১১:০৪ এম
মাইক নুন পেশায় একজন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ট্রাভেল ব্লগার। তাঁর বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বস্টনে।
তিনি ভারতে বেড়াতে এসেছেন। কিন্তু বেড়ানোর পঞ্চম দিনেই তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাকে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। তবে ভারতের কারো কোনো দায় নেই এতে।
ওড়িশার সেই মজার মজার স্থানীয় খাবার দেখে লোভ সামলাতে পারেননি মাইক। তিনি খেয়ে ফেলেছেন বেশি, আর সেটাই তার কাছে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু
টানা ১২ ঘণ্টা ধরে ১৫ মিনিট পরপর বমি করে মাইক কাহিল হয়ে পড়েন।
অবশেষে, তাকে ওড়িশার একটি স্থানীয় গ্রামীণ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে বমি কমানোর ঔষধ আর পানিশূন্যতা প্রতিরোধে স্যালাইন দেওয়া হয়। এই মার্কিন পর্যটকের হাসপাতালে কাটানো অভিজ্ঞতাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তিনি ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ওড়িশার মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে মুগ্ধ।
হাসপাতালের বিছানায়েই, মাইক নিজের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানান। স্যালাইন নিয়েছেন এবং বমি বমি ভাব কমানোর ঔষধ নিচ্ছেন, এ বিষয়ে তিনি সুঁই ফোটানো নিয়ে রসিকতা করেন। ‘আমেরিকান হসপিটালাইজড ইন ইন্ডিয়া’ শিরোনামে এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ‘ভারতে আজ আমার পঞ্চম দিন, আর এর মধ্যেই আমি হাসপাতালে। আমি গ্রামীণ একটি সরকারি হাসপাতালে আছি, শরীরজুড়ে সুঁই ফোটানো ছিল, এমনকি দেয়ালের ভাষাও আমি চিনতে পারছিলাম না।’
তবে ট্রলকারীরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভারতকে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে, এমন উদ্বেগ থেকে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, ‘থামুন, থামুন, থামুন। আমি বুঝতে পারছি আপনারা ওখান থেকে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছেন। এটি কোনো ফুড পয়জনিং ছিল না; এটি ছিল অতিরিক্ত খাওয়া। খাবার এতোটাই চমৎকার ছিল যে আমি বোকার মতো বেশি খেয়ে ফেলেছিলাম, আর তার মাশুল দিতে হয়েছে নিতম্বে একটি নয় বরং দুইটি ইনজেকশন নিয়ে।’
আরও পড়ুন: নাইরোবিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে সাতজন নিখোঁজ
হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার পর, তার মাথায় ছিল বিলের চিন্তা। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, বিলের কথা চিন্তা করে আমি সত্যিই শিউরে উঠেছিলাম। কারণ, আমার নিজের দেশে আমেরিকায় একটি স্যালাইনের ব্যাগ, বমি কমানোর ঔষধ এবং নিতম্বে দুটি ইনজেকশনের জন্য সহজেই কয়েক হাজার ডলার খরচ হয়ে যেত।’ তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে আরো যোগ করেন, ‘এর পরিবর্তে, এই সমাজতন্ত্রীরা আমার কাছ থেকে একটি পয়সাও নেয়নি। এটা দেখে তো আমি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সত্যি এটা সম্পূর্ণ ফ্রি।’
মাইকের ভিডিওটি ৪ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। শত শত মানুষ মন্তব্য করেছে। এসব মন্তব্যে ভারত এবং আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ভারতের মানুষের আন্তিরকতা ও আতিথেয়তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, 'বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, অসাধারণ একটি ধারণা।’ অন্য একজন যোগ করেছেন, ‘ওহ না! খুবই দুঃখিত মাইক! আশা করি আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন! ভালো লাগল যে অসুস্থ থাকার পরও আপনার রসবোধ অক্ষুণ্ণ রয়েছে।’ আরেকজন মাইককে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আপনি যে খাবারগুলো খাচ্ছেন সেগুলোর সাথে আপনার পেটকে মানিয়ে নিতে সবসময় স্থানীয় ফল ও দই দিয়ে শুরু করুন। খেয়াল রাখবেন যেন বেশি ঝাল না হয়ে যায়। হালকা খাবার দিয়ে শুরু করুন।’ আরেকজন বলেছেন, ‘ওড়িশায় আপনাকে স্বাগতম। ভাই, এটা সম্পূর্ণ ফ্রি। ওষুধের জন্য আপনার সামান্য কিছু খরচ হতে পারে, সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন ডলারের মতো।’
তবে এই মন্তব্যের জবাবে এক ভারতীয় চিকিৎসক মজা করে লিখেছেন, ঔষধের জন্য যে দুই-তিন ডলারের কথা বলা হচ্ছে, সেটা যদি আপনার কাছে না থাকত, তবে আমাদের ডাক্তার বা নার্সরা নিজেদের পকেট থেকে ওই টাকা দিয়ে দিত। এই নিয়মই ভারতের সরকারি হাসপাতালে।
ভিডিওতে মাইক ব্যঙ্গ করে ভারতীয় চিকিৎসকদের ‘সমাজতন্ত্রী’ বলে আখ্যা দেন, কারণ তারা কোনো টাকা নেননি। এই মন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী এবং ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে একটি সরাসরি কটাক্ষ হিসেবে গৃহীত হয়, যা আন্তর্জাতিক ভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেক আমেরিকান নাগরিক মাইকের সুরে মন্তব্য করেছেন। একজন লেখেছেন, ‘তুমি যদি এই চিকিৎসা আমেরিকায় করাতে, তবে সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের বিল দেখে তোমার আবার হার্ট অ্যাটাক হতো!’
আরও পড়ুন: বিয়ের ৩ সপ্তাহ না যেতেই জামালপুরে পালালেন নেতার বউ
অন্য এক বিদেশি পর্যটক তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আমি ভারতে একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ওখানকার চিকিৎসকেরা যেভাবে পরম যত্নে এবং নামমাত্র খরচে চিকিৎসা করেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ ওড়িশার এক বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের ওড়িশায় অতিথি ঈশ্বরের সমতুল্য। আপনি সুস্থ হয়েছেন এটাই আমাদের বড় পাওনা, এখানে এসে কখনো বিলের চিন্তা করবেন না।’
সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার পর মাইক নুন ‘ওড়িশার জয় হোক’ শিরোনামে আরেক পোস্টে ওড়িশার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধতার কথা বলেছেন এবং ওড়িশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন