ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুজরাটের সুরাটে প্রতিশোধের আগুনে পুড়ল ২৪ কোটি রুপির সম্পদ


গুজরাটের সুরাটে প্রতিশোধের আগুনে পুড়ল ২৪ কোটি রুপির সম্পদ

গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ভারতের গুজরাটের সুরাটের শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই আগুনের ফলে ১৪টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। এতে ২৪ কোটি রুপির কাপড় ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, পুলিশের তদন্তে একটি মারাত্মক প্রতিশোধের কাহিনী উন্মোচিত হয়েছে।

চাকরিচ্যুত এক হিসাবরক্ষক তার মালিকের প্রতি প্রতিশোধ নিতে পুরো মার্কেটটিকে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই হিসাবরক্ষকের দাবি, তার নিয়োগকর্তার কাছে ১০ হাজার রুপি বেতন বাকি ছিল। এই ১০ হাজার রুপির জন্যই সে ২৪ কোটি রুপির সম্পদকে ধ্বংস করেছে। তার জন্য সে খরচ করেছে মাত্র ১৫০ রুপির পেট্রল এবং দুটি ম্যাচের কাঠি।

মঙ্গলবার গুজরাটের সুরাটের পুলিশ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যে অগ্নিকাণ্ডটিকে প্রথমে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা মনে করা হয়েছিল, তদন্তের পর তা একটি বড় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর সূত্র ধরে ক্রাইম ব্রাঞ্চ বিনোদ পণ্ডিত সাভলে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

মামলাটির রহস্য তখনই উন্মোচিত হয় যখন সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের একটি দোকানের বাইরে কাপড়ের পার্সেল থেকে আগুন ধরাচ্ছে। পুলিশ জানায়, এই আগুন পরবর্তীতে অন্তত ১৪টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২৪ কোটি টাকার কাপড় পুড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) করণরাজ বাঘেলা জানিয়েছেন, সাভলে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে প্রায় তিন মাস মার্কেটটির ৬৩৯ নম্বর দোকানে কর্মরত ছিল। অ্যাকাউন্টসের কাজ সঠিকভাবে না সামলাতে পারায় গত জুনে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বলে এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সাভলের দাবি ছিল যে তার প্রাক্তন মালিকের কাছে ১০ হাজার রুপি পাওনা রয়েছে এবং সে মালিককে একটি শিক্ষা দিতে চেয়েছিল। সাভলে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতলে করে কাছের একটি গ্রামের পেট্রল পাম্প থেকে ১৫০ টাকার পেট্রল কিনেছিল। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে সে মার্কেটে প্রবেশ করে। সাভলে পাঁচতলার সিঁড়ির কাছে লুকিয়ে থাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মার্কেট যখন জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখন সে নিজের সাবেক কর্মস্থল সেই দোকানের দিকে যায়।

ক্রাইম ব্রাঞ্চের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখে সাদা কাপড় বাঁধা এবং কাঁধে একটি ব্যাগ ঝোলানো অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় পৌঁছায়। সে এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। ব্যাগ থেকে একটি পেট্রোল ভর্তি বোতল বের করে এবং দোকানের বাইরে রাখা কাপড়ের বাক্স ও পার্সেলের ওপর তা ঢেলে দেয়। দেশলাই কাঠি দিয়ে আগুন ধরানোর প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়; দ্বিতীয় চেষ্টায় কাপড়ে আগুন ধরে যায়।

আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু

ফুটেজে দেখা যায়, আগুনের শিখা ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তার পরিকল্পনা সফল হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সে একবার পিছন ফিরে তাকায়।

বহু পরিমাণ কাপড় এবং প্যাকিং সামগ্রী থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি দোকানকে গ্রাস করে। পুলিশ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সারোলি এলাকার পুলিশ এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্তের মার্কেটে প্রবেশ থেকে শুরু করে বের হওয়ার পথের একটি চিত্র দাঁড় করায়। এই ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা ডিন্ডোলির বিলিপত্র রেসিডেন্সির বাসিন্দা সাভলের সন্ধান পান।

পুলিশের মতে, ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এবং সাভলে যখন জানতে পারে যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তখন সে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয় এবং স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সুরাট ছেড়ে চলে যায়। প্রথমে সে রাজস্থানের খাতু শ্যাম মন্দিরে যায় এবং এরপর অযোধ্যায় যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো

পুলিশ আরও জানায়, সাভলে সুরাটে ফিরে আসার পর ডিন্ডোলির ফ্লাওয়ার গার্ডেনের কাছ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

বাঘেলা জানান, সাভলে কীভাবে খোলা পেট্রল কিনেছিল এবং পেট্রল পাম্পটি নিয়মকানুন মেনে চলেছিল কি না তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে পাম্পটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ বর্তমানে সাভলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং সে একাই এই অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিলেন নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: হুতি বিদ্রোহীদের এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে আমার ছেলেকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে : অপ্রতিমের মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে আমার ছেলেকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে : অপ্রতিমের মা

অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম মন্তব্য করেছেন যে, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে অপরাধী বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর সময় তিনি এই কথা বলেন।

ড. নাহিদা বেগম উল্লেখ করেন, ‘আমার ছেলেকে বিভিন্ন আইডি থেকে ব্লেইম করা হচ্ছে। আমার ছেলে কিছু বোঝে? আমার দুধের শিশুকে অপরাধী বানাতে চাইলে আমি এটা কখনোই মেনে নেব না। আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরো কত শিশুর জীবন নেবে, কত পরিবারের জীবন ধ্বংস করবে—সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ঘটনার কারণে যদি আমার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তাহলে এটা আমি মেনে নেব না।’

ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে তার শাস্তি আমি পাব। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো? আমার ছেলেকে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।’

এ সময় কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার এবং সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবির আইকিউএসি’র নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. মীর মোশাররফ হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


যবিপ্রবির আইকিউএসি’র নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. মীর মোশাররফ হোসেন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তার নতুন দায়িত্বের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আইকিউএসি পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেনকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি আইকিউএসি পরিচালকের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য অধ্যাপক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিশ্চিতকরণ নীতি প্রণয়ন এবং প্রতিটি বিভাগ ও অনুষদে গুণগত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের মানদণ্ড অনুসরণ করে স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত, নথির ভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং আউটকাম-বেজড এডুকেশন কারিকুলাম বাস্তবায়নে কাজ করব। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের আইসিটি ও এআই ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, নিয়মিত কোর্স ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন, অ্যালামনাই সার্ভে, মানসম্মত গবেষণা প্রকাশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‍্যাংকিং উন্নয়নে উদ্যোগ নেব। এসব কার্যক্রমে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নে কাজ করে যাব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কের অভিযানে ইসরায়েল সংশ্লিষ্টদের বৈশ্বিক প্রতারণা সাম্রাজ্য ভেঙে দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


তুরস্কের অভিযানে ইসরায়েল সংশ্লিষ্টদের বৈশ্বিক প্রতারণা সাম্রাজ্য ভেঙে দিল

তুর্কি কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোলের যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তুরস্কের বিভিন্ন স্থানে ৪০টিরও বেশি প্রতারণামূলক আউটলেটের আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানে ভোরের সময় ২০১ জন উচ্চপর্যায়ের সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং অফিসগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৫ জন ইসরায়েলি নাগরিক রয়েছেন, যাঁরা এই নেটওয়ার্কের মূল পরিচালনা বা শীর্ষ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন।

ইস্তাম্বুল ও মুগলা অঞ্চলের ২৮৬টি ঠিকানায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২৮টি ভুয়া কোম্পানি, ৪২টি কল সেন্টার এবং ২৪৮ জন সন্দেহভাজনকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেয়। শুক্রবার তুর্কি বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক ইসরায়েল-সংযুক্ত এই আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত বড় আকারের অভিযানের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

বিচারমন্ত্রী গুরলেক জানান, কল সেন্টারের আড়ালে পরিচালিত এই চক্রটি মূলত বিদেশি নাগরিকদের নিশানা বানাত। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে বিপুল লাভের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত।

তুরস্কের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই স্ক্যাম নেটওয়ার্কটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের সুবিশাল বৈশ্বিক প্রতারণা সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিল।

প্রতারণা সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন

এই চক্রের শিকড় মূলত ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে, যা 'দ্য টাইমস অব ইসরায়েল'-এর অনুসন্ধানী সাংবাদিক সিমোনা ওয়েনগ্লাস তাঁর ২০১৬ সালের আলোচিত প্রতিবেদনে "দ্য উলভস অব তেল আবিব" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তাঁর প্রতিবেদনে হাই-টেক ইসরায়েলি বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো থেকে পরিচালিত বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক অপশন বা 'বাইনারি অপশনস' প্রতারণা শিল্পকে প্রকাশ করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক তীব্র চাপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) আইন করে তাদের অভ্যন্তরীণ বাইনারি অপশন ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি; বরং চক্রটি ইসরায়েলে সদর দফতর ঠিক রেখেই তাদের প্রতারণা ব্যবসার কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে দেয়।

এর আগে 'অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট' (ওসিসিআরপি) এই নেটওয়ার্কের দুটি দলের মূল রহস্য উদঘাটন করে দেখিয়েছিল যে, তারা প্রায় ৩২,০০০ মানুষের কাছ থেকে অন্তত ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার (২৭৫ মিলিয়ন ডলার) হাতিয়ে নিয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার নিরীহ বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় লুট করাই ছিল এদের প্রধান কাজ।

তুর্কি গোয়েন্দাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে থাকা নেটওয়ার্কের মূল সদর দফতর থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যেন কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েলি এবং আমেরিকান নাগরিকদের টার্গেট করা না হয়। এই দুই দেশের নাগরিক ছাড়া বিশ্বের যেকোনো দেশের বিনিয়োগকারীই তাদের শিকার হতে পারত।

কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি

তুর্কি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ইসরায়েলি নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগ রাখা স্থানীয় আঞ্চলিক পরিচালকদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ভুয়া অফিস গড়ে তোলা হতো। আসল মালিকানা গোপন রাখতে বাণিজ্যিক ভবনে বিদেশি নামে ভুয়া কল সেন্টার কোম্পানি খোলা হতো। জাপানি, হিন্দি, ফরাসি ও স্প্যানিশসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ কর্মীদের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতো।

কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান ধাপ ছিল: প্রাথমিক বিনিয়োগ আনার জন্য 'কনভার্সন এজেন্ট' এবং ভিকটিমের ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য 'রিটেনশন এজেন্ট'। নিয়োগপ্রাপ্তদের এক সপ্তাহের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, যেখানে তাদের বিভিন্ন কোড নাম এবং অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট হওয়ার মতো ভুয়া জীবনের গল্প বা ব্যাকস্টোরি মুখস্থ করানো হতো, যাতে টার্গেট করা ব্যক্তি সহজেই বিশ্বাস করে।

কাজ শুরু করার আগে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ততা আছে কি না তা যাচাই করতে কর্মীদের মিথ্যা শনাক্তকরণ বা 'পলিগ্রাফ' পরীক্ষা নেওয়া হতো এবং নিয়মিত ব্যবধানে তা পুনরাবৃত্তি করা হতো।

কার্যক্রম পরিচালনার গোপনীয়তা ও মেকানিজম

অফিস পরিচালনায় চরম মাত্রার গোপনীয়তার নিয়ম বজায় রাখা হতো। অফিসের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল এবং ভেতরের কথাবার্তা বা কণ্ঠস্বর আড়াল করতে অবিরত উচ্চ শব্দে মিউজিক বাজানো হতো। কল সেন্টারের প্রাঙ্গণে কোনো অবস্থাতেই হিব্রু ভাষায় কথা বলা কর্মীদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ বাইরের যেকোনো দর্শনার্থীর অফিসে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বারন ছিল। ফোন কলের ক্ষেত্রে 'স্পুফিং' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো, যাতে ভিকটিমের ফোনে তাদের নিজ দেশেরই কান্ট্রি কোড ও স্থানীয় নম্বর ভেসে ওঠে।

তারা সাউথ আফ্রিকার মতো দেশগুলো থেকে অর্থের বিনিময়ে কেনা লাইসেন্স দেখিয়ে ভিকটিমদের ভুয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্য করত। কোনো একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ জমতে থাকলে চক্রটি সেটি বন্ধ করে ভিকটিমদের রাতারাতি নতুন নিবন্ধিত অন্য ভুয়া প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করত।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে তারা কম্পিউটার স্ক্রিনে কাল্পনিক মুনাফা দেখাত এবং শুরুতে ছোট অঙ্কের টাকা তোলার সুযোগ দিত। কিন্তু আমানতের পরিমাণ বড় হলেই টাকা তোলার পথ বন্ধ করে দেওয়া হতো, ব্যালেন্স ম্যানিপুলেট করে মাইনাসে নামিয়ে আনা হতো এবং আরও টাকা না দিলে আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখানো হতো। বাস্তবে সেখানে কোনো লেনদেনই হতো না; স্ক্রিনে প্রদর্শিত লাভ-ক্ষতি বা ব্যালেন্সের পুরোটাই ছিল সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি করা সম্পূর্ণ ভুয়া একটি নাটক।

ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা কীভাবে?

তুর্কি কর্মকর্তাদের মতে, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইসরায়েল এবং গ্রিক-শাসিত সাইপ্রাসে এই চক্রটির প্রথম গোড়াপত্তন হয়। ২০১৭ সালে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বাইনারি অপশন সংক্রান্ত কঠোর আইন হওয়ার পর চক্রটি তাদের মূল কাজ সাইপ্রাস, জর্জিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ, বুলগেরিয়া, আজারবাইজান, গ্রিস এবং পরবর্তীতে তুরস্কে স্থানান্তর করে।

প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ এবং কোল্ড ওয়ালেটের মাধ্যমে ঘুরে ফিরে আবার ইসরায়েলেই পৌঁছাত। তুর্কি কর্মকর্তারা আরও জানান, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের সাথে যুক্ত কিছু মাফিয়া গ্রুপ এই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের পরিকাঠামোকে নিজেদের লজিস্টিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


নিউইয়র্কে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক সাইডলাইন বৈঠক সম্পন্ন করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহামেদ লতিফ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় এই পৃথক বৈঠক।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ এবং উক্ত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা হয়। এছাড়াও, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরো সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%