প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জাগরূক রাখার প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর উদ্যোগে আজ ৫ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) রাত ৯:০০টায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এবং প্রায় ৫০ জন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মোনাজাত পরিচালনা করেন এক শহীদের পিতা। মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই আন্দোলনের শহীদরা কেবল একটি সময়ে নয়, সমগ্র জাতির বিবেক। ‘নির্ভীক জুলাই’ শুধুমাত্র একটি স্থাপনা নয়, এটি হবে আত্মত্যাগ, সাহস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিরন্তন প্রতীক। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন জানতে পারে, কীভাবে সাধারণ ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন জীবন দিয়েছে, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ পরিবারের প্রতি জাতির ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ডাকসুর বর্তমান নেতৃবৃন্দর সবসময় জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করবে এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় প্রতিটি উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। আমরা চাই এই স্মৃতিস্তম্ভে এসে প্রতিটি শিক্ষার্থী সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রেরণা লাভ করুক।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক শহীদের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ যদি দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি তাদের কথা জানে, তাহলে আমাদের কষ্টের মাঝেও কিছুটা সান্ত্বনা থাকবে। এই স্মৃতিস্তম্ভ আমাদের সন্তানদের ত্যাগকে বাঁচিয়ে রাখবে।’
আরেক শহীদের পিতা বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা দেশের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য জীবন দিয়েছে। আমরা চাই, তাদের স্বপ্ন যেন কখনো হারিয়ে না যায়। এই উদ্যোগের জন্য আমরা ডাকসুর প্রতি কৃতজ্ঞ।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোহ মাজহারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসীম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সম্পাদক আনাস ইবনে মুনির, রায়হান উদ্দীন, রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন