ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আকস্মিক বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত


আকস্মিক বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাসমূহ চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন: গণ-অভ্যুত্থানের পর হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে: রাশেদ খান

চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা ৬টি: সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ। চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক বন্যা চলাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চলমান রয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলার সকল উপজেলায় বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে কোনো পানিবন্দি পরিবার নেই। কোনো হতাহত হয়নি এবং জেলায় পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫.৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলা তথ্য অফিসের সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়ি জেলায় অতিবৃষ্টি নেই। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে কোথাও পাহাড়ধস/ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা এখনও ফেরেনি। নদ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার অব্যাহত রেখেছে জেলা তথ্য অফিস।

কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্তমানে রামুর বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২.৪৪ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)। চকরিয়ার চিরিঙ্গার মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩.৬৬ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে (যা সম্পূর্ণ নিরাপদ)।

আরও পড়ুন: খাদ্যপণ্যে মেশানো হচ্ছে নিষিদ্ধ টেক্সটাইল রং ও হাইড্রোজ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

কক্সবাজার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। আবহাওয়ার সার্বিক অবস্থা এখন ভালো রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে সতর্কসংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে বন্যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে জরুরি বার্তা নিয়ে মাইকিং প্রচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বর্ষাকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। ভারী বর্ষণের প্রথম থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

বান্দরবান জেলা তথ্য অফিস থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে।

আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে জেলা তথ্য অফিস।

আরও পড়ুন: বাঘাইছড়ির বটতলী সড়কে খানাখন্দ, যাতায়াতে দুর্ভোগ

মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জেলা তথ্য অফিস।

তথ্য অফিস লামার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তথ্য অফিস লামা কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

তথ্য অফিস রামগড়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রামগড়ে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বর্ষাকাল হওয়ায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে দেখা যায়। ভারী বৃষ্টি না থাকায় বর্তমানে ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত নতুন করে পাহাড়ধসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রামগড় জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক বন্যা/ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমে থাকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার/মাইকিং করা হয়েছে।

তথ্য অফিস পটিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পটিয়া উপজেলায় পাহাড়ধস বা ভূমিধস হয়নি। বন্যা পরবর্তী করণীয়সহ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১ লাখ ২৪ হাজার এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষায়

তথ্য অফিস কাপ্তাইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া আজ স্বাভাবিক থাকবে। মাঝে মাঝে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হলেও তাতে পাহাড়ধস/ভূমিধস ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগের রাজনীতি জুলাই শহীদদের রক্তে নিষিদ্ধ হয়েছে: আবু হানিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


আওয়ামী লীগের রাজনীতি জুলাই শহীদদের রক্তে নিষিদ্ধ হয়েছে: আবু হানিফ

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেছেন, জুলাই শহীদদের রক্তে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেশে চিরকাল নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা এবং তার ১৫ বছরের গুম, খুন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা এ দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ আর এই দেশে রাজনীতি করতে পারবে না।’

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত গণকবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আবু হানিফ যোগ করে বলেন, ‘আজকে গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আর যারা এখনো চিকিৎসাধীন, তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলন ছিল না, বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ধারাবাহিক আন্দোলন জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সফল রূপ নেয়। তবে দুই বছর পার হলেও জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি, দাবি করে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে অপরাধীদের বিচার সম্পন্নের আহ্বান জানান তিনি।

গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা নিয়ে রাজনীতি বা ফায়দা লোটার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই নিয়ে যারা গত দুই বছর ব্যবসা করেছে এবং মূলধারার আন্দোলনকারীদের মাইনাস করার চেষ্টা করেছে, তারা আজ নানা জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। দেশে যেভাবে পরাজিত শক্তির বিচার হবে, ঠিক একইভাবে এই জুলাই ব্যবসায়ীদেরও একদিন জনতার আদালতে মুখোমুখি হতে হবে।’

কর্মসূচিতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সহসভাপতি আলমগীর অপূর্ব, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা যেন জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


আমরা যেন জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি: রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, "আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনা যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।"

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।"

বক্তব্যে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, "আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে আমি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ওই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন।"

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।"

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, "বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।"

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, "স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পায়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে জনগণ বহুবার বঞ্চিত হয়েছে।"

"ভবিষ্যতে যেন জাতিকে আর সেই পথে হাঁটতে না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।"

তিনি আরও বলেন, "রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।"

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।"

তিনি বলেন, "১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।"

চিফ হুইপ জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, "বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে এবং ‘আয়নাঘর’, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল।"

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সব হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে ৫০ শহীদ-আহত পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘নির্ভীক জুলাই’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলো ডাকসু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০০ পি.এম


ঢাবিতে ৫০ শহীদ-আহত পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘নির্ভীক জুলাই’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলো ডাকসু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জাগরূক রাখার প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর উদ্যোগে আজ ৫ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) রাত ৯:০০টায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এবং প্রায় ৫০ জন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মোনাজাত পরিচালনা করেন এক শহীদের পিতা। মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই আন্দোলনের শহীদরা কেবল একটি সময়ে নয়, সমগ্র জাতির বিবেক। ‘নির্ভীক জুলাই’ শুধুমাত্র একটি স্থাপনা নয়, এটি হবে আত্মত্যাগ, সাহস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিরন্তন প্রতীক। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জানতে পারে, কীভাবে সাধারণ ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন জীবন দিয়েছে, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ পরিবারের প্রতি জাতির ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ডাকসুর বর্তমান নেতৃবৃন্দর সবসময় জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করবে এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় প্রতিটি উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। আমরা চাই এই স্মৃতিস্তম্ভে এসে প্রতিটি শিক্ষার্থী সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রেরণা লাভ করুক।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শহীদের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ যদি দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি তাদের কথা জানে, তাহলে আমাদের কষ্টের মাঝেও কিছুটা সান্ত্বনা থাকবে। এই স্মৃতিস্তম্ভ আমাদের সন্তানদের ত্যাগকে বাঁচিয়ে রাখবে।’

আরেক শহীদের পিতা বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা দেশের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য জীবন দিয়েছে। আমরা চাই, তাদের স্বপ্ন যেন কখনো হারিয়ে না যায়। এই উদ্যোগের জন্য আমরা ডাকসুর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোহ মাজহারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসীম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সম্পাদক আনাস ইবনে মুনির, রায়হান উদ্দীন, রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জুলাই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সর্বস্তরের মানুষের বিপ্লব’-মাওলানা রফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০২ পি.এম


‘জুলাই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সর্বস্তরের মানুষের বিপ্লব’-মাওলানা রফিকুল ইসলাম

ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাদারীপুরের কালকিনিতে গণমিছিল, র‍্যালি ও পথসভা আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কালকিনি উপজেলা শাখা।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় উপজেলা এলাকার কালকিনি মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। এরপর সেখান থেকে একটি বিশাল গণমিছিল ও প্রমথ্য র‍্যালি বের হয়।

র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাছ বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা।

পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কালকিনি পৌরসভার আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাই আন্দোলনের বিপ্লব শুধুমাত্র কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি সর্বস্তরের মানুষের অবদান। গণভোট জনগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। সুতরাং জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন ও মেনে নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা আমির মাওলানা এনামুল হক, ডাসার উপজেলা আমির মাওলানা আবদুস সালাম আকন, কালকিনি পৌরসভার আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, কালকিনি পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কালকিনি পৌরসভা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা হাসান জামান খান, কালকিনি পৌরসভা নায়েবে আমির মাওলানা এস এম শাহ আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উপজেলা ও পৌর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বক্তারা বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের শান্তি, ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

এদিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কালকিনি মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%