ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মৌলভীবাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা


মৌলভীবাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ন্যায্য মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার নিশ্চয়তা বিধানে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিভিন্ন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানের ফলস্বরূপ, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহযোগিতায় কমলগঞ্জ উপজেলার লামাবাজার, স্টেশন রোড ও শমসেরনগর বাজারের বিভিন্ন পাইকারি এবং খুচরা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় দেখা যায়, মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা হয়নি, পাকা ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ করা হয়নি এবং সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার মতো বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অভিযানে লামাবাজারের ওম ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা, স্টেশন রোডের চৌধুরী ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা এবং সায়েম হার্ডওয়্যারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে আরোপিত মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন: সিরাজদিখানে সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক: সরকারি তালিকায় নাম, গুদাম ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষের অভিযোগ!

এছাড়া, এলপিজি সিলিন্ডারের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সঠিকভাবে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, পাকা ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ, অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করা এবং অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, ভোক্তাদের ন্যায্য মূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমান আগামীকাল ১০টি এয়ারবাস কিনতে চুক্তি সই করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


বিমান আগামীকাল ১০টি এয়ারবাস কিনতে চুক্তি সই করবে

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামীকাল বুধবার ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-এর সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এই চুক্তি বিমান বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার পাশাপাশি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান বহরে ৪টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ৬টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর উপস্থিত থাকবেন।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের ‘উৎসব হল’-এ অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও উপস্থিত থাকার আশা করা হচ্ছে।

আগামী এক দশকে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই এয়ারবাসগুলো যুক্ত হলে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উড়োজাহাজ বহর আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় হবে।

এর আগে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী অক্টোবরের মধ্যেই ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরেই চুক্তি সই হবে।’

মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩৩ সাল থেকে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হবে এবং তা ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।

আশা করা হচ্ছে, ৪টি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ বিমানের ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, ৬টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে।

এই ক্রয়ের মাধ্যমে বোয়িং ও এয়ারবাস— দুই ধরনের উড়োজাহাজের সংমিশ্রণে বিমানের একটি বহুমুখী বহর তৈরি হবে।

বিমান এর আগে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। পরবর্তীতে এই তালিকায় আরও ১১টি বোয়িং যুক্ত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি ৭৮৭-১০ এবং ৬টি ৭৩৭-৮। এতে মোট বোয়িং ক্রয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫টিতে।

প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস কেনা সম্পন্ন হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহরে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে; যার মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।

নতুন উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরুর আগের মধ্যবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা ধরে রাখতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওয়াজ-ইমরান খান: বন্ধু ছিলেন, আবারও কি মিত্র হতে পারেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


নওয়াজ-ইমরান খান: বন্ধু ছিলেন, আবারও কি মিত্র হতে পারেন?

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মিত্র হয়ে ওঠার উদাহরণ বিদ্যমান। ২০০৭ সালে নওয়াজ শরীফ এবং বেনজির ভুট্টোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’ এর মাধ্যমে তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের সমাপ্তি ঘটে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কি নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান আবারও কোনো সমঝোতায় আসতে পারেন?

সোহেল ওয়ারাইচের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেই। তবে পি জে মীরের ধারণা, কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে এবং তারা এবার একসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন।

নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খানের সম্পর্কের ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও নাটকীয় অধ্যায়, যেখানে বন্ধুত্ব থেকে রাজনৈতিক জোট, তারপর বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত তীব্র বৈরিতা দেখা গেছে। তাদের সম্পর্কের পরিবর্তন পাকিস্তানের ক্ষমতার রাজনীতি, সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইসলামাবাদে নওয়াজ শরীফের বাসভবনে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে এক বিদেশি সাংবাদিক নওয়াজ শরীফকে ইমরান খান সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তখন নওয়াজ জানান, তিনি আগেই ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

নওয়াজ শরীফ তখন ৪৩ বছর বয়সী এবং ইমরান খান ৪০ বছর বয়সী ছিলেন। দুজনেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার শীর্ষে ছিলেন। কেউই হয়তো ভাবেননি, ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে পরিণত হবেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে জড়াবেন।

ক্রিকেট থেকেই পরিচয়

নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান দুজনেই লাহোরের সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। নওয়াজ ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান, অন্যদিকে ইমরানের বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। দুজনেরই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল।

ইমরান খান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পান। নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার সীমিত হলেও তিনি ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইত্তেফাক ক্রিকেট ক্লাবে সে সময়ের অনেক নামী ক্রিকেটার খেলতেন।

লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবেই ইমরান ও নওয়াজের পরিচয় ঘটে। ইমরান তখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিলেন, আর নওয়াজ তখন রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন।

সাবেক ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের সম্পর্ক শুরুতে খুব ঘনিষ্ঠ ছিল না। ইমরানের বাউন্সারে নওয়াজকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

রাজনীতিতে নওয়াজ, ক্রিকেটে ইমরান

১৯৮২ সালে ইমরান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন। এর আগে ১৯৮১ সালে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ শরীফ ১৯৮৫ সালে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী হন। দুজনেরই তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

নওয়াজের ক্রিকেটপ্রেম তখনও অটুট ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত জিমখানায় ক্রিকেট খেলতেন। এমনকি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটও খেলেছিলেন।

১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নওয়াজ শরীফের ক্রিকেটপ্রেম নিয়ে একটি মজার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খানকে না জানিয়ে নওয়াজকে ওই ম্যাচে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক করা হয়। পরে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে টস করতে মাঠে নামেন এবং ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন।

শেষ পর্যন্ত নওয়াজ শরীফ দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি এবং দ্বিতীয় বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান।

ইমরানের সাফল্যে নওয়াজের ভূমিকা

১৯৮৮ সালে নওয়াজ আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একই সময়ে ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও সাফল্যের শীর্ষে ওঠে।

১৯৯২ বিশ্বকাপের আগে ইমরানের দল থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ বাদ পড়ার ঘটনায় নওয়াজ শরীফের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক কামার আহমেদ। তবে মিয়াঁদাদ নিজে এ বিষয়ে নওয়াজের ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারেননি।

তবে ইমরান খানের আরেকটি বড় প্রকল্প শওকত খানম হাসপাতাল নির্মাণে নওয়াজ শরীফের সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের আগেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ হাসপাতালের জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানকে সহায়তা করেন। পরে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর নওয়াজ শরীফ প্রকাশ্যে জানান যে তিনি ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমরান তখন জানান, তাকে এর আগে দুবার রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন না।

তবে মাত্র চার বছর পর, ১৯৯৬ সালে ইমরান খান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

রাজনীতিতে আসার আগে নওয়াজ শরীফ আবারও ইমরানকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইমরানের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াজ তাকে প্রথমে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ এবং পরে জাতীয় পরিষদের ২০টি আসন নিয়ে জোট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে পি জে মীরের দাবি।

ইমরান অবশ্য সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করতেন।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আবার একসঙ্গে

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ইমরান খান ও তার দল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন।

কিন্তু ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর জেনারেল পারভেজ মুশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ সরকারের পতন ঘটান। নওয়াজ কারাবন্দি হওয়ার পর সৌদি আরবে নির্বাসিত হন। অন্যদিকে, প্রথমে মুশাররফকে সমর্থন করলেও পরবর্তী সময়ে ইমরানও তার কাছ থেকে দূরে সরে যান।

২০০৭ সালে মুশাররফের আমলে ইমরান কারাবন্দি হন। এরপর লন্ডনে নওয়াজের সঙ্গে ইমরানের সাক্ষাৎ ঘটে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তারা আবারও একজোট হন।

২০০৭ সালের জুনে তারা পারভেজ মুশাররফের শাসনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেন এবং অল পার্টিজ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টে যুক্ত হন।

কিন্তু সেই জোটও বেশিদিন টেকেনি। নির্বাচন বর্জন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আবারও তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়।

বন্ধুত্ব থেকে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই

২০১১ সালে ইমরান খান নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসেন। তখনও তার প্রধান রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টি। নওয়াজ শরীফের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি বৈরী হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচন সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান বুঝতে পারেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে তাদের লড়াই মূলত একে অপরকে ঘিরেই। এরপর তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও অবস্থান ক্রমেই কঠোর হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওয়াজ শরীফ দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। একই নির্বাচনে ইমরান খান প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একসময় নওয়াজ তাকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাসভবনের বাসিন্দাই হন ইমরান।

কিন্তু ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বও পূর্ণ মেয়াদ পায়নি। তিনি তার ক্ষমতাচ্যুতির জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকেও দায়ী করেন। নওয়াজ শরীফও এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরের পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫১৩ মিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


অক্টোবরের পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫১৩ মিলিয়ন ডলার

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ অক্টোবর) ৫১৩ মিলিয়ন বা ৫১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর মধ্যে ৫ অক্টোবর একদিনেই ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ মাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে (১-৫ অক্টোবর, ২০২৫) রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২২ মিলিয়ন ডলার। এর মানে হলো, গত বছরের তুলনায় চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে ৯১ মিলিয়ন ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১০৪ মিলিয়ন (৯.১০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে প্রবাহিত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর, ২০২৫) এই পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এই সময়ে বছরওয়ারি (ইয়ার-অন-ইয়ার) প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনজিও ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


এনজিও ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এনজিও খাতে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য সময়সীমাবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সম্মেলন কক্ষে ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের সমাধান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা শুধু শুনতে চাই না, তার কার্যকর রেসপন্স করতে চাই।” তিনি বলেন, মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন। সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে কাজ করছেন। এই অংশীদারত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনজিওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এনজিওদের টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানান।

শীতলপাটিসহ দেশের স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন এবং মার্কেটিং প্রমোট করতে হবে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রেও চারটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এগুলো হলো- ভ্যালু ফর মানি, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই চার শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%