মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৭ এম
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঠাকুরগাঁওয়ের লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার আকচা এলাকায় অবস্থিত জাদুঘরটি পরিদর্শনে যান। রাষ্ট্রদূতের স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন।
জাদুঘরে পৌঁছানোর পর, রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান।
পরিদর্শনের সূচনা পর্বে, ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান রাষ্ট্রদূতকে লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পটভূমি এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, জীববৈচিত্র্য, লোকজ সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনধারা, নদী ও পরিবেশ, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে জাদুঘরের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এরপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। তারা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, লোকজ পুতুল ও খেলনা, নদী, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, বাদ্যযন্ত্র, তৃণমূলের লোকজ, বিজ্ঞান, বৃক্ষ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি পরিদর্শন করেন।
গ্যালারিগুলোতে সংরক্ষিত গ্রামীণ জীবনের পুরোনো নানা উপকরণ, লোকজ সংস্কৃতির নিদর্শন, দেশীয় বাদ্যযন্ত্র ও প্রকৃতিনির্ভর বিভিন্ন সংগ্রহ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী আগ্রহ নিয়ে জানতে চান। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন ঐতিহ্য একই জায়গায় সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ তাঁদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
জীবন্ত বৃক্ষও জাদুঘরের সংগ্রহ
পরিদর্শনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাদুঘরের বৃক্ষ গ্যালারি। এখানে শুধু বৃক্ষের নমুনা নয়, জীবন্ত বৃক্ষকেও সংগ্রহ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃক্ষপ্রজাতি পর্যায়ক্রমে এখানে রোপণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫০ প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এসব বৃক্ষ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের উদ্ভিদবৈচিত্র্য সম্পর্কে জানানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও দেখলেন
রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারিতেও সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগ্রহ তাঁদের দেখানো হয়।
প্রকৃতির নিবিড় পরিবেশে গড়ে ওঠা জাদুঘরের সংগ্রহ ও উপস্থাপনা দেখে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।
ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, কৃষিনির্ভর জীবন, নদী ও পরিবেশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, বৃক্ষসম্পদ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে।
প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘর দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী ও দর্শনার্থীদের কাছে উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও ঐতিহ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই স্থানীয় উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরের চেয়ারম্যান ও ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ জীবনধারা সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, আমরা শুধু নিদর্শন সংগ্রহ করে রাখছি না, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, সেটিও তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রীর পরিদর্শনকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের এই পরিদর্শন সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘরে এসে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। গ্রামীণ জীবন, লোকজ ঐতিহ্য, বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর রহমানসহ অনেকে।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে সমতলের চা-বাগান ও ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আমগাছ পরিদর্শন করেন মার্কিন এই কূটনীতিক। সেখানেও তিনি প্রশংসা করেন। এ সময় তার স্ত্রী ও কয়েকজন সফরসঙ্গী ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী ২শ’ বছরের পুরনো এশিয়ার সর্ববৃহৎ আম গাছ এবং সমতলের চা বাগান পরিদর্শন করেছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তের আমগাছ এবং নিটলডোবা গ্রামে অবস্থিত সমতলের চা বাগান পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রদূত চা বাগানের শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন এবং নিজেই শ্রমিকের পোশাক পরে বাগানে চা পাতা তোলেন।
পরিদর্শনের শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "আমি সমতলে চা কখনো দেখিনি। এই প্রথম বাংলাদেশে সমতলে চা চাষ দেখে সীমাহীন খুশি হয়েছি। আরো খুশি হয়েছি এত পুরনো আম গাছ দেখে। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এখানকার মানুষ খুবই পরিশ্রমী। তাদের সহযোগিতা করলে তারা দ্রুত উন্নতি করবেন। আমরা সবসময় আপনাদের সাথে থাকবো। ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।"
এ সময় রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন টি স্টেটের মালিক ফয়জুল ইসলাম হিরু, জেলা বিএনপি’র সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাগণ।
রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তিনি স্থানীয় ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানগুলোর বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং সুলতান টি ও ঐতিহাসিক আম গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উচ্চশিক্ষায় নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অর্জন করেছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা।
লন্ডনে ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ‘উইমেন ইন লিডারশিপ ইন এডুকেশন’ ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
কমনওয়েলথ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, পেশাগত উৎকর্ষ এবং কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করে।
অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখার এই অর্জন উচ্চশিক্ষায় নারীর নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, তার এই সম্মাননা বাংলাদেশের নারী শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, গবেষক এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আগ্রহী তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।
পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা এই সম্মাননা উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার কথা জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার এই অর্জন, এই পুরস্কার আমার শিক্ষার্থী এবং উত্তরা ইউনিভার্সিটির সকল প্রিয় সহকর্মীকে উৎসর্গ করতে চাই।’
অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জুড়ে উত্তরা ইউনিভার্সিটি শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থীদের বিকাশ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই অর্জন উত্তরা ইউনিভার্সিটির বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার ধারাবাহিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখার এই অর্জনে উত্তরা ইউনিভার্সিটি পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২০২৪ সালের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সারাহ আলড্রিচ, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে।"
সারাহ আলড্রিচ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি আবারও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে আছে এবং যে কোনো সহায়তার জন্য প্রস্তুত।
সারাহ আলড্রিচ জুলাইয়ের চেতনায় দেশকে কৃষি, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্যও শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে জীবনদানকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়, যা জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদানের চিত্র তুলে ধরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিখোঁজ হয়েছেন ৬০ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী। তার পরিবারের সদস্যরা এখন সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে তার খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কৈলাস মানসরোবর যাত্রা শেষে ‘ইশা স্যাক্রেড ওয়াকস’-এর একটি দলের সঙ্গে ফিরছিলেন মেরি সোরেনসেন নামের ওই তীর্থযাত্রী। গত ২৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে তাকে শেষবার দেখা যায় তিব্বতের জিরং ইমিগ্রেশন সেন্টারে। সেখান থেকে তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরিকল্পনা ছিল কাঠমান্ডু ও দিল্লি হয়ে।
কিন্তু ইমিগ্রেশন সেন্টারে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়। পাহাড়ের ওপর হিমবাহ ধসে বিশাল এক পাহাড়ি ঢল আছড়ে পড়ে নদী উপত্যকায়। এই ঘটনায় জিরং সীমান্ত চৌকিসহ আশপাশের সব অবকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়। পুরো এলাকার বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বন্যার খবর পেয়ে মেরির ছেলে রাইলি ওয়াইল্ডম্যান এবং পুত্রবধূ লরেন বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা সংবাদমাধ্যম, উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের কাছে সাহায্য চান। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইলি উভয় সীমান্তের উদ্ধারকর্মী ও কূটনীতিকদের কাছে তার মাকে খুঁজে বের করার আকুতি জানান।
বিপর্যস্ত ওই অঞ্চলে এখনো ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। তাই জিরং, তিমুরে, স্যাব্রুবেসি বা রাসুওয়া এলাকার কাছাকাছি যারা কাজ করছেন, তাদের কাছে জরুরি তালিকা ও আশ্রয়কেন্দ্রের রেকর্ডগুলো খতিয়ে দেখার জন্য নিখুঁত অনুরোধ জানিয়েছে নিখোঁজ মেরির পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ