ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় মানবিক উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষার প্রস্তাব


সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় মানবিক উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষার প্রস্তাব

মোশতাক আহমদ

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা দায়ের করা যাবে না। এমনকি আহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাতেও কেবল তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্ধারকারীকে দায়ী করা যাবে না।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মানুষের জীবন রক্ষা এবং উদ্ধারকাজে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০২৬ (খসড়া)-এ ‘গুড সামারিটান’ বা মানবিক উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন

দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে পরিচিত। এই সময়ের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা গেলে প্রাণহানি ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তবে পুলিশি ঝামেলা, মামলা কিংবা আদালতে হাজিরার ভয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষ আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে আগ্রহী হন না।

ফলে, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে উদ্ধারকারীর আইনি সুরক্ষা, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

আরও পড়ুন: আখতার: পদ্মার পানি বণ্টনে ন্যায্য হিস্যার জন্য এক বিন্দুও ছাড় দেবে না বাংলাদেশ

বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬২ ধারায় দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের চালক, কন্ডাক্টর বা তাদের প্রতিনিধিকে দুর্ঘটনার খবর নিকটস্থ থানায় জানানোর পাশাপাশি আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সাধারণ নাগরিকের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট আইনি সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বাসসকে বলেন, “দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন আইনি জটিলতার ভয়ে পিছিয়ে না যায, সে জন্য কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই গুড সামারিটান সুরক্ষার প্রস্তাবটির মাধ্যমে উদ্ধারকারীকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সৎ উদ্দেশ্যে মানবিক বিবেচনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার, প্রাথমিক সহায়তা প্রদান কিংবা হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেই সহায়তার ফলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি বা মৃত্যুর জন্য তাঁকে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় দায়ী করা যাবে না।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান বাসসকে বলেন, মানবিক কারণে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলে তা জনসাধারণকে উদ্ধারকাজে উৎসাহিত করতে পারে। তবে প্রকৃত মানবিক সহায়তা এবং ইচ্ছাকৃত ক্ষতি বা গুরুতর অবহেলার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে আইনে সুরক্ষার পরিধি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে হ্যান্ডকাফসহ মাদক কারবারির পলায়ন

প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কমিউনিটি ভলান্টিয়ার ও অ্যাম্বুলেন্স টিম গঠনের কথা বলা হয়েছে। এসব দল দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করবে।

পাশাপাশি, আহত ব্যক্তিকে উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়া এবং গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলোকে জরুরি অবস্থায় আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার আওতায় আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৬২ ধারায় দেশব্যাপী টোল-ফ্রি টেলিফোন নম্বর চালুর বিধান রয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, চালক, মালিক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবার জন্য সহায়তা চাইতে পারবেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের শোক, সেনাসদস্য তিতাসের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ

তবে কার্যকর উদ্ধারব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সক্ষমতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০২৬-এর খসড়ায় দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে। ভুল নকশা বা অনিরাপদ অবকাঠামোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পথচারীদের নিরাপত্তায় ফুটপাত, নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, শিশু পরিবহনে নিরাপত্তা বিধিমালা প্রণয়ন এবং সাইকেল আরোহীদের জন্য পৃথক লেন তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।

আরও পড়ুন: নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সার্বভৌমত্ব র‍্যালিতে হেঁটে প্রধানমন্ত্রী

নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের উপযোগী সড়ক ও গণপরিবহন নিশ্চিত করার বিষয়টিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু চালকের ভুল বা অসতর্কতাকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যানবাহনের কারিগরি অবস্থা, গতিসীমা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের শাস্তিরও বিধান রয়েছে। আইনের ৯৮ ধারায় বেপরোয়া চালনা, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহনের কারণে দুর্ঘটনায় জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ১০৫ ধারায় বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত চালনায় গুরুতর আহত বা প্রাণহানির ঘটনায় নির্ধারিত শর্তে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আরও পড়ুন: অভাবের কারণে স্ত্রীকে ভাড়া দিলেন মিজান, আটক দম্পতি

সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত নতুন আইনের অন্যতম লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গুড সামারিটান সুরক্ষা কার্যকর হলে দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে সাধারণ মানুষের ভয় ও দ্বিধা কমবে।

তবে এ সুরক্ষার অপব্যবহার রোধে সৎ উদ্দেশ্যে সহায়তার শর্ত, ইচ্ছাকৃত ক্ষতি ও গুরুতর অবহেলার ক্ষেত্রে দায় এবং উদ্ধারকারীর পরিচয় সংগ্রহের প্রক্রিয়া আইনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে চালক, পথচারী কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর তাৎক্ষণিক উদ্যোগ একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই শাস্তির পাশাপাশি নিরাপদ অবকাঠামো, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এবং মানবিক উদ্ধারকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেই কার্যকর সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত

জামালপুরের মেলান্দহে একটি দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বৈঠাখালী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বৈঠাখালী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুর শহরের দিকে যাচ্ছিল। বৈঠাখালী এলাকায় পৌঁছানোর পর পেছন থেকে জামালপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এতে তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধার ও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এদিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের ৮ বছর পর অবিবাহিত সেজে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


বিয়ের ৮ বছর পর অবিবাহিত সেজে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিয়ের আট বছর পর তথ্য গোপন করে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে।

এছাড়াও, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিবাহিত ওই নারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে অবিবাহিত দেখানোর অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

অভিযুক্ত তরুণী হলো উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের লহনী গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আফছানা মিমি। তার স্বামী একই উপজেলার পায়রাবন্দ সদরপুর গ্রামের দুলু মিয়ার পুত্র মো. খায়রুল ইসলাম।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগের সার্কুলার প্রকাশিত হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সৈনিক পদে আবেদন করেন প্রার্থীরা। সার্কুলার অনুযায়ী অবিবাহিতদের আবেদনের কথা উল্লেখ থাকলেও বিবাহের তথ্য গোপন করে সৈনিক পদে আবেদন করেন আফছানা মিমি।

অভিযোগ রয়েছে যে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পুলিশ প্রতিবেদনে মিমিকে অবিবাহিত দেখায় তদন্তকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে অভিযুক্ত আফছানা আক্তার মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন।

আফছানা মিমির স্বামী খায়রুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ হয়। তিনি বলেন, "এসএসসি পাশ করার পরে গাজীপুরের হাতীমারা কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করিয়ে দিই আমার স্ত্রী আফসানা মিমিকে। এরপরেই সে অবাধ্য হয়ে জীবনযাপন শুরু করে।"

তিনি আরও বলেন, "অনেক চেষ্টার পরেও সমাধান না হওয়ায় ২০২৩ সালে গ্রামে নিয়ে আসি। তারপর থেকেই সে শ্বশুরবাড়িতে থাকতো। গত ৩ বছরে একাধিকবার বিচার সালিশেও সমাধান মিলেনি। এর মধ্যে আমাকে না জানিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিতে গোপনে যোগদান করে। এজন্য আমি বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল তাকে তালাক দিয়েছি।"

‎

অভিযুক্ত তরুণীর মা রুপালী বেগম বলেন, "আমার মেয়ে অনেক ছোট থাকায় খায়রুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম। খায়রুল আমার মেয়েটাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করতো। আর্মির চাকরির জন্য আবেদন করার পর চাকরি হয়ে যায়। আমার মেয়ে এখন সিরাজগঞ্জে ট্রেনিংয়ে আছে। আমরা চাকরি হওয়ার কথা কাউকে বলিনি। বাড়ির আশেপাশের লোকও কেউ জানে না।"

১ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের রিপোর্টে অবিবাহিত দেখানোর বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমরা এত টাকা দিইনি। তদন্তকারী অফিসারকে নিয়ম অনুযায়ী ৪ হাজার টাকা দিয়েছি। আর খায়রুলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হলেও কাবিননামা হয়নি। এজন্য কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের বিষয়ে কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।"

এ সময় প্রতিবেদককে সংবাদ না প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেন অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমির মা রুপালী বেগম।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণী আফছানা মিমি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসে ট্রেনিংয়ে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিবাহিত নারীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনে অবিবাহিত দেখানোর ডিএসবির সেই অভিযুক্ত এসআইয়ের তথ্য নিতে গেলে রংপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, "পুলিশ ভেরিফিকেশন গোপনীয় জিনিস। ভেরিফিকেশন করা কর্মকর্তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ নেই। আমি কয়েকদিন আগেই ডিএসবির অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।"

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আগামীকাল রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।

এদিকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, দিবসটি উপলক্ষে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু রয়েছে। ফলে বৈধ পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্রধারী যাত্রীরা স্বাভাবিক নিয়মে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতে পারছেন।

উল্লেখ্য, বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যতম প্রধান স্থলবাণিজ্য পথ। এ পথে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যাত্রী যাতায়াত হয়ে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩১ পি.এম


জামালপুরে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী

জামালপুরের মেলান্দহে একটি ট্রাকের চাপায় তিনজন যাত্রী নিহত হয়েছেন, যাঁরা একই পরিবারের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীও আহত হয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শিমুলতলী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%