১০:১৩ পি.এম
রাজশাহীর তানোর এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রাণ বৈচিত্র্যের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বৃক্ষরোপন ও তাল বীজ বপনের কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ১০ লক্ষ দেশি প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধী বৃক্ষের বীজ বপনের লক্ষ্যে রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ গ্রামের ২ কিলোমিটার রাস্তায় তাল বীজ বপন করে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, গ্রিন কোয়ালিশন এবং তালন্দ আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে বৃক্ষরোপন ও তাল বীজ বপনের উদ্বোধন করেন জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি গবেষক ও গ্রিন কোয়ালিশন তানোর উপজেলার আহবায়ক কৃষক নুর মোহাম্মদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মৃনাল কুমার পাল, মনিরা খাতুন, জয়ন্তী রানীসহ স্কুলটির সকল শিক্ষক এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: পাঁচ শিক্ষকেই ৫ শত ৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়
দুপুরে স্কুল ছুটির পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, এলাকার কৃষক ও কৃষাণীরা, গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্যরা মিলে তালন্দ গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে দুই হাজার তাল বীজ, এক হাজার দেশি বড়ই বীজ, পাঁচশত নিম বীজ, তেঁতুল বীজ একশত, দেশি খেজুর দুইশত, কাঠালে বীজ একশত পঞ্চাশ এবং প্রায় চারশত জামের বীজ বপন করেন। উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত স্বশিক্ষিত কৃষি গবেষক ও গ্রিন কোয়ালিশন তানোর উপজেলার আহবায়ক কৃষক নুর মোহাম্মদ মন্তব্য করেন “বরেন্দ্র অঞ্চলে আগে অনেক তাল খেজুরের গাছ ছিলো। এই গাছগুলো বর্জ্যপাতরোধী এবং পরিবেশ বান্ধব, এই গাছগুলোতে নানা ধরনের পাখি বাসা বাঁধতো, বিশেষ করে বাবুই পাখির বাসা বেশি বাধতো।"
তিনি আরও বলেন, "দেশি গাছ কমে যাওয়ায় পাখিসহ মানুষের খাদ্যবৈচিত্র্য যেমন কমেছে তেমনি আমাদের পাখিদের বাসাবাধার জায়গাও কমে গেছে।" জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত এই কৃষক বরেন্দ্র অঞ্চলে তাল খেজুর গাছ কাটা বন্ধের দাবি জানান। তালন্দ আনন্দমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃনাল কুমার পাল জানান- “গাছ থাকলে পরিবেশ ভালো থাকে, কিন্তু গাছ কমে যাবার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েছে এবং বৃষ্টিপাতও কমেছে আগের তুলনায়।”
তিনি আরও দাবি করেন- বরেন্দ্র অঞ্চলে বড় বড় বা শতবছরী বৃক্ষগুলো সুরক্ষা করা প্রয়োজন সরকারের পক্ষ থেকে। বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বলেন- “বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের বৃক্ষবৈচিত্র্যও বিদ্যমান, সেই বৃক্ষ এবং প্রাণবৈচিত্র্যের মধ্যে দিয়েই সেই অঞ্চলের খাদ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য গড়ে ওঠে এবং টেকসই হয়, কিন্তু এইসকল বৈচিত্র্য কমে গেলে পরিবেশ এবং বাস্তুসংস্থানিকসহ নানা ধরনের সংকট তৈরী হয়।”
তিনি বরেন্দ্র অঞ্চল কেন্দ্রিক ভৌগোলিকতা গুরুত্ব দিয়ে সরকারসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের দাবি জানান। যাতে বিদেশী আগ্রাসী বৃক্ষরোপন বা বীজ বপন না করা হয়। বীজবপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার (কৃষি) অমৃত কুমার সরকার, সহযোগী প্রোগ্রাম অফিসার উত্তম কুমার সরকার, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান প্রমূখ।
আরও পড়ুন: জিয়ানগরে অগ্নিকান্ডে ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন এমপি মাসুদ সাঈদী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন