০৫:৪১ পি.এম
নওগাঁর মান্দায় এলজিইডির এক কার্যসহকারীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে (৯ আগস্ট) পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মান্দা থানায় মামলা করেছেন। এ মামলায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে, উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের বিমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮), এবং বড়পই গ্রামের তছির আলীর মেয়ে তানজিমা খাতুন (৪৪)। মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট সকালে কুসুম্বা মসজিদের কাছে ওই কর্মচারীকে কয়েকজন ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যান। তারা চা খাওয়ার কথা বলে তাকে একটি টিনশেডের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে চা ও সিগারেট খাওয়ার পর মাথা ঘুরতে শুরু করলে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কক্ষে নগ্ন এক নারী তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন এবং এসব দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন এক ব্যক্তি। এতে আপত্তি জানানোর পর অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে জোর করে তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৯০০ টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। পরে আরো ১ লাখ ২০ হাজার টাকার জন্য তার সই করা একটি চেকে ওই পরিমাণ টাকা লিখে নেওয়া হয়। আরেকটি চেকে টাকার অঙ্ক ফাঁকা রেখে সই নেওয়া হয়। এছাড়া তার চেক বইয়ের অবশিষ্ট পাতাগুলো এবং তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পেও সই নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। পরদিন ৯ আগস্ট ওই চেকটি দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য মান্দা উপজেলার সতিহাটে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যান অভিযুক্তরা। এর আগে ভুক্তভোগী ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই হিসাবের লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন। ফলে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারছিল না অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আরো দুজন পালিয়ে যায়। পুলিশ ব্যাংক থেকে ভুক্তভোগীর সই করা চেকটি জব্দ করে। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামি ও তাদের সহযোগীরা গত ৭ আগস্ট ফয়জুল মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে একই কায়দায় ট্র্যাপে ফেলে ৬০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যানড্রয়েড ফোন কেড়ে নেয়। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ওসি আরো জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের সোমবার (১০ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন