বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, "মানবিকতার তাগিদেই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের ভার একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সংকটের উৎপত্তি যেহেতু মিয়ানমারে, এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংকটের স্থায়ী সমাধান, বিচার ও জবাবদিহি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
তারেক রহমান বলেন, "দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন।" ২০১৭ সালে সহিংসতার পর সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু মিয়ানমারে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা রাখাইন রাজ্যে পুনঃএকীভূত হতে পারে।
তবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিস্থিতির কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তিনি বলেন, "দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা মানবপাচার, মাদকপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।"
তারেক রহমান বলেন, "মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বাড়লেও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে।" ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা চাওয়া হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার বিকল্প হতে পারে না।" তিনি সতর্ক করেন যে, অনির্দিষ্টকাল ধরে শুধু বাংলাদেশকেই এ দায়িত্ব বহন করতে বলা যায় না।
তিনি জানান, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, জোরপূর্বক শ্রমসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি- উভয়ের বিরুদ্ধেই গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং মানবপাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক।" নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হলে তাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে দেশটি সরে আসবে না।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি এই বক্তব্য দেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্যও তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন।
মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং মিনাবের স্কুলশিক্ষার্থীদের ছবি তুলে ধরেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রথম দিনে নিহত হয়।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র লামের্দ এলাকায় ইরানি শিশুদের ওপর ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সন্ত্রাসবাদের দায়ে অভিযুক্ত করে, অথচ তারাই নিজে জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশ আক্রমণ বা দখল করেনি, তবে সর্বদা দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের রক্ষা করেছে।’
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরান ত্যাগ করবে না।’
ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোমা বা আগ্রাসনের মাধ্যমে প্রতিরোধকে পরাজিত করা যায় না। তারা ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তারা জেনেছে যে ইরানিরা যুদ্ধকে ভয় পায় না।’
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, অথচ আইএইএর পরিদর্শকরা ইরানে আসার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, তেহরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি বা ধমকের ভাষা মেনে নেবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
আজ জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পিরোজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবনির্মিত দুটি বহুতল একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আহম্মদ সোহেল মনজুর আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে নতুন এই সুদৃশ্য অবকাঠামো জেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে উৎসাহিত করবে। জেলায় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ভৌত অবকাঠামোগত প্রসারের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইদ্রিস আলী আযিযী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিতা রানী বল। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বহুতল একাডেমিক ভবন পাওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, নতুন অবকাঠামোর ফলে শ্রেণিকক্ষের বিদ্যমান সংকট দূর হবে এবং মনোরম পরিবেশে পাঠদান পরিচালনা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে। তিনি আন্তর্জাতিক এই সংস্থার কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, যা তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ভাষণের শুরুতেই উল্লেখ করেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের (যা আর্জেন্টিনার কাছে ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত) বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সি লায়ন প্রজেক্ট’-এর আওতায় উত্তর মালভিনাস অববাহিকায় আর্জেন্টিনার মহীসোপানে ব্রিটিশ লাইসেন্সে অবৈধভাবে তেল উত্তোলনের কার্যক্রম চলছে। আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্ব ও অনুমতি ছাড়া সেখানে যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা আন্তর্জাতিক আইন এবং সমুদ্র বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দ্বীপের অধিবাসীদের বিষয়ে আর্জেন্টিনার অবস্থান স্পষ্ট করে মিলে বলেন, বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডে দখলদার শক্তির মাধ্যমে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীদের জন্য জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের সুযোগ বা নীতি কোনোভাবেই কার্যকর নয়। তিনি আরও জানান, আর্জেন্টিনা ঐতিহাসিক এই ভূখণ্ডের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শান্তিপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত উপায়ে বদ্ধপরিকর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ