ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা


এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা

 

জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার একটি মাঝারি বা সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস দিয়েছে। এটি আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মতে, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন এবং সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী থাকে।

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

ডব্লিউএমও বলেছে, উষ্ণ সমুদ্রের জল এল নিনোর বিকাশকে আরও ইন্ধন দিচ্ছে এবং জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ডব্লিউএমও আরো জানিয়েছে, এল নিনো সম্ভবত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, ‘আমাদের একটি সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এর ফলে খরা ও ভারি বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়াও স্থল ও সমুদ্র উভয় স্থানে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।’

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো উপস্থাপন করেছেন, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ এল নিনোর প্রভাবেই ২০২৪ সাল এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ বছর হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।

এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন করে এল নিনো গঠনের ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে, সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচেও অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নিচে জমে থাকা এই অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে ওপরের পানিকে আরও উষ্ণ করছে। এর কারণে এল নিনোর শক্তি বৃদ্ধি এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাভাবিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকার শিং অঞ্চলের কিছু দেশ এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু এলাকায় খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আরও জানাচ্ছে, এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। সেইসাথে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হারিকেনের শক্তি বৃদ্ধিতেও এটি অবদান রাখতে পারে।

এদিকে, আন্তোনিও গুতেরেস জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কতা হিসেবে দেখতে হবে। এল নিনো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব আরো বাড়িয়ে দেবে।’

তবে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে বা আরো শক্তিশালী হচ্ছে, এমন প্রমাণ এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবকে ভয়াবহ করতে পারে। ফলে তাপপ্রবাহ, ভারি বৃষ্টি এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে : ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খরতাপে এগিয়ে আসলো হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


খরতাপে এগিয়ে আসলো হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুম

রংপুরে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই প্রকৃতির রুক্ষ আচরণের প্রভাব রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের ওপরে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে এবারের হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সময়সূচি পাঁচ দিন এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর কৃষি বৃহত্তম অঞ্চলগুলোতে আগে ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাতের আনুষ্ঠানিক তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, বর্তমানে তা পরিবর্তন করে ১৫ জুন করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগে থেকেই স্থানীয় বাজারে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি আমের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার হাঁড়িভাঙা আমের একটি অসাধারণ বছর। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গাছে প্রচুর আম ধরেছে। তবে এই আমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর সংরক্ষণক্ষমতা কম হওয়া। পাকার পর সাধারণত এই আম তিন থেকে চার দিনের বেশি ভালো থাকে না। ফলে দেশের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছেন।

রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হাঁড়িভাঙা আম দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও একটি সুনাম অর্জন করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ প্রযুক্তির অভাব এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতির কারণে রপ্তানিকারদের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষি বিভাগ যদি এই আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়, তাহলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও ব্যাপক পরিসরে রপ্তানি সম্ভব হবে। যদিও গত পাঁচ বছর ধরে কৃষি বিভাগ সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার কাজ করছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে এখনো তার দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

রংপুরের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী মো. জুননুন বলেন, “রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙা আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন এবং বিশ্বের আরও অনেক মানুষ এই সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।” তিনি এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে ১ হাজার ৯০২ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন হয়। এবারে হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত গরমের কারণে হাঁড়িভাঙা আম দ্রুত পরিপক্ব হচ্ছে। এ কারণে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


রাতে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

দেশের ৬ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের তরফ থেকে সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বিস্তারিত বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। পাশাপাশি এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সংস্থাটির অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি ঘটে যেতে পারে। এ সময় চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এলো নতুন তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ইরানি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এলো নতুন তথ্য

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনার মধ্যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। ‘বিবিসি ভেরিফাই’র বিশেষ বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিওতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ওয়াশিংটনের জনসমক্ষে স্বীকার করা ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে শুরু করে গত তিন মাসে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করেছে। এর ফলে আমেরিকার অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং রাডার স্টেশনের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, ইরান ও লেবাননে তাদের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে তারা ইরানি ভূখণ্ডে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যদিও তেহরানও নিশ্চিন্তে বসে নেই; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা বানাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এই হামলা জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার এবং জ্বালানি সরবরাহকারী যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির সংখ্যা ২৮টিও হতে পারে।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদার এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাটারি সিস্টেম (থাড) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে আমেরিকার কাছে মাত্র ৮টি বিলিয়ন ডলার মূল্যের 'থাড' ব্যাটারি রয়েছে, যা তৈরি এবং পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল। এ ব্যাপারে আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট মন্তব্য করেন, "এই ব্যাটারিগুলো একটি অত্যন্ত জটিল আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।"

এছাড়া, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি এবং জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে বড় বড় গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিমান স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এর মধ্যে একটি ৭০ কোটি ডলার মূল্যের ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমানও রয়েছে। কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানে ইরানের হামলায় জ্বালানি বাংকার, বিমানের হ্যাঙ্গার ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এফ-১৫, এফ-৩৫ ফাইটার জেট এবং ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন।

মার্কিন কর্মকর্তারা নিরাপত্তার অজুহাতে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। বরং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ সীমিত করার চেষ্টা করছে। তারা প্রধান স্যাটেলাইট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট’-কে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ছবি প্রকাশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বিবিসি ভেরিফাই অন্যান্য আন্তর্জাতিক এবং পুরোনো স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঠে খেলাধুলার সময় বজ্রপাতে কিশোর নিহত, আহত বন্ধু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ পি.এম


মাঠে খেলাধুলার সময় বজ্রপাতে কিশোর নিহত, আহত বন্ধু

কুড়িগ্রামের উলিপুরে খেলার সময় বজ্রপাতে রানা মিয়া (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয় লাবন্য মিয়া (১২) নামক অপর এক কিশোর।

এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম আঠারপাইকা গ্রামে। নিহত রানা ওই গ্রামের আফজাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিম আঠারপাইকা গ্রামের জাহিদুল হকের ছেলে লাবন্য মিয়া ও আফজাল মিয়ার ছেলে রানা মিয়া বাড়ির পাশের একটি জমিতে খেলছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়, ফলে তারা দুইজনই গুরুতর আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় রানা মিয়া মারা যায়।

নিহত রানা মিয়ার চাচাতো ভাই রাজু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন যে, দুপুরে তারা বাড়ির পাশের জমিতে খেলছিল। সেই সময় বজ্রপাতে দুজন আহত হয়। পরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে রানা মারা যায়।

লাবন্য বর্তমানে কিছুটা সুস্থ অবস্থায় আছে। হতাহতরা দুজনই একে অপরের সঙ্গে চাচা-ভাতিজা সম্পর্কের।

উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দীক জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%