ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

শহীদ জিয়ার লক্ষ্য-আদর্শে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য


শহীদ জিয়ার লক্ষ্য-আদর্শে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে, এমনটি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থান থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন

উপাচার্য বলেন, দেশ, জাতি ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে পুনর্গঠনে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমৃদ্ধ ও আদর্শিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পাশাপাশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে জুলুম, নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এর আগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। সকাল ১০টায় জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

পরে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য। এতে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হলসমূহের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র‍্যালিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) কর্তৃক স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরস্থল প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী

র‍্যালি শেষে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন উপাচার্য। এ সময় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিভাগ, পরিষদ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


ঝিনাইদহে সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সরকারি খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কাগজপত্রে খাল হিসেবে উল্লেখ থাকলেও সেখানে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এর ফলে বর্ষাকালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে চরম জলাবদ্ধতার শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোভিড-১৯ প্রকল্পের অধীনে সরকারি খালের ওপর ১৬৫ মিটার দীর্ঘ ও ৮ ফুট প্রস্থের এই ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি টাকা। কাজটি পেয়েছে ‘বাংলাদেশ ট্রেডিং অ্যান্ড কর্পোরেশন’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম। তবে স্থানীয়ভাবে কাজটি দেখাশোনা করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাহবুবুর রহমান মিলন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান, তার লাইসেন্সে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু এই কাজ করেন। স্থানীয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহবুবুর রহমান মিলন দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দুই গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েই কাজটি করা হচ্ছে।

পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সরকারি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ২৬০১ নম্বর দাগের সাড়ে ৩২ শতক জায়গার ওপর এই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ মৌজার সরকারি ম্যাপেও ওই স্থানটি খাল হিসেবে চিহ্নিত এবং এর প্রস্থ ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত ছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান সরকার যখন খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন কালীগঞ্জে খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুক্তার হোসেন জানান, পৌরসভার কয়েকটি গ্রামসহ শিমলা-রোকনপুর ও ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের প্রায় ২৭টি গ্রামের পানি এই খালের মাধ্যমেই শহরের ভেতর দিয়ে চিত্রা নদীতে নিষ্কাশিত হয়। এখানে সরু ড্রেন নির্মাণ করা হলে লাখো মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে এবং সরকারের কোটি টাকা অপচয় হবে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাসান দাবি করেন, যে স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে তা জনসাধারণের জায়গা এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা ও রেজুলেশন করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কালীগঞ্জ পৌর নায়েব খোকন কুমার দাস জানান, সরকারি নথিতে ২৫৫২ ও ২৬০১ নম্বর দাগে সাড়ে ৩২ শতক জমি খাল হিসেবেই রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।

পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতেই এই ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। পৌরসভার সার্ভেয়ারের তথ্য অনুযায়ী খালের কিছু অংশ রাস্তার মধ্যে চলে গেছে এবং বর্তমানে যেখানে কাজ হচ্ছে সেটি জনসাধারণের জায়গা। স্থানীয় সংসদ সদস্য, এলাকাবাসী ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তায় অভয়াশ্রম নেই, হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


তিস্তায় অভয়াশ্রম নেই, হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

কুড়িগ্রাম জেলার ৪০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত তিস্তা নদীতে কোনো মাছের অভয়াশ্রম নেই। এর পাশাপাশি কারেন্ট শক এবং চায়না দুয়ারি জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকার চলছে। এই কারণে অনেক দেশি মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে।

জেলেদের মতে, গত দুই দশকের মধ্যে তিস্তায় অন্তত ১০ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে চার-পাঁচটি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যা খুবই সামান্য। নদীর বিখ্যাত বৈরালী মাছও এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। সারা রাত জাল টেনে কখনো কখনো ১০০ টাকার মাছও মিলছে না। ফলে তিস্তানির্ভর জেলেদের জীবনযাত্রা চরম সংকটে রয়েছে। তারা ধার-দেনা এবং দাদনের ফাঁদে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে বিদ্যানন্দ গ্রামের জেলে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের জীবনের নানা সংকট। অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করলেও তিস্তাপারের ১০ গ্রামের মধ্যে একমাত্র এই জেলে পল্লীটি টিকে রয়েছে। এখানে অর্ধশত জেলে পরিবারের বাস, তবে অন্তত ২০টি পরিবার অন্যের জমিতে বসবাস করছে।

তিস্তার ভাঙনে সাতবার ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে বিদ্যানন্দ জেলেপাড়ায় বসবাস করছেন ষাটোর্ধ অতুল চন্দ্র দাস। তিনি নদীর কিনার ঘেঁষে ঘর বেঁধেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেন চন্দ্রের দেওয়া জমিতে তার জীর্ণ চালাঘর। তিন পুরুষের পেশা মাছধরা। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বুকে জাল টেনে কাটিয়েছেন জীবন। এখন বয়সজনিত ক্লান্তি তার শরীরে। মাঝে মাঝে দুই ছেলের সঙ্গে জাল ও নৌকা নিয়ে তিস্তার টানে ছুটে যান।

ছেলে সবুজ দাস ও রঞ্জিত দাস রাতভর তিস্তার বুকে ভেসে বেড়ান, কিন্তু মাছের অভাবে তাদের পেশা হুমকির মুখে। তারা জানান, কোনো কোনো দিন এক কেজির বেশি মাছ পাওয়া যায় না। তাই কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত আধপেটা খেয়ে কাটাতে হয়।

সবুজ ও রঞ্জিত আরও জানায়, প্রতি হাজারে মাসে ১০০ টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে নৌকা মেরামত করেছেন, কিন্তু নদীতে মাছের অভাবে সুদ ও আসল পরিশোধে উদ্বেগ বাড়ছে।

সবুজ চন্দ্র দাসের স্ত্রী সাধনা দাস জানান, তাদের আয় কমে গেছে। দুই সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার জন্য মহাজনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছেন, কিন্তু চার কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। পূজার সময় আরও ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এইসব ঋণ এখন গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘এলা তিস্তার ওপরা ভরসা করি হামার জীবন চলে না।’

প্রতিবেশী সন্দেশ দাস ৯০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে এবছর নৌকা মেরামত ও নতুন জাল কিনেছেন, কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় টাকা শোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবারের সংস্থান ছাড়াও প্রতিবছর নৌকা মেরামত ও জাল কেনার জন্য মোটা অংকের টাকা খরচ হয়। ফলে জেলে পরিবারের দায়-দেনা বেড়ে যাচ্ছে।

সন্দেশের স্ত্রী মুক্তা রানী দাস বলেন, ‘নদীতে তো মাছ নাই, প্যাট তো সেটা মানে না। সুদের টাকা কেমন করি শোধ করমো, সেই চিন্তায় নিন্দ আইসে না।’

জেলেরা জানান, বছর দশেক আগে তিস্তায় রুই, কাতলা, আইর, বোয়াল, চিতল, চেলা, বৈরালী, উপুর চৌকা, ঢুরুয়া, বাইম, শোল, পুঁটি, টেংরা, ঘারুয়া, বাছা, চিংড়ি ও ইলিশসহ নানা প্রজাতির প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। ২০২২ সালের হরকা বানের ঘোলা পানিতে অনেক মাছ মরে যায়। এরপর মাছের উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও গত দুই বছর ধরে মাছের আকাল চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে অল্প পরিমাণে বৈরালী, চেলা, পুঁটি, টেংরা ছাড়া অন্য কোনো মাছের দেখা মেলে না।

বাহাদুর দাস নামের আরেক জেলে জানান, দুপুর ২টার পর জাল-নৌকা নিয়ে তিস্তায় নামেন তিনি। সারা রাত নদীতে মাছ ধরে সকালে ফেরেন, কিন্তু সুবিধা হয় না। মাছ বিক্রি করে এমন দিনও যায় যখন ১০০ টাকার বেশি আয় হয় না।

বৃদ্ধ জেলে বুদা দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ১০-১২ প্রজাতির মাছ নদী থেকে হারিয়ে গেছে। আগে চেচা, ঘাইয়াল, ব্যার, মুঠা, আউংটা জালের ব্যবহার হতো; এখন ব্যার আর চেচা জাল ছাড়া ব্যবহার করা হয় না। তিনি বলেন, ‘ওমারে প্যাট চলে না, মোক পোষে কেমন করি।’

জেলেদের অভিযোগ, চর এলাকায় অপেশাদার মাছ শিকারিরা ব্যাপকভাবে কারেন্ট জাল ব্যবহার করছে। এতে মাছের বংশ ধ্বংস হচ্ছে। জেলেরা এসব অমৎস্যজীবী ‘বাঙাল’ বা ‘ভাটিয়া’র ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। জীবন-জীবিকা হুমকিতে পড়লেও জেলেরা কখনো এসব নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করেন না। তাছাড়া জলভাগের একটা বড় অংশ ‘অমৎস্যজীবীরা’ দখল করে জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দেয়। ফলে মাছ ধরার জায়গাও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আটটি মাছের অভয়াশ্রম রয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি অভয়াশ্রমও তিস্তায় নেই। অথচ তিস্তা নদী ৪০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ব্রহ্মপুত্রে হাতিয়া ও শাখাহাতি ছাড়াও ছয়টি বিল ও ছড়ায় এই অভয়াশ্রমে দেশীয় মাছ সংরক্ষণ করে বংশ বিস্তারে সহায়তা করা হয়, কিন্তু তিস্তায় এ ধরনের কোনো মাছের অভয়াশ্রম নেই। তাই তিস্তায় বিচরণকারী মাছের প্রজাতি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেই।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, দেশীয় মাছের প্রজাতি রক্ষায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রকেন্দ্রিক একটি বড় আকারের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, এগিয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, এগিয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি

নিউজিল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন মধ্যডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টি এগিয়ে রয়েছে। এই দলটি এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে। তাদের পেছনে রয়েছে বিরোধী মধ্যবামপন্থি লেবার পার্টি, যাদের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত সামান্য রয়েছে।

শনিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কমিশন একই সঙ্গে জানিয়েছে, মধ্যপন্থি অপারচুনিটি পার্টি সংসদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করবে।

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৯টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং এটি চলতে থাকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টায় ভোট শুরু হয়ে শনিবার সকাল ৬টায় শেষ হয়।

প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিপ্লব দিবস নানা আয়োজনে পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


জাতীয় বিপ্লব দিবস নানা আয়োজনে পালিত

পাবনার বেড়া উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রুনাল্ট চাকমা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মাননীয় সংসদ সদস্য ৬৯ পাবনা-২। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরের মাইশা খান, উপজেলা বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার, বেড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুর রহমান ফকির এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পটভূমি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের সিপাহী ও জনতা একত্রিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষা করেছিল। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%