১০:৩৮ এম
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক করার জন্য আলোচনা চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। এ অবস্থায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীন তাৎক্ষণিকভাবে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি ক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌচলাচল শুরু হলেই যুদ্ধকালীন সময়ে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা চীনগামী বিপুলসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ আবার গন্তব্যে ছুটে যাবে। সেসব জাহাজ চীনা বন্দরে এসে পৌঁছাতে শুরু করলে দেশটিতে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
এবং এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় চীন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে যখন বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে, তখন চীনের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় পূর্ণ রয়েছে। একই সঙ্গে বেইজিং তাদের বিশাল কৌশলগত মজুত থেকে তেল উত্তোলন করেনি। এদিকে, শোধনাগারগুলোর সংরক্ষণাগারও পেট্রল, ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যে প্রায় পূর্ণ হয়ে রয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে চীন তাদের দৈনিক তেল আমদানি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়ার সময়ে বৈশ্বিক বাজারে যে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছিল, আমদানি কমে যাওয়ায় তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধের আগে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল কিনে রাখার কারণে চীন এই পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছিল। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জাতীয় আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগের বছরগুলিতে দেশটি বিপুল পরিমাণে তেল মজুত করেছিল।
এ ছাড়া, বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর জন্যও অতিরিক্ত তেল আমদানি করা হয়েছিল বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সময় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বৈদেশিক সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, চীন বিদেশি ব্যাংক আমানত বা মার্কিন সরকারি ঋণপত্রে অর্থ রাখার পরিবর্তে তেলের মতো পণ্যভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো ইরান যুদ্ধে শুরুর আগে অবস্থানে ফিরে আসেনি, তবুও জ্বালানি বাজারের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চীন দ্রুত আগের আমদানি স্তরে ফিরে যাবে না।
অক্সফোর্ড জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের চীন বিষয়ক তেল বিশেষজ্ঞ ফিলিপ অ্যান্ড্রুজ-স্পিড বলেন, চীনের তেল কোম্পানিগুলো মূল্য নিয়ে খুব সংবেদনশীল থাকবে এবং ধীরে ধীরে বাজারে কেনাকাটা বাড়াবে।
যুদ্ধের সময়ে চীনা কোম্পানিগুলো নিজেদের করপোরেট মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে শোধনাগারগুলো সচল রাখে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানির ব্যবহারে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সতর্ক অবস্থানের কারণে পেট্রল, ডিজেল, বিমান জ্বালানি ও অন্যান্য পরিশোধিত পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে গত এপ্রিল ও মে মাসে জ্বালানিচালিত গাড়ির বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
একই সময়ে, অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে, চলতি বসন্তে চীন অধিকাংশ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের রপ্তানি বন্ধ রাখে। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে সীমিত শোধন সক্ষমতা সম্পন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনকারী দেশে চীন পরিণত হয় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য পরিশোধিত জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং রপ্তানি স্থগিত থাকার কারণে চীনের সংরক্ষণাগারগুলো পেট্রল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানিতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে অপরিশোধিত তেল কেনা কিংবা তা শোধনের প্রয়োজনীয়তা এখন তেল কোম্পানিগুলো অনুভব করছে না।
উল্লেখ্য, জ্বালানি নীতিতে বরাবরই সতর্ক অবস্থান ধরে রাখে বেইজিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কাছে তেল বিক্রি ইরান ও রাশিয়ার অর্থনীতিতে ৬ শতাংশ বা তারও বেশি অবদান রেখেছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন