ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নওয়াজ-ইমরান খান: বন্ধু ছিলেন, আবারও কি মিত্র হতে পারেন?


নওয়াজ-ইমরান খান: বন্ধু ছিলেন, আবারও কি মিত্র হতে পারেন?

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মিত্র হয়ে ওঠার উদাহরণ বিদ্যমান। ২০০৭ সালে নওয়াজ শরীফ এবং বেনজির ভুট্টোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’ এর মাধ্যমে তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের সমাপ্তি ঘটে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে কি নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান আবারও কোনো সমঝোতায় আসতে পারেন?

সোহেল ওয়ারাইচের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেই। তবে পি জে মীরের ধারণা, কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে এবং তারা এবার একসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খানের সম্পর্কের ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও নাটকীয় অধ্যায়, যেখানে বন্ধুত্ব থেকে রাজনৈতিক জোট, তারপর বিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত তীব্র বৈরিতা দেখা গেছে। তাদের সম্পর্কের পরিবর্তন পাকিস্তানের ক্ষমতার রাজনীতি, সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইসলামাবাদে নওয়াজ শরীফের বাসভবনে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে এক বিদেশি সাংবাদিক নওয়াজ শরীফকে ইমরান খান সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তখন নওয়াজ জানান, তিনি আগেই ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

নওয়াজ শরীফ তখন ৪৩ বছর বয়সী এবং ইমরান খান ৪০ বছর বয়সী ছিলেন। দুজনেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠার শীর্ষে ছিলেন। কেউই হয়তো ভাবেননি, ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের রাজনীতির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে পরিণত হবেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে জড়াবেন।

ক্রিকেট থেকেই পরিচয়

আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে শুভেন্দুর চরম অব্যবস্থাপনা নগ্ন হয়ে পড়ল

নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান দুজনেই লাহোরের সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। নওয়াজ ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান, অন্যদিকে ইমরানের বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। দুজনেরই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল।

ইমরান খান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পান। নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার সীমিত হলেও তিনি ক্লাব ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইত্তেফাক ক্রিকেট ক্লাবে সে সময়ের অনেক নামী ক্রিকেটার খেলতেন।

লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবেই ইমরান ও নওয়াজের পরিচয় ঘটে। ইমরান তখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিলেন, আর নওয়াজ তখন রাজনীতিতে প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন।

সাবেক ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের সম্পর্ক শুরুতে খুব ঘনিষ্ঠ ছিল না। ইমরানের বাউন্সারে নওয়াজকে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৮ সেনা নিহত

রাজনীতিতে নওয়াজ, ক্রিকেটে ইমরান

১৯৮২ সালে ইমরান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন। এর আগে ১৯৮১ সালে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ শরীফ ১৯৮৫ সালে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী হন। দুজনেরই তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

নওয়াজের ক্রিকেটপ্রেম তখনও অটুট ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত জিমখানায় ক্রিকেট খেলতেন। এমনকি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটও খেলেছিলেন।

১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নওয়াজ শরীফের ক্রিকেটপ্রেম নিয়ে একটি মজার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খানকে না জানিয়ে নওয়াজকে ওই ম্যাচে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক করা হয়। পরে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে টস করতে মাঠে নামেন এবং ব্যাটিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন।

আরও পড়ুন: আঞ্চলিক সংকট সমাধানে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা

শেষ পর্যন্ত নওয়াজ শরীফ দুই বলের বেশি টিকতে পারেননি এবং দ্বিতীয় বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান।

ইমরানের সাফল্যে নওয়াজের ভূমিকা

১৯৮৮ সালে নওয়াজ আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। একই সময়ে ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও সাফল্যের শীর্ষে ওঠে।

১৯৯২ বিশ্বকাপের আগে ইমরানের দল থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ বাদ পড়ার ঘটনায় নওয়াজ শরীফের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক কামার আহমেদ। তবে মিয়াঁদাদ নিজে এ বিষয়ে নওয়াজের ভূমিকা নিশ্চিত করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’ নতুন নজির গড়তে যাচ্ছে

তবে ইমরান খানের আরেকটি বড় প্রকল্প শওকত খানম হাসপাতাল নির্মাণে নওয়াজ শরীফের সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপের আগেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ হাসপাতালের জন্য জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইমরানকে সহায়তা করেন। পরে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর নওয়াজ শরীফ প্রকাশ্যে জানান যে তিনি ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমরান তখন জানান, তাকে এর আগে দুবার রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন না।

তবে মাত্র চার বছর পর, ১৯৯৬ সালে ইমরান খান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরের উষ্ণতায় কচ্ছপের বংশবিস্তার ঝুঁকিতে, পুরুষ কচ্ছপের অভাবের শঙ্কা

রাজনীতিতে আসার আগে নওয়াজ শরীফ আবারও ইমরানকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ইমরানের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াজ তাকে প্রথমে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ এবং পরে জাতীয় পরিষদের ২০টি আসন নিয়ে জোট করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে পি জে মীরের দাবি।

ইমরান অবশ্য সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করতেন।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আবার একসঙ্গে

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ইমরান খান ও তার দল বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন।

কিন্তু ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর জেনারেল পারভেজ মুশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ সরকারের পতন ঘটান। নওয়াজ কারাবন্দি হওয়ার পর সৌদি আরবে নির্বাসিত হন। অন্যদিকে, প্রথমে মুশাররফকে সমর্থন করলেও পরবর্তী সময়ে ইমরানও তার কাছ থেকে দূরে সরে যান।

২০০৭ সালে মুশাররফের আমলে ইমরান কারাবন্দি হন। এরপর লন্ডনে নওয়াজের সঙ্গে ইমরানের সাক্ষাৎ ঘটে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তারা আবারও একজোট হন।

২০০৭ সালের জুনে তারা পারভেজ মুশাররফের শাসনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দেন এবং অল পার্টিজ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টে যুক্ত হন।

কিন্তু সেই জোটও বেশিদিন টেকেনি। নির্বাচন বর্জন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আবারও তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়।

বন্ধুত্ব থেকে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই

২০১১ সালে ইমরান খান নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসেন। তখনও তার প্রধান রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টি। নওয়াজ শরীফের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুরোপুরি বৈরী হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচন সামনে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। নওয়াজ শরীফ ও ইমরান খান বুঝতে পারেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে তাদের লড়াই মূলত একে অপরকে ঘিরেই। এরপর তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও অবস্থান ক্রমেই কঠোর হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওয়াজ শরীফ দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। একই নির্বাচনে ইমরান খান প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। যে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একসময় নওয়াজ তাকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাসভবনের বাসিন্দাই হন ইমরান।

কিন্তু ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বও পূর্ণ মেয়াদ পায়নি। তিনি তার ক্ষমতাচ্যুতির জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকেও দায়ী করেন। নওয়াজ শরীফও এর আগে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরের পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫১৩ মিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


অক্টোবরের পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৫১৩ মিলিয়ন ডলার

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ অক্টোবর) ৫১৩ মিলিয়ন বা ৫১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর মধ্যে ৫ অক্টোবর একদিনেই ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ মাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে (১-৫ অক্টোবর, ২০২৫) রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২২ মিলিয়ন ডলার। এর মানে হলো, গত বছরের তুলনায় চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে ৯১ মিলিয়ন ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১০৪ মিলিয়ন (৯.১০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে প্রবাহিত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর, ২০২৫) এই পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এই সময়ে বছরওয়ারি (ইয়ার-অন-ইয়ার) প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আনবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনজিও ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


এনজিও ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব জরুরি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, এনজিও, বেসরকারি খাত এবং সরকারের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এনজিও খাতে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য সময়সীমাবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সম্মেলন কক্ষে ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের সমাধান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা শুধু শুনতে চাই না, তার কার্যকর রেসপন্স করতে চাই।” তিনি বলেন, মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন। সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে কাজ করছেন। এই অংশীদারত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত রূপ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের সার্বিক সেবা সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনজিওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এনজিওদের টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানান।

শীতলপাটিসহ দেশের স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন এবং মার্কেটিং প্রমোট করতে হবে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রেও চারটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এগুলো হলো- ভ্যালু ফর মানি, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা। অর্থমন্ত্রী বলেন, এই চার শর্ত পূরণ না করলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সেনাপ্রধান ধীরাজের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সেনাপ্রধান ধীরাজের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

এই আলোচনায় ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে জোরদার করার বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর আলোচনা করা হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরও আগে, গত ১১ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত এ ভারতীয় হাইকমিশনার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রয়োজন ফুরালেই কি ফুরিয়ে যায় সম্পর্ক? স্বার্থপরতার নির্মম বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ এম


প্রয়োজন ফুরালেই কি ফুরিয়ে যায় সম্পর্ক? স্বার্থপরতার নির্মম বাস্তবতা

মানুষ সামাজিক জীব, আর এই সমাজে টিকে থাকার জন্য সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তবে বর্তমান যুগে মানুষের সম্পর্কের ধরন এবং মানদণ্ড যেভাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তাতে মনে প্রশ্ন জাগে—সম্পর্ক কি হৃদয়ের বাঁধন, নাকি কেবলই লেনদেনের একটি মাধ্যম? বাস্তবতা কখনো কখনো আমাদের এমন কিছু মানুষের প্রকৃত চেহারা চিনিয়ে দেয়, যাদের একসময় নিজের চেয়েও বেশি আপন বলে মনে হতো। যাদের জন্য অনায়াসে নিজের মূল্যবান সময়, হাড়ভাঙা শ্রম, সাধ্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থকে একপাশে সরিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, সময়ের নির্মম ব্যবধানে তারাই বুঝিয়ে দেয়—কিছু সম্পর্কের আড়ালে আসলে কোনো ভালোবাসা বা অনুভূতি থাকে না, থাকে কেবলই সূক্ষ্ম স্বার্থপরতা।

আমি নিজেও একাধিকবার জীবনসংগ্রামের এই তিক্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি। কারো কঠিন কিংবা সংকটের দিনে নিঃসংকোচে পাশে দাঁড়িয়েছি, নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। বহুবার নিজের তাগিদ কিংবা প্রয়োজনকে পেছনে ঠেলে অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। তখন সরল মনে বিশ্বাস করতাম—মানুষ অন্তত ভালোবাসার খাতিরে হলেও মানুষের পাশে থাকার বিষয়টি মনে রাখে, সহমর্মিতা ও উপকারের কদর করে।

কিন্তু সময়ের চাকা ঘোরার সাথে সাথে সেই ভুল ধারণা ভেঙে চুরমার হতে সময় নেয়নি।

যতদিন আমার মেধা, বুদ্ধি, শ্রম, সামাজিক পরিচিতি কিংবা সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন অন্য কারো ছিল, ততদিন আমি তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলাম। প্রয়োজনের সময়ে ঘন ঘন ফোন এসেছে, মিষ্টি মধুর কথায় পাশে থাকার আকুল অনুরোধ জানানো হয়েছে, খুব আপনজন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ যেই মুহূর্তে প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে কিংবা তাদের স্বার্থসিদ্ধি হয়ে গেছে, অমনি সেই উষ্ণ সম্পর্কের পারদ নিমেষেই হিমাঙ্কে নেমে গেছে।

জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাত ও কষ্ট তখনই লাগে, যখন আবিষ্কার করতে হয়—যাদের বিপদে কোনো প্রতিদানের আশা না করে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, সুযোগ পেলেই আড়ালে তারা আমারই সমালোচনা করছে। সামনে এক রকম মিষ্টতা আর আড়ালে বিষাক্ততা—এই দ্বিমুখী বা দ্বৈত আচরণ মানুষের মনের ভিত নাড়িয়ে দেয়। তখন নিজের অজান্তেই মনে প্রশ্ন জাগে—এই সম্পর্কটা কি আদৌ কোনো সত্যিকারের বন্ধন ছিল, নাকি পুরোটাই ছিল প্রয়োজনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক নাটক?

স্বার্থপর মানুষের সবচেয়ে নির্মম দিক হলো, তারা আপনার অতীত ত্যাগ, ঘাম কিংবা রক্ত জল করা উপকারের কথা কখনোই স্মরণে রাখে না। তারা কেবল বর্তমানের হিসেবনিকেশ কষে—আজ আপনি তার জন্য কতটা দরকারী বা লাভজনক। আপনি যতদিন তাদের কিছু দিতে পারবেন, ততদিন আপনার কদর থাকবে, খাতির থাকবে। আর যখনই আপনার দেওয়ার ক্ষমতা বা সুযোগ কমে আসবে, ঠিক তখনই আপনার অজস্র ভালো কাজগুলো স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে।

এই কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়ে আমি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি—আমি আর কারো কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বা মূল্য প্রমাণ করার লড়াইয়ে নামব না। কাউকে অতীতে করা উপকারের বিনিময়ে কৃত্রিম ভালোবাসা, সহানুভূতির জোড়াতালি কিংবা কোনো কৃতজ্ঞতাও আশা করি না। আমি শুধু এটুকু চাই—সম্পর্ক যদি টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে তা যেন প্রয়োজনের তাগিদে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে অন্য মানুষকে শ্রদ্ধা ও সম্মান দেওয়ার জায়গা থেকে গড়ে ওঠে।

কারণ, যে কোনো সম্পর্কের আসল অগ্নিপরীক্ষা প্রয়োজনের সময়ে নয়, বরং প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর শুরু হয়। যে মানুষটি আপনার কাছ থেকে কোনো বৈষয়িক বা ব্যক্তিগত সুবিধা না পেয়েও আপনার পাশে থাকে—তার মূল্য সত্যিই আলাদা। তাকেই আগলে রাখা উচিত। আর যারা প্রয়োজন মেটার সাথে সাথে আপনাকে দূরে ঠেলে দেয়, তাদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মূল্যবান সময় ও মানসিক শান্তি নষ্ট করার কোনো অর্থ হয় না।

মনে রাখা দরকার, যেকোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার একক দায়িত্ব কখনোই একজনের হতে পারে না। যে জায়গায় আপনার আত্মসম্মানবোধ ক্ষুণ্ন হয়, যেখানে আপনাকে একজন 'মানুষ' হিসেবে না দেখে কেবল একটি 'প্রয়োজনীয় বস্তু' হিসেবে বিবেচনা করা হয়—সেখান থেকে নিঃশব্দে সরে আসাই পরম বুদ্ধিমত্তা ও আত্মসম্মানের পরিচয়। কারো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে যদি আপনার গুরুত্বও ফুরিয়ে যায়, তবে জেনে রাখুন—আপনি কিছুই হারাননি; বরং খসে পড়েছে একটি সম্পর্কের মিথ্যে মুখোশ। আর মাঝে মাঝে এই মুখোশ খুলে যাওয়াটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে কষ্টের, কিন্তু সবচেয়ে সত্য ও শিক্ষণীয় অধ্যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%