০৯:২১ পি.এম
জীবিকার প্রয়োজনের কারণে যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই আট বছর বয়সে রাস্তায় বাদাম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিল শিশু হাসান। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শৈশবেই তাকে উপার্জনের পথে নামতে হয়েছিল। তবে শিশুটির এই দুর্দশার কথা জানতে পেরে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি হাসানকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বই-খাতা প্রদান করেছেন এবং স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন, পাশাপাশি পরিবারের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফরিদা খানম কথা বলেন। এ সময় তিনি তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে হাসানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, হাসানের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর তিন ভাই, এক বোন ও মাকে নিয়ে বারিধারার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে আট বছর বয়সী হাসান। পরিবারের অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে সে বাদাম বিক্রি শুরু করে।
আরও পড়ুন: ‘ঢাকা বাঁচাও’ থেকে সোহানী শিফা বহিষ্কার, নতুন আহ্বায়ক তানভীর আজাদ
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। কোনো শিশুই যেন দারিদ্র্য কিংবা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। শিশুর হাতে শ্রমের বোঝা নয়, বই-খাতা তুলে দিতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
তিনি আরো বলেন, ‘হাসানের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি দায়িত্বশীল উদ্যোগ। আমরা চাই, প্রতিটি শিশু তার শৈশব ফিরে পাক, নিয়মিত পড়াশোনা করুক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ লাভ করুক। সমাজের কোনো শিশুই যেন প্রতিকূলতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে হাসান ও তার পরিবার নতুন আশার আলো দেখছে। বাদামের থলে রেখে এবার সত্যিকার স্কুলের আঙিনায় পা রাখার স্বপ্ন দেখছে ছোট্ট হাসান।
আরও পড়ুন: মিরপুর ১০ নম্বরে যান চলাচল স্বাভাবিক, পুলিশ সতর্ক অবস্থায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন