ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিক, ধানেও বাড়তি


প্রতি লিটার পানিতে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিক, ধানেও বাড়তি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানবদেহের জন্য প্রতিলিটার পানিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম। তবে, দেশের সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু যশোরের চৌগাছা উপজেলায় এই পরিস্থিতি ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে।

এ উপজেলায় আর্সেনিকের গড় উপস্থিতি ২০ মিলিগ্রাম। এখানকার ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জাপানের জাইকা ও জেএসটি কাজ করছে। সংস্থা দুটির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক সেচ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত ধান উৎপাদনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা সিএসি (কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, ধানের ক্ষেত্রে আর্সেনিকের সহনশীল মাত্রা ০.৩৫ পিপিএম, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু চৌগাছা উপজেলায় আর্সেনিকের উপস্থিতি ৫৬ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের সূত্রে জানা গেছে, ধান ও ভাতে আর্সেনিকের উপস্থিতি সহনশীল রাখতে সেচ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। তারা থ্রিএফফোরডি (তিন দিন জমি ভেজানো, চার দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করছেন। এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।

নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান (সানরাইজ) প্রকল্পের অধীনে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে জাপানের জাইকা ও জেএসটি (জাপান সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় চৌগাছা উপজেলায় আর্সেনিক সহনশীল মাত্রায় নিরাপদ ধান উৎপাদনের জন্য কাজ করছে সংস্থাটি।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে ১২টি মডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। পৌরসভার হুদোপাড়া, চৌগাছা ইউনিয়নের কয়ারপাড়া, সিংহঝুলী ইউনিয়নের মাজালি, ফুলসারা ইউনিয়নের আড়ারদহ, জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া, পাতিবিলা ইউনিয়নের সাদিপুর, হাকিমপুর ইউনিয়নের বকশিপুর, নারায়ণপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর, স্বরূপদাহ ইউনিয়নের স্বরূপদাহ, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের মাকাপুর, ধুলিয়ানী ইউনিয়নের কুষ্টিয়া ও পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের মাঠে ধানে আর্সেনিক প্রতিরোধে প্লট প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে ১৪৪ জন কৃষক এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৬০ জন সেচপাম্প মালিকের অধীনে তাদের নিজ উদ্যোগে আর্সেনিকমুক্ত ধান উৎপাদনে থ্রিএফফোরডি পদ্ধতি আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে তাদের সচেতন করার জন্য সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ ৫ নম্বর ঘাট সড়কে ভ'য়া'ব'হ সড়ক দু*র্ঘ'ট'না!

সংস্থার উপজেলা সমন্বয়কারী আমিরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘আমাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর চাল দিয়ে ভাত খেতে হবে। এ কারণে আর্সেনিকমুক্ত বা সহনশীল মাত্রার আর্সেনিকে ধান উৎপাদন করা জরুরি।’

আমিরুল বলেন, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। তবে মূল বিষয় হচ্ছে ধানের আবাদি জমিতে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। এটি করতে কৃষি পদ্ধতি ও ত্রিএফফোরডি চালু করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে ২০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হচ্ছে। এতে ৮ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ইরি-বোরো মৌসুমে উপরিভাগে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলা হয়। ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ কমে গেলে আর্সেনিকের ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে ধানে আর্সেনিকের পরিমাণ বেশি থাকার ঝুঁকি থাকে।

এ পদ্ধতির মূল কাজ হলো প্রচলিত জলাবদ্ধতার পরিবর্তে তিন দিন জমিতে পানি ধরে রেখে চার দিন শুকানো। এতে মাটির রেডক্স পটেনশিয়াল বেড়ে অক্সিডেটিভ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ কারণে ধানের চারার আর্সেনিক শোষণ কমে যায়। একইসঙ্গে চালে অজৈব আর্সেনিক মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

আরও পড়ুন: মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, ১৩ জনে পাস মাত্র ২

আড়ারহদ গ্রামের প্লটের কৃষক ইমদাদুল হক ও মাজালি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান তপন জানান, ধানে আর্সেনিক থাকতে পারে তা আগে তাদের ধারণা ছিল না। তারা ধানের জমিতে যেভাবে পানি দিতেন, এখন সেভাবে দেন না। এখন থ্রিএফফোরডি পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন তারা।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌসী খাতুন বলেন, ধান বা চালে আর্সেনিকের বিষয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। তবে পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে। বর্তমানে ১১টি ইউনিয়নে ৯০টি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। যেখান থেকে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে পানি পরিশোধনের ভ্যাসেল দেওয়া হচ্ছে।

সহকারী প্রকৌশলী বলেন, ‘চৌগাছা উপজেলায় আর্সেনিকের আধিক্য রয়েছে। আগের প্রতিবেদনে গড়ে ২০ মিলিগ্রাম আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল মিজান রুমী বলেন, আর্সেনিকের রোগীর সংখ্যা সম্পর্কে আপডেট তথ্য নেই। তবে পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপে আমরা জানতে পারি, উপজেলায় আর্সেনিক রোগী রয়েছে ১৫০০। উপজেলা হাসপাতালে এখনো রোগীরা আসছেন। তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মিরসরাইয়ে মাচায় তরমুজ চাষে ৭০ হাজার খরচে লাভ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা

ডা. আহসানুল বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এই রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করলে রোগ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই রোগ অবহেলা করা উচিত নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, ধানে আর্সেনিকের বিষয়ে একটি সংস্থা কাজ করছে বলে জেনেছি। তবে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি। পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। নলকূপে আর্সেনিক ধরা পড়লে পানি শোধনে সরকারিভাবে ভ্যাসেল দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও আরো বলেন, আর্সেনিক সমস্যা এ অঞ্চলে অনেক দিনের। আমরা যে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছি, তার অধিকাংশই এখন নিরাপদ নয়। পানি ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: মধুপুরে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ে মাচায় তরমুজ চাষে ৭০ হাজার খরচে লাভ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


মিরসরাইয়ে মাচায় তরমুজ চাষে ৭০ হাজার খরচে লাভ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকরা সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কৃষকরা প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন। এর ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসময়ের তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার খৈয়াছরা গ্রামের কৃষক মুসলিম উদ্দিন মিয়া খান এক বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মালচিং পদ্ধতিতে চার জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত ক্ষেতের সব তরমুজ। বাজারদর ভালো থাকলে তিনি আড়াই লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছেন।

কৃষক মুসলিম উদ্দিন জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি প্রথমবারের মতো অসময়ের তরমুজ চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও নিজের অর্থায়নে ১৮ শতক জমিতে লিওনা, সুগার কিং, সূর্যডিম ও বিগবাইট জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে চাষের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

শুধু মুসলিম উদ্দিন নয়, খৈয়াছরা ইউনিয়নের সাতজন কৃষক এবার প্রায় ২০০ শতক জমিতে লিওনা, সুগার কিং, সূর্যডিম ও বিগবাইট জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এসব তরমুজের চাহিদা ভালো। বর্তমানে জাতভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকায়। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।

খৈয়াছরা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুরুতে কৃষকদের অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহ কম ছিল। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা দেখে এখন অন্যান্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবার চারটি অসময়ের তরমুজ প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ শতক জমিতে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মাত্র ৬০-৭০ দিনে ফসল ঘরে তুলে একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের কাছে লাভজনক হয়ে উঠছে অসময়ের তরমুজ আবাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাথরুমে পড়ে গিয়ে জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় গ্তার আকস্মিক মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


বাথরুমে পড়ে গিয়ে জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় গ্তার আকস্মিক মৃত্যু

বলিউডের গ্যাংস্টার ড্রামা ও অ্যাকশন থ্রিলার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য পরিচিত প্রখ্যাত পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৭ বছর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রাতে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান এই নির্মাতা। বিষয়টি প্রথমে কেউ টের না পেলেও পরদিন ভোরে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে ভারসোভা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অপমৃত্যুর মামলা (অ্যাকসিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট) দায়ের করেছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক সূত্র ছাড়াও তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও নির্মাতা মিলাপ জাভেরি মৃত্যুর এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। নির্মাতা অশোক পণ্ডিত সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সঞ্জয় গুপ্ত অনু লেখির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের মধ্যে একবার বিচ্ছেদ ঘটলেও পরবর্তীতে তারা আবার পুনর্মিলিত হন। উল্লেখ্য, সঞ্জয় গুপ্ত তার ২৫ বছরের কর্মজীবনকে ‘সাফল্য ও ব্যর্থতার মিশেল’ বলে বর্ণনা করেছেন। পেছনের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ার ঘুরে দাঁড়াতে পেরে তিনি খুশি।

১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। এরপর ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘কাঁটে’ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অমিতাভ বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত, সুনীল শেঠি, লাকি আলী এবং মহেশ মাঞ্জরেকারের মতো তারকাখচিত এই সিনেমাটি তাকে গ্যাংস্টার-থ্রিলার ধারার নির্মাতা হিসেবে শক্ত অবস্থান এনে দেয়।

‘কাঁটে’ সিনেমার পর বেশ কিছু সময় দারুণ কাটলেও পরবর্তীতে সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে মনমালিন্যের কারণে প্রায় চার বছর কাজহীন সময় পার করতে হয় তাকে। সঞ্জয় গুপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর বলিউডের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ তার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

সেসময় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে চলচ্চিত্র নির্মাণ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। মানসিক অবসাদ দূর করতে তিনি খান্দালার একটি হোটেলে সপ্তাহে চার দিন চাকরিও শুরু করেছিলেন, কারণ তার মনে হয়েছিল সিনেমা জগতে তার আর কাজের সুযোগ নেই।

তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার ঘরে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যখন তাকে কোলে নিয়ে ভাবছিলাম—আমি ওর জন্য কী রেখে যাব? আমি তো ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ শুরু করেছি এবং ২২ বছর বয়সে প্রথম ছবি বানিয়েছি, তাহলে এখন ৪০ বছর বয়সে এসে আমি কেন হাল ছেড়ে দেব?’

এরপর তিনি প্রযোজক একতা কাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরির প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ দিয়ে দুর্দান্ত কামব্যাক করেন সঞ্জয় গুপ্ত।

এরপর ২০১৫ সালে ‘জাজবা’ এবং ২০১৭ সালে হৃতিক রোশনকে নিয়ে ‘কাবিল’ সিনেমা উপহার দেন। পরবর্তীতে ‘মুম্বাই সাগা’, ‘বিসফট’ এবং ‘দ্য মিরান্ডা ব্রাদার্স’-এর মতো প্রোজেক্টেও কাজ করেছেন তিনি। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে পুরো বলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি যুবকের আত্মসমর্পণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


কুয়েতে ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি যুবকের আত্মসমর্পণ

কুয়েতে এক ইয়েমেনি নাগরিককে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশি এক প্রবাসী আত্মসমর্পণ করেছেন পুলিশের কাছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে তিনি দেশটির শার্ক থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পুলিশ তাকে আটক করেছে এই ঘটনার জন্য।

কুয়েতের সংবাদমাধ্যম ‘আরব টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া ওই বাংলাদেশি ভোরে শার্ক থানায় উপস্থিত হয়ে কর্তব্যরত কর্মকর্তার কাছে হত্যার কথা জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সময় তাকে ভীত ও উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজন দাবি করেন যে, নিহত ইয়েমেনি নাগরিক তার শরীরে পানি ছিটিয়েছিলেন। এই ঘটনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে আক্রমণ করেন এবং তার গলা কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে কুয়েতের মুতলা শহরের একটি স্থাপনার ভেতর থেকে ১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া এক ইয়েমেনি নাগরিকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশি সন্দেহভাজনের স্বীকারোক্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন। পরে সেখানে পাবলিক প্রসিকিউশন, অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও ফরেনসিক দলের সদস্যরা পৌঁছে আলামত সংগ্রহ এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আগে থেকেই নিজ আবাসস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে নথিভুক্ত ছিলেন। তাকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ ও কথিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পটিফাইয়ের সেরা ৫০ গানে পাকিস্তানের ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


স্পটিফাইয়ের সেরা ৫০ গানে পাকিস্তানের ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে

গান ‘আলফাজ’ পাকিস্তানি সংগীতাঙ্গনের জন্য নতুন এক সাফল্য নিয়ে এসেছে। হামজা মালিক ও জাইন-জোহাইবের গাওয়া গানটি স্পটিফাইয়ের বিশ্বব্যাপী সেরা ৫০ গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এটি ভারত ও পাকিস্তানের দৈনিক সর্বাধিক শোনা গানের তালিকাতেও শীর্ষস্থান দখল করেছে।

গত বুধবার প্রকাশিত স্পটিফাইয়ের বৈশ্বিক সেরা ৫০ গানের তালিকায় ‘আলফাজ’ ৩৯ নম্বরে ছিল। একই তালিকায় অলিভিয়া রদ্রিগো ৬ নম্বরে, জাস্টিন বিবার ও নিকি মিনাজ ১৫ নম্বরে, হ্যারি স্টাইলস ২৮ নম্বরে এবং মাইকেল জ্যাকসন ৩৪ নম্বরে অবস্থান করছেন। বিশ্বখ্যাত এসব শিল্পীর সঙ্গে একই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া গানটির জন্য এটি একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উর্দু ও পাঞ্জাবি ভাষার মিশ্রণে তৈরি গানটি ইতোমধ্যে দুই দেশের শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। স্পটিফাইয়ের ভারত ও পাকিস্তানের সেরা ৫০ গানের তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ‘অফিশিয়াল এশিয়ান মিউজিক চার্ট’-এও এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। সেখানে গানটি এমএক্সআরসিআই ও করণ আউজলার ‘স্ট্রেইট আপ’ গানটিকে পেছনে ফেলেছে।

‘আলফাজ’ সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জিরাফের তৈরি। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার জে খান, যিনি এক্সুলফি নামে পরিচিত। গানটির সাফল্যকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একটি গান সঠিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছালে তা কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, ‘আলফাজ’ তারই উদাহরণ।

এর আগে গত বছর শেহরিয়ার রেহান ও জোয়া ওয়াসিমের ‘মজবুর’ গানটির মাধ্যমেও সাফল্য পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। গানটি পাকিস্তানের স্পটিফাই তালিকায় শীর্ষে এবং ভারতের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছিল। ‘আলফাজ’-এর সাফল্যে এবার আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পাকিস্তানি শিল্পীদের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%