মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৬ এম
উনাই সিমন, যিনি স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক তিবো কোর্তোয়া এবং এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পিছনে ফেলে এই সম্মান নিজের করে নিয়েছেন।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে সিমনের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।
বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারের জন্য মোট ১০ জন প্রতিযোগী ছিলেন। এই তালিকায় কেইপ ভার্ডের ভজিনিয়া স্থান পেয়েছিলেন, যিনি প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে দারুণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। তবে, সিমন সকলকে পেছনে ফেলে এই সম্মাননা জিতে নিয়েছেন।
বিশ্বকাপে সিমন মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। সব মিলিয়ে, আথলেতিক বিলবাওয়ের এই গোলরক্ষক গত মৌসুমে ৬২ ম্যাচ খেলে ২২টিতে জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হন।
নারী বিভাগের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার লেভ ইয়াশিন ট্রফি অর্জন করেছেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক কাতা কোল। তিনি ক্লাবের হয়ে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উইমেন’স লিগ, কোপা দে লা রেইনা ও সুপার কাপ জিতেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সাথে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রাক্কালে, নেতানিয়াহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে তেল আবিবের ধ্বংসকারী পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাশরুম মেঘ দেখা যাচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "যদি তাকে ভোট না দেওয়া হয়, তাহলে দেশটি পারমাণবিক ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।"
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, "যারা নিজেদের অস্তিত্ব, পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে চিন্তা করেন, বিরোধীদের ভোট দেওয়ার আগে তাদের হাত কাঁপা উচিত।"
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহু এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের মধ্যে সেনাবাহিনীকে দেওয়া একটি নির্দেশনা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামির নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু এই খবর অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
তবে সোমবার সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সরাসরি অস্বীকার করেনি। তারা শুধু বলেছে, বাহিনীর সিদ্ধান্তগুলো একান্তভাবে নিরাপত্তা, পেশাগত, বস্তুনিষ্ঠ ও জাতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর গত বছর ও চলতি বসন্তে নেতানিয়াহু যে বিজয়ী মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমানে তার বক্তব্য স্পষ্টতই ভিন্ন। গত মার্চে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকট সেনাপ্রধান জামিরের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত এই জেনারেল বলেন, "নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার অভিযানে আইডিএফকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলবিশ্বের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের মুকুট জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি লাভ করেছেন। অন্যদিকে, নারী ফুটবলে সেরার মুকুট উঠেছে স্পেনের তারকা অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসের মাথায়।
সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটি প্রতিবছর ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রদান করে। ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে এবার ব্যালন ডি’অর তুলে দেন দুইবারের এই পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো।
কেইনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়। সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন।
সব মিলিয়ে কেইন হলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে ১৯৫৬ সালে পুরস্কারটির প্রথম আসরে বিজয়ী হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এরপর ১৯৬৬ সালে স্যার ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এই সম্মান অর্জন করেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হ্যারি কেইনের নাম।
মেয়েদের ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। অনুষ্ঠানে তার নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন। পুতেয়াসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠানস্থল।
বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করলেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা থেকে ফেরা মাত্রই ভিক্ষুক সেজে ঘরে ঢুকে হামলা, জনরোষ এড়াতে পুলিশের 'মিথ্যা আশ্বাস'—২০০৪ সালের সেই রক্তাক্ত ২৫ অক্টোবরের নেপথ্যে কি তবে দলীয় কোন্দল ও টেন্ডার আধিপত্য?
২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর (রমজান মাস)। রাজধানী ঢাকা থেকে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সফর শেষে বরিশালের দক্ষিণ আলেকান্দার নিজ বাসভবনে ফেরেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম মেহেদী। ঢাকার সফরক্লান্তি দূর করতে তিনি কেবলই গোসলে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, অন্যদিকে পরিবারে চলছিল মাগরিবের আজান ও ইফতারের আয়োজন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে এক অলৌকিক ও নৃশংস নাটকের রূপায়ন, যা আজও বরিশালবাসীর স্মৃতিতে এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হয়ে আছে।
অভিযোগ রয়েছে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬ এর বরিশাল চাঁদমারিস্থ অস্থায়ী ক্যাম্পের একটি দল পরিকল্পিতভাবে ছদ্মবেশে মেহেদীর বাসভবনে প্রবেশ করে। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, রোজা রাখার কথা বলে এবং ভিক্ষুক সেজে কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে বাসায় ঢোকে। মেহেদী তাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইফতার করানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বোঝা যায়, এরা অন্য কেউ নন—র্যাব-৬ এর ছদ্মবেশী সদস্য। তারা দ্রুত খবর পাঠায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে র্যাবের একটি বড় দল।
অভিযোগ উঠেছে, কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই র্যাব সদস্যরা মেহেদীর ওপর চড়াও হয়। তৎকালীন সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল এবং প্রধান অপারেশনস অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার কে এম সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশে র্যাব-৬ এর একটি দল মেহেদীর ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে তার দুই হাতের কবজি থেকে ডেনা ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মতো একতরফা গুলি চালিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে যে, আভিযানিক দলের সঙ্গে গোলাগুলিতে অর্থাৎ 'বন্দুকযুদ্ধে' মেহেদী নিহত হয়েছেন।
মেহেদীকে নির্মমভাবে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং পুরো বাড়ি ঘেরাও করে র্যাব টিমকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরিস্থিতির গাম্ভীর্য ও উত্তাপ বুঝতে পেরে র্যাব থানা ও পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স তলব করে। জনরোষ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে তখন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক কৌশলী প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলা হয়, "মেহেদী গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হবে।" এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে এমনভাবে বসিয়ে ও তুলনামূলক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তুলে নেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারে যে প্রিয় কাউন্সিলর ইতোমধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে মেহেদীর লাশ বরিশাল মর্গে রেখে আসে। ততক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।
মেহেদীর নাম ভাঙিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য: নেপথ্যে রুবেল ও রফিক সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাহাবুবুল আলম মেহেদীর বিরুদ্ধে সেসময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন মাধ্যমে যত অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ সম্পর্কে তিনি নিজেও সম্পূর্ণ অবিদিত ছিলেন।
একটি বিশেষ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মেহেদীর সাথে সব সময় দুই ছায়াসঙ্গী অবস্থান করতেন—যাদের একজন 'রফিক' এবং অন্যজন 'নাককাটা রুবেল'। মূলত তারা দুইজন মেহেদীর ক্ষমতার প্রভাব ও নাম ভাঙিয়ে বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি এবং মোটরসাইকেল শোডাউন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করত। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই দুজন কেবল চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো চরম ঘৃণ্য ও নৃশংস অপরাধের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
মেহেদীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিংবা ভুক্তভোগীদের পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কোনো নালিশ নিয়ে মেহেদীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। তাদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেতেন না কেউই। অনুসন্ধানী একাধিক সূত্রের মতে, রফিক ও নাককাটা রুবেলের এসব অপকর্মকেই পুঁজি করে পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা চতুরতার সাথে নিজ ফায়দা লুটেন এবং একজন উদীয়মান ও সাহসী যুবদল নেতাকে বলির পাঠা বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে র্যাবের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাবি।
কথিত বন্দুকযুদ্ধে মেহেদীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এই দুই অনুসারী নিজেদের গুটিয়ে নেয়। ঘটনাচক্রে 'নাককাটা রুবেল' ও 'রফিক' দীর্ঘ প্রায় এক যুগ (১২ বছর) বরিশাল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাককাটা রুবেলকে পুনরায় বরিশালে দেখা যায় এবং সে তার পুরোনো প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে বর্তমানে আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকায় সে পুনরায় বরিশাল থেকে আত্মগোপন করেছে বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন পার হলেও ২০২২ সালে মাহাবুবুল আলম মেহেদীর বড় ভাই শফিকুল আলম গুলজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আলোড়ন সৃষ্টকারী তথ্যের অবতারণা করেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, মেহেদীর এই নির্মম মৃত্যুর পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছিলেন তৎকালীন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারা।
তার দেওয়া তথ্যমতে, তৎকালীন এমপি মজিবুর রহমান সারোয়ার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খসরু এবং তার ভাই এ টি এম শহিদুল্লাহ কবিরের রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েই মেহেদীকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ আলেকান্দার একক প্রভাবশালী ও অত্যন্ত জনপ্রিয় তরুণ নেতা ছিলেন মেহেদী। স্থানীয় রাজনীতি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তৎকালীন এমপির অনুগামীদের সাথে তার তৈরি হয়েছিল চরম দূরত্ব। তৎকালীন এমপির বাধানিষেধ তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। বরিশাল শহরের সরকারি দপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র দাবি করে, বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন বরিশালে আসেন, তখন বরিশাল সার্কিট হাউসে বসে তৎকালীন এমপি মজিবুর রহমান সারোয়ার মেহেদীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানান এবং তাকে 'সন্ত্রাসী ও ক্যাডার পালনকারী' বলে অভিহিত করেন। কিন্তু নির্ভীক মেহেদী তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর সামনেই উত্তর দিয়ে বলেন, "আপনার ভাইয়েরাই চাঁদাবাজি করে বরিশালে ফেনসিডিলসহ মাদকের সিন্ডিকেট চালু রেখেছে।" বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মেহেদীর বিশেষ স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেদিন কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এই ঘটনা স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মেহেদীর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য ও ২০০৪ সালের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেসময়ে তথাকথিত 'বন্দুকযুদ্ধ' বা 'ক্রসফায়ার'-এর নামে অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যা মূলত আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল। এলিট ফোর্স র্যাবের মূল কাজ ছিল শীর্ষ অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে র্যাবকে ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয়ভাবে ‘গরিবের রবিনহুড’ হিসেবে পরিচিত মেহেদী যদি কোনো প্রভাবশালী বা এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে থাকেন, তাও ছিল সাধারণ মানুষের কল্যাণে—এমনটাই দাবি অনুসারীদের।
'তালাশ বিডি'র চলমান অনুসন্ধান
একটি উদীয়মান নেতৃত্বকে ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে ফেলে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হলেও তার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও প্রশ্নগুলো আজও মুছে যায়নি।
২০০৪ সালের সেই রক্তাক্ত ২৫ অক্টোবরের ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ 'তালাশ বিডি'। এই ঘটনার মূল নেপথ্য রহস্য উন্মোচনে র্যাব-৬ এর তৎকালীন সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল এবং প্রধান অপারেশনস অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার কে এম সাজ্জাদ হোসেন-এর তৎকালীন ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। তারা বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন, বিদেশে আছেন নাকি অন্য কোথাও অবস্থান করছেন—তা অনুসন্ধানের আওতায় আনছে তালাশ বিডির বিশেষ প্রতিনিধি দল।
খুব শীঘ্রই তাদের সাক্ষাৎকার, বক্তব্য এবং সংগৃহীত নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আসল রূপ বরিশালবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। তালাশ বিডির বিশেষ অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবে গেছে। এই ঘটনায় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রলারে থাকা কামাল উদ্দিন নামে একজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৩২) এবং সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৩৪)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিন আগে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি লালবোট কেনার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান ওই জেলেরা। বোটটি কেনার পর রোববার রাতে তাঁরা সেটি নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে, আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে পৌঁছালে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এর ফলে নদীর স্রোতে বোটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বোটটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর কামাল উদ্দিন কার্গো জাহাজের শিকল ধরে ঝুলে থাকেন। পরে জাহাজের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে ট্রলারে থাকা অপর দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
হাতিয়ার নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা বলেন, "চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ