বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১৪ এম
নাইজেরিয়ার সরকার সেনাসদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা আবারও দিয়েছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন পদমর্যাদার সেনাসদস্যরা বেতন বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হবেন।
গত এক মাসের মধ্যে এটি সেনাবাহিনীর জন্য দ্বিতীয় দফার বেতন বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়াল।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু মন্তব্য করেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাসদস্যদের সাহস, ত্যাগ এবং অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেনাসদস্যরা যেসব নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়াই করে আসছেন, তাদের প্রতি সরকারের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই বেতন বাড়ানো হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীর সর্বনিম্ন পদমর্যাদার সদস্যদের জন্য মাসিক বেতন ৩৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭৩ ডলারে উন্নীত করেছিলেন।
পরে প্রেসিডেন্ট তিনুবুর হস্তক্ষেপে সেই বেতন আরো বাড়ানো হয়। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে উক্ত সদস্যরা মাসে ১৩২ ডলার বেতন পেতে শুরু করবেন। সরকারের এই পদক্ষেপটি দেশব্যাপী চলমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবেলার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী, অপহরণকারী সশস্ত্র অপরাধী চক্র এবং অন্যান্য সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে এসব অপহরণকারী গোষ্ঠীকে ‘ডাকাত’ নামেও চিহ্নিত করা হয়।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট তিনুবু আরও ২৮ হাজার নতুন সেনাসদস্য নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি চারটি নতুন সেনা ডিভিশন গঠনের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। সরকারের আশা, এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত সেনা মোতায়েন, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা অভিযান বৃদ্ধি পাবে আরও কার্যকরী হবে। বর্তমানে নাইজেরিয়াজুড়ে চলমান নিরাপত্তাহীনতা দেশটির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট তিনুবু বলেন, ডাকাতি, অপহরণ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যারা প্রতিদিন জীবন বাজি রাখছেন, তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ জাতি সব সময় মনে রাখবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের পুরুষ এবং নারী সেনাসদস্যদের যথাযথ সম্মান ও সমর্থন দেওয়া সবার দায়িত্ব। কারণ, তাদের কারণেই সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন। তিনি আরো জানান, এই বেতন বৃদ্ধি যেন সেনাসদস্যরা দেশের প্রতি তাদের সেবার স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাওয়া সব শক্তির বিরুদ্ধে সরকার ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে সফল হবে। দীর্ঘদিন ধরে নাইজেরিয়ার সরকারগুলো নিরাপত্তা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। সেনা মোতায়েন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো সত্ত্বেও বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত অপহরণকারী ও ডাকাত চক্র মুক্তিপণ আদায় এবং লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী অস্থিরতা এবং কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে জমি নিয়ে সংঘর্ষও নাইজেরিয়ার জন্য একটি বড় নিরাপত্তা সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন জুনিয়র সেনাসদস্যরা। প্রাইভেট থেকে স্টাফ সার্জেন্ট পদ পর্যন্ত বেতন বেড়ে যাবে ৮০ শতাংশ। ওয়ারেন্ট অফিসার থেকে কর্নেল পদ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি হবে ৫০ শতাংশ। আর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে জেনারেল পদ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে ৩০ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীর বার্ষিক বেতন ব্যয় ৪৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছবে।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও সামরিক বিশ্লেষক বশির গালমা বিবিসিকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনীর বেতন বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছিল। তাই সরকারের এই সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বেতন খাতে এত বড় ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হতে পারে সরকারের জন্য অর্থায়নের চাপ। পরবর্তী সময়ে সরকারের জন্য এই ব্যয় বহন করা কঠিন হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে কর্মরত কয়েকজন সেনাসদস্য মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নতুন বেতনের অর্থ ব্যাংক হিসাবের জমা হওয়ার পরই তারা এ বিষয়ে কথা বলবেন। বশির গালমা বলেন, শুধু সেনাবাহিনীর জন্য নয়, দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার বেতনও সঠিক পর্যালোচনা করা উচিত। কারণ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনীর যৌথ দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, শুধু বেতন বাড়ালেই হবে না। সেনাসদস্যদের কল্যাণের অন্যান্য বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের জন্য মানসম্মত ইউনিফর্ম, বুট এবং আধুনিক রাইফেল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। চলমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলার জন্য এসব সরঞ্জামও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট তিনুবু বলেছেন, তার সরকার ভবিষ্যতেও সেনাসদস্যদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্র, প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কারের ফলে দেশে বর্তমানে ১২টি সেনা ডিভিশন থাকবে। সরকারের মতে, এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে, গোয়েন্দা তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান সম্ভব হবে এবং যেকোনো সংকটে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কার্যকর রাখতে বলছে চলমান সামুদ্রিক অভিযানে ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একদিকে, ইরান একই সময়ে হরমুজ প্রণালি সম্পর্কিত ওমানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতির খসড়া চূড়ান্ত করার তথ্য দিয়েছে।
এই তথ্যটি সেন্টকম বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে জানায়।
সেন্টকম জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক জলসীমায় টহলের সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে আকাশেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ কার্যকর রাখার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
সংস্থা আরও উল্লেখ করেছে, ৫ আগস্টের মধ্যে তাদের বাহিনী ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে বিকল্প পথে পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে দুটি জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজের উপর অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতির খসড়া তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তেহরান এ প্রক্রিয়ায় কোনো বহিরাগত পক্ষের হস্তক্ষেপ না হওয়ার শর্ত দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের কারণেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে অন্যান্য পদক্ষেপ জলপথটিকে এখনও অনিরাপদ করে রেখেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ, মার্কিন সামরিক ঘাটি থাকা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান।
পরে এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সামরিক সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করে উভয় পক্ষ।
তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। পরে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোমা হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। আলোচিত ছয়টি রায়ে ১৬জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি এই মামলার অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চব্বিশের জুলাই-আ Gustষ্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অন্য যে কোনো আদালতের তুলনায় সেনসেটিভ ৬টি মামলায় রায় ঘোষণার সময়কাল অনেক কম ছিল, যা দৃষ্টান্তমূলক। উল্লেখযোগ্য যে, এখনও অনেক মামলার বিচার দুটি ট্রাইব্যুনালে চলছে এবং সেগুলো বিচারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ট্রাইব্যুনাল চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করবে।
প্রথম রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে 'রাজসাক্ষী' হওয়া পুলিশের প্রতিষ্ঠিত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, এর পাশাপাশি শহীদদের পরিবার এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় রায়ে ৩ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি এই রায় প্রদান করে। এতে দুই জন সাবেক কমিশনার ও এক সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনারসহ আরো আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া, এই মামলার রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন— সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।
এই বিচারে অন্য আসামিদের মধ্যে পলাতক সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড এবং শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায়, যেখানে শহীদ হয়েছিলেন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক।
লাশ পোড়ানোর মামলায় তৃতীয় রায়
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থान চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয় জনের লাশ পোড়ানো এবং অন্যান্য হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে আরো সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
এই রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী এবং আরো কিছু নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার চতুর্থ রায়
চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই মামলায় বাকি আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চব্বিশের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের মধ্যে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড প্রদান হয়েছে। এসব মামলার বিচারে বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিদের দণ্ড দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যকলাপে একটি নতুন অধ্যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালন করল জাপান। বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে হামলায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এই উপলক্ষে জাপান বিশ্ব থেকে সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার আহ্বান জানায়।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, হিরোশিমার শান্তি স্মৃতি উদ্যানে এ উপলক্ষে একটি বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে অংশ নেন। অতিরিক্ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল আমাদের এই স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এবারের অনুষ্ঠানে রেকর্ড ১২৩টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা সবাই পারমাণবিক বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে, বোমা হামলায় নিহতদের হালনাগাদ নামের তালিকা শান্তি স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় বর্তমানে মোট ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৯ জনের নাম রয়েছে।
গত এক বছরে মারা যাওয়া বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নামও তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
সকাল ঠিক ৮টা ১৫ মিনিটে সকল উপস্থিত অতিথিরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট ঠিক এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমা শহরের ওপর বিশ্বের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হিরোশিমায় এই হামলাটি ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই শহরের ওপর ইউরেনিয়ামভিত্তিক পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
বোমাটির সাংকেতিক নাম ছিল ‘লিটল বয়’। ভয়াবহ বিস্ফোরণ, তীব্র তাপ এবং তেজস্ক্রিয়তা কারণে পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ১৯৪৫ সালের শেষ নাগাদ বিস্ফোরণের সরাসরি প্রভাব, আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং তেজস্ক্রিয়তার কারণে আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এর মাত্র তিন দিন পর, ৯ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি শহর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় পারমাণবিক বোমা ফেলে। সেই বোমার সাংকেতিক নাম ছিল ‘ফ্যাট ম্যান’। এরপর ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়। হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক হামলা থেকে জীবিত ফিরে আসা ব্যক্তিদের জাপানে ‘হিবাকুশা’ নামে উল্লেখ করা হয়। এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ভুগছেন। অনেকেই ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে জাপানে প্রায় ৯১ হাজার হিবাকুশা জীবিত ছিলেন। তাদের গড় বয়স এখন প্রায় ৮৬ বছর। সময়ের সাথে সাথে এই প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের সংখ্যা দ্রুত কমে আসছে।
হিবাকুশারা দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রচার চালিয়ে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এনএইচকে জানাচ্ছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যে, মে মাসে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনও কোনো চূড়ান্ত নথি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়নি। ফলে বিশ্বের পারমাণবিক ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, হিরোশিমার বার্ষিক স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেইসাথে স্থায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল দেশের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ এবং একটি যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমানের মধ্যে বিপজ্জনকভাবে দূরত্ব কমে যাওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলের এই ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে মেরিন ওয়ান অ্যান্ড্রুস বিমান ঘাঁটির দিকে যাওয়ার জন্য হোয়াইট হাউস থেকে উড্ডয়ন করে। একই সময়ে নিকটবর্তী রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে ‘এনভয় এয়ার’ পরিচালিত আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক বিমান (এমব্রেয়ার ই-১৭০) উড্ডয়ন করে।
সাধারণ নিরাপত্তা নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের বিমান বা হেলিকপ্টার চলাচলের সময় আশেপাশের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত রাখার কথা থাকলেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল তা করতে ব্যর্থ হয়। যোগাযোগের অস্পষ্টতা ও বিলম্বের কারণে আকাশে হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমানের দূরত্ব ১ মাইলেরও নিচে চলে আসে।
উল্লেখ্য, ফেডারেল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী দুইটি উড্ডয়নরত যানের মধ্যে আনুভূমিকভাবে অন্তত ১.৫ মাইল অথবা উল্লম্বভাবে ৫০০ ফুট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট কোনো মুহূর্তেই বিপদের মুখে ছিলেন না। মেরিন ওয়ান বিশ্বের সেরা বৈমানিকদের দ্বারা পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মার্কিন বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা এফএএ জানায়, দুইটি বিমানের দূরত্ব নির্ধারিত নিরাপত্তার নিচে নেমে যাওয়ার মুহূর্তটিতেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল উভয় বিমানের পাইলটদের সাথেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছিল।
উল্লেখ, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের একই বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীবাহী বিমান ও সেনা হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে এই আকাশসীমায় নিরাপত্তা প্রটোকল অত্যন্ত কড়া করা হয়েছিল। মঙ্গলবার কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটলেও প্রটোকল ভঙ্গের এই মারাত্মক ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিমান চলাচল প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ