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর, আমিনুল ইসলাম, এই তথ্যটি গণমাধ্যমকে জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলেছে। তদন্তের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীকে আসামি হিসাবে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে চলছে। অবকাশকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর এর প্রতিবেদন ২১ জুলাইয়ের পরে জমা দেওয়া হবে। এটির পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে তাদেরকে আসামি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে আসামিদের নাম প্রকাশ করা হবে।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ আগস্টের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই তারিখটি গত ৭ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত হয়।
বর্তমানে এই মামলায় ৯ জন গ্রেফতার রয়েছেন। এই ৯ জনের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু অন্তর্ভুক্ত আছেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার স্থানে ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের চিহ্নিত করে তদন্ত সংস্থা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রীকে শাসন করায় অফিস কক্ষে ঢুকে এক নারী প্রধান শিক্ষকের উপর মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত অভিভাবকের এই কর্মকাণ্ডের ফলে সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। লাঞ্ছনার শিকার ওই শিক্ষকের নাম কাবেরী করিম। তিনি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ওই একই দিন দুপরের দিকে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে, অফিসকক্ষে বসে থাকা প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে। পরে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষকেরা তাকে থামিয়ে বাইরে নিয়ে যান।
সামসউর রহমান শুভ বলেন, আমার মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে কিছুদিন থেকে অসুস্থ। বুধবার বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে এক সহপাঠীর সাথে কথা বলার কারণে তার গালে একটি চড় দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমি ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে কথাবার্তা বলার সময় তিনিও খারাপ আচরণ শুরু করেন। পরে আমি তাকে চড় দিলে তিনিও আমাকে মারধর করতে শুরু করেন।
লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আদর ও প্রয়োজনে শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আমি আলতো করে একটি চড় মেরেছিলাম। তবে এজন্য একজন অভিভাবক আমার অফিসে এসে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা আমার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ঘটনা সত্য হয়, তবে এটি সত্যিই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অফিসিয়ালি অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী অভিভাবকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ