১০:১০ এম
রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় একটি প্লেগবিরোধী গবেষণাগারের কর্মী প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নাকচ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই কর্মীর শরীরে তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি।
ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনার পর ইরকুতস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, গবেষণাগারের ৬০ জনের বেশি কর্মীকেও আলাদা রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোর জানিয়েছে, সোমবার ইরকুতস্কের প্লেগবিরোধী গবেষণাগারের ২৮ বছর বয়সী গবেষণাগার সহকারী দারিয়া শিপিলোভার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: এসআইআর বাতিলের দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশন অভিযান ঘিরে ফের উত্তপ্ত দিল্লি
সংস্থাটি আরও জানায়, গবেষণাগারে রোগ ছড়াতে পারে এমন জীবাণু নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিপিলোভা ২ অক্টোবর মারা যান।
এর আগে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকটি বেনামি সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, গবেষণাগারে একটি পরীক্ষার নল ভেঙে যাওয়ার পর শিপিলোভা ফুসফুসের প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
তবে রসপোট্রেবনাদজোর জানায়, শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের করোনা এবং দুজনের রাইনোভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। অন্য কোনো সংক্রামক জীবাণু পাওয়া যায়নি।
ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের একটি দল শিপিলোভার মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করেছে। তাদের মতে, তিনি ‘অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়ায়’ মারা গেছেন। ইউরোনিউজকে কোবজেভ বলেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে গুলিতে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত, প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রশংসা
প্লেগের খবর নাকচ হওয়ার পরও শুক্রবার থেকে প্লেগবিরোধী গবেষণাগারের ৬০ জনের বেশি কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলাদা রাখা হয়েছে। ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সরকারি হাসপাতাল, ইভানো-মাত্রেনিনস্কি শিশু হাসপাতাল ও নগর প্রসূতি হাসপাতাল রয়েছে। শিপিলোভা যে শহরে বাস করতেন, সেই শেলেখভের কেন্দ্রীয় জেলা হাসপাতালও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শেলেখভের ইরকুতস্ক অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের গুজব বা বিভিন্ন জল্পনার বদলে রসপোট্রেবনাদজোরের দেওয়া সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইরকুতস্ক অঞ্চলের এক গবেষণাগার কর্মী ২ অক্টোবর গুরুতর নিউমোনিয়ায় মারা যাওয়ার খবর তারা জানে। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ওই কর্মীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারও মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি।
ঘটনাটি গবেষণাগারে করা পরীক্ষা ও পরীক্ষার ফল যাচাই করতে রাশিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ডব্লিউএইচও। একই সঙ্গে রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা কী, তা জানার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: বাবার কবর জিয়ারতের সময় ধস, ভেতরে পড়ে ছেলের মৃত্যু
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। তাদের হাতে থাকা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এই মূল্যায়ন বদলাতে পারে।
প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এর কয়েকটি ধরন রয়েছে। ডব্লিউএইচওর মতে, ফুসফুসের প্লেগ সবচেয়ে বেশি সংক্রামক ধরন। এটি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়াতে পারে। দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা না করলে এ রোগে মৃত্যু হতে পারে।
২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে প্লেগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগই ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের কারণে হয়েছে। তবে রাশিয়া এসব সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন: মেগানের বাবার বিরুদ্ধে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন