মোঃ নাজির, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
১০:৫৯ এম
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন মহোদয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রচার চলছে। সিভিল সার্জন মহোদয় এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন এবং পাল্টা দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধেপ্রবীণ নার্সের বয়স জালিয়াতির বিষয়টি রয়েছে। সিভিল সার্জনের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট নার্সের সনদে ঘষামাজা করে তিনি প্রায় ৮ বছর অতিরিক্ত চাকরি করে সরকারের ৫৬ লক্ষ টাকা বেশি নিয়েছেন।
এই টাকা, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়েছিল। তবে, এখন এটি ভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি একটি বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতে জড়িত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং যাবতীয় কাগজপত্র নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে বসছেন। রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য সভায় ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ আন্ত শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, একাদশে ভর্তি কার্যক্রম চূড়ান্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তি কার্যক্রমের খসড়া রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং ১২ নভেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে এবারও অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগের মতোই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবে এবং স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তাদের আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ১১টির শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাইক নুন পেশায় একজন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ট্রাভেল ব্লগার। তাঁর বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বস্টনে।
তিনি ভারতে বেড়াতে এসেছেন। কিন্তু বেড়ানোর পঞ্চম দিনেই তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাকে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। তবে ভারতের কারো কোনো দায় নেই এতে।
ওড়িশার সেই মজার মজার স্থানীয় খাবার দেখে লোভ সামলাতে পারেননি মাইক। তিনি খেয়ে ফেলেছেন বেশি, আর সেটাই তার কাছে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টানা ১২ ঘণ্টা ধরে ১৫ মিনিট পরপর বমি করে মাইক কাহিল হয়ে পড়েন।
অবশেষে, তাকে ওড়িশার একটি স্থানীয় গ্রামীণ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে বমি কমানোর ঔষধ আর পানিশূন্যতা প্রতিরোধে স্যালাইন দেওয়া হয়। এই মার্কিন পর্যটকের হাসপাতালে কাটানো অভিজ্ঞতাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তিনি ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ওড়িশার মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে মুগ্ধ।
হাসপাতালের বিছানায়েই, মাইক নিজের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানান। স্যালাইন নিয়েছেন এবং বমি বমি ভাব কমানোর ঔষধ নিচ্ছেন, এ বিষয়ে তিনি সুঁই ফোটানো নিয়ে রসিকতা করেন। ‘আমেরিকান হসপিটালাইজড ইন ইন্ডিয়া’ শিরোনামে এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ‘ভারতে আজ আমার পঞ্চম দিন, আর এর মধ্যেই আমি হাসপাতালে। আমি গ্রামীণ একটি সরকারি হাসপাতালে আছি, শরীরজুড়ে সুঁই ফোটানো ছিল, এমনকি দেয়ালের ভাষাও আমি চিনতে পারছিলাম না।’
তবে ট্রলকারীরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে ভারতকে সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে, এমন উদ্বেগ থেকে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, ‘থামুন, থামুন, থামুন। আমি বুঝতে পারছি আপনারা ওখান থেকে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছেন। এটি কোনো ফুড পয়জনিং ছিল না; এটি ছিল অতিরিক্ত খাওয়া। খাবার এতোটাই চমৎকার ছিল যে আমি বোকার মতো বেশি খেয়ে ফেলেছিলাম, আর তার মাশুল দিতে হয়েছে নিতম্বে একটি নয় বরং দুইটি ইনজেকশন নিয়ে।’
হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার পর, তার মাথায় ছিল বিলের চিন্তা। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, বিলের কথা চিন্তা করে আমি সত্যিই শিউরে উঠেছিলাম। কারণ, আমার নিজের দেশে আমেরিকায় একটি স্যালাইনের ব্যাগ, বমি কমানোর ঔষধ এবং নিতম্বে দুটি ইনজেকশনের জন্য সহজেই কয়েক হাজার ডলার খরচ হয়ে যেত।’ তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে আরো যোগ করেন, ‘এর পরিবর্তে, এই সমাজতন্ত্রীরা আমার কাছ থেকে একটি পয়সাও নেয়নি। এটা দেখে তো আমি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সত্যি এটা সম্পূর্ণ ফ্রি।’
মাইকের ভিডিওটি ৪ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষ দেখেছেন। শত শত মানুষ মন্তব্য করেছে। এসব মন্তব্যে ভারত এবং আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ভারতের মানুষের আন্তিরকতা ও আতিথেয়তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, 'বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, অসাধারণ একটি ধারণা।’ অন্য একজন যোগ করেছেন, ‘ওহ না! খুবই দুঃখিত মাইক! আশা করি আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন! ভালো লাগল যে অসুস্থ থাকার পরও আপনার রসবোধ অক্ষুণ্ণ রয়েছে।’ আরেকজন মাইককে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আপনি যে খাবারগুলো খাচ্ছেন সেগুলোর সাথে আপনার পেটকে মানিয়ে নিতে সবসময় স্থানীয় ফল ও দই দিয়ে শুরু করুন। খেয়াল রাখবেন যেন বেশি ঝাল না হয়ে যায়। হালকা খাবার দিয়ে শুরু করুন।’ আরেকজন বলেছেন, ‘ওড়িশায় আপনাকে স্বাগতম। ভাই, এটা সম্পূর্ণ ফ্রি। ওষুধের জন্য আপনার সামান্য কিছু খরচ হতে পারে, সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন ডলারের মতো।’
তবে এই মন্তব্যের জবাবে এক ভারতীয় চিকিৎসক মজা করে লিখেছেন, ঔষধের জন্য যে দুই-তিন ডলারের কথা বলা হচ্ছে, সেটা যদি আপনার কাছে না থাকত, তবে আমাদের ডাক্তার বা নার্সরা নিজেদের পকেট থেকে ওই টাকা দিয়ে দিত। এই নিয়মই ভারতের সরকারি হাসপাতালে।
ভিডিওতে মাইক ব্যঙ্গ করে ভারতীয় চিকিৎসকদের ‘সমাজতন্ত্রী’ বলে আখ্যা দেন, কারণ তারা কোনো টাকা নেননি। এই মন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী এবং ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে একটি সরাসরি কটাক্ষ হিসেবে গৃহীত হয়, যা আন্তর্জাতিক ভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেক আমেরিকান নাগরিক মাইকের সুরে মন্তব্য করেছেন। একজন লেখেছেন, ‘তুমি যদি এই চিকিৎসা আমেরিকায় করাতে, তবে সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের বিল দেখে তোমার আবার হার্ট অ্যাটাক হতো!’
অন্য এক বিদেশি পর্যটক তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আমি ভারতে একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ওখানকার চিকিৎসকেরা যেভাবে পরম যত্নে এবং নামমাত্র খরচে চিকিৎসা করেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’ ওড়িশার এক বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের ওড়িশায় অতিথি ঈশ্বরের সমতুল্য। আপনি সুস্থ হয়েছেন এটাই আমাদের বড় পাওনা, এখানে এসে কখনো বিলের চিন্তা করবেন না।’
সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার পর মাইক নুন ‘ওড়িশার জয় হোক’ শিরোনামে আরেক পোস্টে ওড়িশার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধতার কথা বলেছেন এবং ওড়িশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের ১১০টি দেশের আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল নতুনভাবে ‘থ্রেট নোটিফিকেশন’ বা হুমকি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। এই সতর্কবার্তাটি বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের ডিভাইসগুলো অত্যাধুনিক ‘মারসিনারি স্পাইওয়্যার’ বা ভাড়াটে নজরদারি সফটওয়্যার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।
অ্যাপল জানিয়েছে, সাধারণ সাইবার হামলার ক্ষেত্রে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয় না। এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অত্যন্ত উন্নত ও গুরুতর স্পাইওয়্যার হামলার আলামত শনাক্ত হলে জরুরি ভিত্তিতে বার্তা প্রেরণ করা হয়।
মারসিনারি স্পাইওয়্যার বলতে বোঝানো হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষ নজরদারি সফটওয়্যার, যা সাধারণত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও মানবাধিকার কর্মী এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়। ২০২১ সালে এই নোটিফিকেশন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে অ্যাপল মোট ১৫০টিরও বেশি দেশের ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে। তবে নতুন উদাপ্তিতে কতজন আইফোন ব্যবহারকারী এ নোটিফিকেশন পেয়েছেন, সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অতীতে প্রদত্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে এবারের বড় তফাত হচ্ছে এর বিতরণ পদ্ধতি। পূর্বে কেবল ই-মেল এবং অ্যাপল আইডি অ্যাকাউন্ট পেজে এই বার্তাগুলো পাওয়া যেত, কিন্তু এবার সরাসরি আইফোনের লকস্ক্রিন ও সেটিংস অপশনে ‘পুশ নোটিফিকেশন’ আকারে বার্তাটি ভেসে উঠছে। ফলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন।
অ্যাপল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এমন সতর্কবার্তা পেয়ার মানে এটি নয় যে আইফোনটি নিশ্চিতভাবে হ্যাক হয়েছে। তবে এদের অ্যালার্ট ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করে। তদন্ত প্রক্রিয়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল গোপন রাখতে হামলাকারী বা সহায়তাকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশের নাম কখনো প্রকাশ করে না অ্যাপল।
সতর্কবার্তাটি আসল না ভুয়া—এ বিষয়ে অনেক ব্যবহারকারীর মধ্যে বিভ্রান্তি হতে পারে। অ্যাপল নির্দেশনায় জানিয়েছে, আসল সতর্কবার্তায় কখনোই কোনো লিংকে ক্লিক করা, নতুন ফাইল বা প্রোফাইল ইনস্টল করা কিংবা পাসওয়ার্ড ও ভেরিফিকেশন কোড দেওয়ার নির্দেশনা থাকলে না। সততার যাচাইয়ের জন্য সরাসরি ব্রাউজারে account.apple.com ঠিকানায় সাইন ইন করলে অ্যাকাউন্ট পেজের ওপরের অংশে সতর্কবার্তাটি দেখা যাবে।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যবহারকারীদের খুব দ্রুত আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করার পাশাপাশি ‘লকডাউন মোড’ চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, লকডাউন মোড সক্রিয় থাকাকালীন এখন পর্যন্ত কোনো ডিভাইসে সফলভাবে স্পাইওয়্যার সংক্রমণের নজির উল্লিখিত হয়নি। পরিস্থিতি গুরুতর মনে হলে ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন কিংবা বিশেষজ্ঞ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণ করার বিষয়ে অ্যাপল উল্লেখ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের টেস্ট খেলার খুব একটা সুযোগ হয় না, কারণ অস্ট্রেলিয়া বড় দল। শেষবার বাংলাদেশের টাইগাররা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল ২০১৭ সালে, যখন তারা ঘরের মাঠে অজিদের বিরুদ্ধে খেলেছিল। সেই সময় মিরপুরে তারা টেস্ট ম্যাচ জিতে অজিদের বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে লাল বলে জয়ের খরা কাটিয়েছিল। তবে, অপেক্ষা ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের, যা বাংলাদেশ দলের জন্য দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা ছিল।
বাংলাদেশ দলকে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০৩ সালের পর এবারই প্রথমবার অজিদের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেল লিটন-শান্তরা। সেই সুযোগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বাজিমাত করেছে। শান্ত বাহিনী স্বাগতিকদের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে।
ডারইউনে আগে ব্যাটিং করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রান করেছে। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা ২৮৪ রানে অলআউট হলে টাইগারদের জন্য ৫৬ রানের মামুলি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ ৯ উইকেটসহ পুরো এক দিন বাকি থাকতেই সেই লক্ষ্য পূরণ করে জয় তুলে নিয়েছে।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের তানজিদ তামিম শুরুতেই সাজঘরে ফিরে যান। দ্বিতীয় ওভারে তিনি হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হন। তবে, দলে নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে মুমিনুল ও সাদমান ইসলাম জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। মুমিনুলের ৩০ রান এবং সাদমানের অপরাজিত ২৫ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে বড় জয় পায়।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চার দিনের খেলা শুরু করে। ৭২ বলে ৩০ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ টানা আরও ২টি উইকেট তুলেছিলেন।
২১ বলে ৫ রান করা বিউ ওয়েবস্টার এবং ৩২ বলে ৮ করা অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও বিদায় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এক প্রান্ত আগলে ক্যামেরন গ্রিন লড়াই চালিয়ে গেছেন। তিনি রান বের করতে সক্ষম হন। সুযোগ বুঝে তিনি বাউন্ডারি হাঁকান। তিনি ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেছিলেন। আরেক প্রান্তে উইকেট পড়লেও গ্রিন অটল থেকে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
ক্যামেরন গ্রিনকে শেষ দিকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। দুজনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের লিড ছাড়িয়ে নিজেদের লিড নেয়। গ্রিন এবং স্টার্ক দুজনেই লড়াই চালিয়ে যান এবং উইকেটের চারপাশে দারুণ শট খেলে রান তৈরি করতে থাকেন।
তবে স্টার্ক ইনিংস লম্বা করতে পারেননি এবং ৩৪ বলে ১৮ রান করে আউট হন। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন সেঞ্চুরি তুলে নেন। সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ পিচে থাকতে পারেননি তিনি এবং হাসান মাহমুদরের বলে ২০১ বলে ১০৪ রান করে বোল্ড হয়ে যান। অজিরা এই পরিস্থিতে চাপে পড়ে যায়। শেষ দিকে নাথান লায়ন হ্যাজেলউডের সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করে, কিন্তু মিরাজের বলে লেগ বিফোর হয়ে আউট হন। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য ৫৬ রান চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ হয়।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকার করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়াও হাসান মাহমুদ তিনটি ও তাসকিন ও তাইজুল মিলে বাকি দুটি উইকেট নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ