রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২৮ পি.এম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি উপজেলা গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ১০ সেপ্টেম্বর তারিখে জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনের আওতাধীন সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন একটি আলাদা উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ উদ্যোগটি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদের পাঠানো ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রে নির্ধারিত শর্ত ও নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করে বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধা, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন, স্থানীয় জনগণের সুবিধা এবং বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব পাওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও উপপরিচালক, সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সুপারিশসহ প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর পর নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণের সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সাথে ধাক্কা লেগে নিখোঁজ হওয়া ঝিনাইদহের শৈলকুপার পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকির (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার সকালে নিখোঁজের ৩৫ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে ১৩০ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডের সাথে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সংঘর্ষের ফলে প্রথমে ৩ জন নিখোঁজ হয়। দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
নৌকা ভ্রমণে অংশগ্রহণকারী যাত্রীরা জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলা গাড়ি ঘাট থেকে ১৩০ জন ভ্রমণকারী নিয়ে তারা ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে আসেন। এছাড়াও ওই নৌকায় মাঝিসহ আরও বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন।
মাজার দর্শনের পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিকট পৌঁছান। এ সময় প্রবল স্রোতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার নম্বর পিলারের সাথে বাল্কহেডের পেছনের অংশের সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনার ফলে রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ ছিলেন।
খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস এবং নৌ পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুর রহমান জানান, রকিকে উদ্ধারের জন্য নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কিছু ইউনিট কাজ করছিল। আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পদ্মা নদীতে তার মরদেহ ভেসে উঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বয়স মাত্র ১৫, কিন্তু মাঠে নামার আগে থেকেই বৈভব সূর্যবংশী প্রতিপক্ষ শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতে আফগানিস্তান এই তরুণ ওপেনারকে আটকে রাখার জন্য পরিকল্পনা করছে।
আজ তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে ভারতের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান খোলামেলা ভাবে স্বীকার করেছেন যে, ১৫ বছরের বৈভবকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। আফগানিস্তান ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আইপিএলে তার বিপক্ষে খেলা সতীর্থদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বৈভবকে থামানোর কৌশল তৈরি করছে।
বৈভবকে ‘অসাধারণ প্রতিভা’ হিসেবে উল্লেখ করে জাদরান বলেন, ‘সে অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান। আইপিএল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে সে পারফর্ম করে দেখাচ্ছে। তাকে থামানোর উপায় নিয়ে আমরা বেশ আলোচনা করেছি। আমাদের স্কোয়াডে এমন ক্রিকেটারও আছে যারা আইপিএলে তার মুখোমুখি হয়েছে, তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়েছি।
তবে কেবল সতীর্থদের মুখের কথায় নির্ভর করতে চাননি আফগান ম্যানেজমেন্ট। তারা ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্যে বৈভবের ব্যাটিংয়ের শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তবে আফগান অধিনায়ক জাদরান রণকৌশল জটিল করতে চান না, তিনি বলেন, ‘আমরা তার ভিডিও ক্লিপস দেখেছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য পরিকল্পনাকে যতটা সম্ভব সাধারণ রাখা এবং মাঠে সেটার সঠিক বাস্তবায়ন ঘটানো।’
আইপিএলে নজর কাড়া বৈভব যে কেবল সংক্ষিপ্ত সংস্করণের খেলোয়াড় নন, তা প্রমাণ করেছেন লাল বলের ক্রিকেটেও। সদ্য সমাপ্ত দুলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ৫ ইনিংসে ১৯২ রান করেছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৯২ রানের কার্যকরী ইনিংসটি দলকে জয়ী করার পথে সহায়তা করেছে। এবার আবার নিজের পরিচিত ও প্রিয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফিরছেন এই তরুণ ওপেনার। স্বাভাবিকভাবেই তাকে ঘিরে আফগান শিবিরের এই বাড়তি সতর্কতা।
অন্যদিকে, রশিদ খানের কাছ থেকে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করা ইব্রাহিম জাদরানের জন্যও এই সিরিজটি একটি বড় পরীক্ষা। নতুন দায়িত্ব নিয়ে জাদরান বলেন, ‘অধিনায়কত্ব অনেক বড় একটা দায়িত্ব, তবে আমি এটা উপভোগ করছি। ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আসল খেলা।’ পরিচিত কন্ডিশনে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভারতের বিপক্ষে স্মরণীয় একটি সিরিজ কাটানো সম্ভব বলেও বিশ্বাস এই আফগান অধিনায়কের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তামিল চলচ্চিত্রে অভিনেতা আর মাধবনের অভিষেক ঘটে মণি রত্নমের ‘আলাইপায়ুথে’ সিনেমার মাধ্যমে। ক্যারিয়ারের সেই শুরুর সময়, সিনেমার স্বার্থে তাকে স্ত্রীর পরিচয় গোপন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
চলচ্চিত্র শিল্পের একটি অংশের ধারণা ছিল যে, বিবাহিত কোনো অভিনেতাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে গ্রহণ করতে চায় না ইন্ডাস্ট্রি।
তবে মাধবন বক্স অফিসের সাফল্যের জন্য স্ত্রীর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পরিচালক মণি রত্নমের সঙ্গে আলোচনা করেন। মণি রত্নম তাকে বিয়ের কথা গোপন করতে কোনো চাপ দেননি।
এরপর বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে মাধবন গর্বের সঙ্গে তার বিয়ের কথা তুলে ধরেন।
মাধবন জানান, ক্যারিয়ারের কঠিন দিনগুলোতে তার স্ত্রী সরিতা সবসময় তার পাশে ছিলেন। তাই ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা মেনে নেওয়া গেলেও স্ত্রীর পরিচয় গোপন করে তাকে অসম্মান করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সততা বজায় রেখেই তার অভিনয় ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে ‘কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি সদর জোনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. জুলফিকার রহমান, পিএসসি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণে পরিচালিত সেনাবাহিনীর সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করছেন। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের একই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, শুধু কম্পিউটার শেখানো নয়, তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তাদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইনভিত্তিক কাজ, চাকরি ও আত্মকর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রশিক্ষণে কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, তথ্য অনুসন্ধান এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেজর মো. জুলফিকার রহমান বলেন, শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ফলে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশও আরও সুদৃঢ় হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে এমন উদ্যোগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তরুণরা নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারলে পরিবার ও সমাজের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে পার্বত্য এলাকার তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও সম্প্রীতি জোরদারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা ভবিষ্যতে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ