ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হায়ফায় কাদিয়ানিদের সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি


হায়ফায় কাদিয়ানিদের সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি

ইসরায়েলের হায়ফা শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অমুসলিম কাদিয়ানি (আহমদীয়া) সম্প্রদায়ের ২৯তম বার্ষিক সম্মেলন মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণহত্যাকারী ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জে পি সিং, যারা সরাসরি অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বিশ্বে মুসলিম নিধনে শীর্ষে অবস্থানকারী ইসরায়েল ও ভারত কর্তৃক অমুসলিম কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে 'মুসলিম সম্প্রদায়ের মডেল' হিসেবে তুলে ধরা নিয়ে বিভিন্ন ইসলামি বিশ্লেষক ও আলেম সমাজ ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর হায়ফায় অনুষ্ঠিত সম্মেলন বা 'জলসা সালানা'য় ঐতিহাসিক মদিনার সনদের দোহায় দিয়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে যৌথ নাগরিকত্ব, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ কাদিয়ানিদের কথিত ‘সহাবস্থান ও সহনশীলতার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং গোষ্ঠীটিকে মুসলিম সম্প্রদায় হিসেবে তুলে ধরে মুসলিম-ইহুদি সংলাপে তাদের কথিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। অপরদিকে, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জে পি সিং কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাদের নীতিকে বিশ্ব দরবারে অনুসরণের আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট হারজোগের সঙ্গে হায়ফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাভ, ইহুদি ধর্মীয় অনেক নেতা, শিক্ষাবিদ, নেসেটের (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) সদস্য, হায়ফার প্রাক্তন মেয়র এবং ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জে পি সিংসহ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিকরা অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনের পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট লেখেন, "বিশ্বের আরও মানুষ যদি এই জমায়েত দেখতে পেত এবং ইসরায়েলি সমাজের এই সুন্দর রূপটি জানতে পারত!" তিনি সম্প্রদায়টির নেতা আমির মুহাম্মদ শরীফ ওদাহকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, "আহমদিয়া সম্প্রদায়ের হৃদয়ে ভারত এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।" তিনি আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মূল বাণী—"সবাইকে ভালোবাসো, কাউকেও ঘৃণা করো না"—উদ্ধৃত করে বলেন যে, এটি আমাদের সকলের সমষ্টিগত জীবনদর্শনের অংশ হওয়ার যোগ্য একটি নীতি।

ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের প্রধান প্রধান ইসলামি সংস্থা এবং সর্বসম্মত আলেম সমাজ কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে তাদের মৌলিক আকীদাগত ভিন্নতার কারণে অমুসলিম হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ প্রেক্ষিতে সচেতন আলেম সমাজের মতে, ঐতিহাসিক মদিনা সনদের দোহাই দিয়ে নিজেদের আসল পরিচয় ঢেকে রাখার অপচেষ্টা চালালেও কাদিয়ানিদের ভয়ঙ্কর রূপ বরাবরই উম্মোচিত হয়েছে। ইসরায়েল ও ভারতের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এই সম্প্রদায়টির প্রকৃত প্রক্সি গোষ্ঠী হিসেবে প্রমাণ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যেখানে ইসরায়েল ও ভারতের মুসলিমবিরোধী নীতি ও নিপীড়ন নিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যমান, সেখানে এই দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে 'আদর্শ মুসলিম প্রতিনিধি' হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকৃত মুসলিমদের কণ্ঠস্বরকে আড়াল করতে এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই প্রক্সি গোষ্ঠীটিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বিশ্বে মুসলিমদের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী হিন্দুত্ববাদী ও জায়নবাদীরা।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি প্রাথমিকে মেধাবীদের নিয়োগপত্র দিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


সরকারি প্রাথমিকে মেধাবীদের নিয়োগপত্র দিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার কারণে অনেককে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তাহলে তাকে সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে, প্রার্থী বা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রার্থী ও তাদের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করার প্রথা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও ছিল। মেধার অধিকারকে কেন্দ্র করে যে গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তার পর গঠিত সরকারের সময়েও রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার কারণে মেধাবীদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, মেধায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রচলিত রীতির সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, এই ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমলের ধারাবাহিকতা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন দমন করতে তখন চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হতো।

স্বাধীনতার পরও এই চর্চা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, দলীয় সরকারগুলো সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতের অনুসারী এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করে। একই প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। জনপ্রশাসনের দলীয়করণেও এই যাচাই প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গাজী আতাউর রহমান সতর্ক করে বলেন, বিএনপি সরকারও যদি আগের সরকারগুলোর মতো একই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে, তাহলে নতুন করে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সকল প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী এখন বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত হয়েছে: আবুল খায়ের ভূঁইয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


নারী এখন বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত হয়েছে: আবুল খায়ের ভূঁইয়া

বাংলাদেশে নারীরা বর্তমানে বোঝা নয়, বরং সম্পদে পরিণত হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, "আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি, আজকে বাংলাদেশে সকল ক্ষেত্রে মেয়েরা এখন আর বোঝা নয়। মেয়েরা একটা সম্পদে পরিণত হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আপনারা দেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পাশের হার মেয়েদের বেশি। মেডিকেল কলেজে পাশের হার বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পাশের হার বেশি। কারণ আজকালকার ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা অগ্রগামী বেশি।"

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়েদের প্রতি অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে খায়ের ভূঁইয়া বলেন, "আমাদের নবী করীম (সা.) ফাতেমা (রা.)-কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েদেরকে মানুষ ঘৃণার পাত্র না, অবহেলার পাত্র না।"

তিনি আরও বলেন, "বিগত সরকারের তো জিপিএ-৫, গোল্ডেন-৫-এর অভাব ছিল না। কিন্তু এটা কোনো কাজে আসেনি।"

দালাল বাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হাছান আলী মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহি উদ্দিন পাটোয়ারী বিটু, দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ছায়েদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবারকে না জানিয়ে জয়াকে বিয়ের গল্প জানালেন অমিতাভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


পরিবারকে না জানিয়ে জয়াকে বিয়ের গল্প জানালেন অমিতাভ

অমিতাভ বচ্চন পরিবারকে আগে থেকে না জানিয়ে জয়া বচ্চনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সম্প্রতি ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) ১৮তম মৌসুমে তিনি কীভাবে হঠাৎ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেই বিষয়টি জানান।

অনুষ্ঠানে কলকাতার প্রতিযোগী অহেলি রায় অমিতাভকে প্রশ্ন করেন, জয়ার পরিবারকে বিয়ের জন্য কীভাবে রাজি করিয়েছিলেন তিনি। অমিতাভের জবাব ছিল, বিয়ের জন্য কোনো দীর্ঘ পরিকল্পনা বা পরিবারের সঙ্গে বড় কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, একদিন সরাসরি জয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। জয়া এতে সম্মতি জানান। এরপর দুজনেই সিদ্ধান্ত নেন, বিয়ের বিষয়টি আগে থেকে পরিবারকে জানাবেন না।

পরে জয়া তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সম্মতিও পাওয়া যায়। তবে জয়া তার বাবা-মাকে কীভাবে রাজি করিয়েছিলেন, তা অমিতাভ নিজেও জানেন না বলে জানান।

অমিতাভের ভাষায়, তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল খুব দ্রুত। একদিন বিয়ের কথা ঠিক করার পরের দিনই তারা বিয়ে করেন। সেখানে ছিল না দীর্ঘ আয়োজন বা বড় কোনো পরিকল্পনা। বিয়েটি ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত ও সাদামাটা।

১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিয়ে করেন অমিতাভ ও জয়া। ‘জঞ্জির’ সিনেমার সাফল্যের পর তাদের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয় এবং এরপরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। তাদের দুই সন্তান হলো—শ্বেতা বচ্চন নন্দা ও অভিষেক বচ্চন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু মাহিদা ধর্ষণ-হত্যা: আসামিকে আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ পি.এম


শিশু মাহিদা ধর্ষণ-হত্যা: আসামিকে আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামকে (২০) কোনো ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্ত মাহিদার পরিবারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে গৃহীত হয়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অতীতে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনার আসামিদের জন্য আইনজীবীরা কখনোই দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ করে হত্যার মতো নির্মম ঘটনায়ও কোনো আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আইনজীবীরা কাজ করবেন।

এর আগে, মৃত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন স্থানে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।

এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘাতক জাহিদুল স্বীকার করেন যে, মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক জাহিদুল ইসলামকে (২০) বেদম পিটিয়ে পুলিশে দেয় এবং তার বাড়িতে হামলা করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হকের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে শিশু মাহিদার লাশ দাফন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিশু মাহিদা ও অভিযুক্ত জাহিদুল সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%