ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্তের নির্দেশ


চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্তের নির্দেশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তে একটি নতুন মোড় এনেছে। মৃত্যুর আসল কারণ উদ্ভাসিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার উদ্দেশ্যে, আদালত তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এই আদেশটি প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহটির উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেন।

অ্যাডভোকেট আদালতের আদেশে উল্লেখ করেছেন যে, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে- ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রাকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। একইসাথে তথ্য প্রদান করা হয়েছে যে, যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা আদালত মনে করে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: হিন্দু সম্প্রদায় কোনো দলের দাসত্ব করে না: মীর শাহে আলম

আদেশে উল্লেখ আছে যে, ধীপ্রার মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে, ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৫ জুন দ্রুত রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান আদালতের কাছে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করার, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার এবং পরে ধর্মীয় বিধান অনুসরণের মাধ্যমে পুনরায় দাফনের অনুমতি চান।

আদালত আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র মূল্যায়ন করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৭৬(২) ধারার ক্ষমতাবলে আবেদনের সম্মত হন। পাশাপাশি ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিভিল সার্জন, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন।

৪ জুন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যু ঘটে। পরে তার স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের অনেকেই জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রচারিত ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলে আসছে ধীপ্রার উপর। মৃত্যুর আগে তিন দিনের জন্য তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং যথেষ্ট খাবারও দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের উপর চলা নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন নিহত চিকিৎসকের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামিদের তালিকায় রয়েছে ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, শ্বশুরের জামাতা ও ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।

তদন্তের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে প্রমাণিত হবে এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য-উপাত্তও সামনে আসতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘সারের ডিলারশিপ না, বিষের ডিলারশিপ দিন’ ছাত্রদল নেতার মন্তব্য ভাইরাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


সিলেটে লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জালানি ও খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) এর মোবাইল কোর্টের অভিযানে ৯৪ হাজার ৩৯০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। সোমবার দিনের বেলায় পরিচালিত এই অভিযানে উপজেলার বনপুর, আদর্শগ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, বিজয়পাড় ও মাঝেরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে পাথরগুলো জব্দ করা হয়।

জানা যায়, গত প্রায় ৬ বছর ধরে উৎমা এলাকায় এই পাথরগুলো স্তুপ করে বিভিন্ন বাড়ির পাশে রাখা ছিল। উৎমা নদী ও কোয়ারি থেকে উত্তোলন করা পাথরগুলো দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্তুপ আকারে রয়েছে। এর আগেও এই পাথরগুলো বিজিবি কর্তৃক জব্দ করা হয়েছে, তবে এগুলো তখন নিলামে বিক্রি করা যায়নি।

সোমবার (১৩ জুলাই) উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের বনপুর, আদর্শগ্রাম, গুচ্ছগ্রাম, বিজয়পাড় ও মাঝেরগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে ৯৪৩৯০ ঘনফুট পাথর জব্দ করেন জালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান। পরে জব্দ করা পাথরগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জিম্মায় রাখা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান জানান, ‘উৎমা এলাকায় অবৈধভাবে উত্তোলিত এই পাথরগুলো জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনায়। পাথরগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা প্রদান করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী হত্যা, গ্রেফতার স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী হত্যা, গ্রেফতার স্বামী

গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশু সন্তানের সামনে স্ত্রীর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পোশাক শ্রমিক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি, তার স্বামী সাইদুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় র‌্যাব-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার সাইদুল ইসলাম ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার গিদাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন ভোগড়া বাইপাস এলাকার হামিম টাওয়ারের নিচে কেনাকাটা গলির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নাসিমা আক্তার (২৭), যিনি ভিকটিম, নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার খৈলাসপুর (বনপাড়া) গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। তিনি তার আট বছরের মেয়ে সামিয়া এবং পাঁচ বছরের ছেলে জিসানকে নিয়ে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী (লিচু বাগান) এলাকার মজনুর বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ওয়ানটেক্স পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম জানান, সাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি নিয়মিত নেশার টাকার জন্য তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের কাছে টাকা দাবি করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। গত ১২ জুলাই (রবিবার) নাসিমা পোশাক কারখানা থেকে বেতন পেয়ে বাসায় ফেরেন। রাতে সাইদুল তার স্ত্রীর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা দাবি করেন। নাসিমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাইদুল তাদের দুই শিশু সন্তানের সামনে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই নাসিমার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর সাইদুল আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বাসন থানাধীন হামিম টাওয়ারের নিচ থেকে আসামী স্বামী সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার স্বামী সাইদুল ইসলামকে গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনারগাঁয়ে গ্রেপ্তার ২, ডিজিএফআই পরিচয়ে চাঁদা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


সোনারগাঁয়ে গ্রেপ্তার ২, ডিজিএফআই পরিচয়ে চাঁদা দাবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার ছোট সাদিপুর এলাকার পানাম ফুড পার্কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের সখিপুর উপজেলার মৃধাকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ওরফে মুন্না (৪৩) এবং সোনারগাঁ উপজেলার নানাখী এলাকার বাসিন্দা আবিদ মাহমুদ আকাশ (২৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আতাউর রহমানের কাছে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে তারা আতাউর রহমানকে পানাম ফুড পার্কে ডেকে নেন। সেখানেই নিজেদের ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

অভিযুক্তরা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ‘দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার হুমকি দেন এবং এর বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আতাউর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে সোনারগাঁ থানার পুলিশকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য নন বলে স্বীকার করেন এবং নিজেদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে পানি নামছে, স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৩ পি.এম


চট্টগ্রামে পানি নামছে, স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে, এই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ নেমে আসেনি কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানি রয়েছে। যেসব এলাকায় পানি কমেছে, সেগুলোতে প্রকাশ্যে আসছে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ধসে পড়া দেয়াল ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলের দৃশ্য।

ফলে, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অনেকেই বাড়ি-ঘরে ফিরে এসেছে, কিন্তু তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারছেন না। ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা নিয়ে হাজারো মানুষ উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস বলেছেন, গতকাল সারা দিন বৃষ্টি পড়েনি, এজন্য পানি ধীরে ধীরে নামতে পারে। তবে, রাতে যদি আবারও বৃষ্টি হয়, তখন পরিস্থিতি অবনতি হবে। বর্তমানে গ্রামীণ সড়কগুলোতে হাটু পানি রয়েছে এবং ঘরে বসবাসের মতো পরিস্থিতি নেই। এদিকে, পর্যাপ্ত ত্রাণও আসছে না। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণগুলো বিভিন্ন নির্দিষ্ট এলাকায় চলে যাচ্ছে। বিশেষভাবে ছনুয়া, খানখানাবাদ ও শীলকূপসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ত্রাণের প্রয়োজন।

বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মানিকপাঠান গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চিত্রও ভেসে উঠছে। মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে গেছে, ঘরের গোড়া নরম হয়ে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বীজাগারের সেন্দাদ পেরিয়ে গেছে। পানি গেলেও সেখানে জীবন স্বাভাবিক হতে মৌলিক দেরি হবে।

গ্রাম্য উলা মিয়া (৪৮) বলেন, বন্যার সময় ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিন কিলোমিটার দূরে বৈলছড়ি ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন পানি কমার খবর শুনে বাড়ি দেখার জন্য এসেছেন, কিন্তু ঘরের মাটির দেওয়ালের গোড়া এতটাই নরম হয়ে গেছে যে, তা যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে। সেখানে ঢোকার সাহস পাচ্ছে না কেউ। একই অবস্থা পারভিন আক্তারের। তার টিন ও মাটির তৈরি ছোট্ট ঘরে বন্যার পানি ঢুকে দেওয়াল ধসিয়ে দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি পাঁচদিন বড় ভাইয়ের পাকা বাড়িতে ছিলেন। পানি কমলেও নিজ ভিটায় ফেরার পরিস্থিতি নেই।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ জুলাই শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, বৈলছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর, বারশত, পরৈকোড়া ও হাইলধরের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া, কেওচিয়া, ধর্মপুর, বাজালিয়াসহ ১৮টি ইউনিয়ন।

এদিকে, বেসরকারি ও সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গত দুইদিনে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। আনোয়ারা উপজেলার বারখানই এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা উপজেলাগুলোতে ত্রাণ বিতরণে সক্রিয় রয়েছে।

বিশেষ করে নানা সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম দেওয়া হচ্ছে। বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নে ট্রাকভর্তি সহায়তা সামগ্রী নিয়ে এসেছেন আনোয়ারা উপজেলার হেটিখাইন ইয়াং স্টার ক্লাবের সদস্যরা। তাদের মধ্যে রয়েছে চাল-ডাল, শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি। তারা বলেন, ‘আমরা সাহায্য করতে আসিনি, ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এগুলো ত্রাণ নয়, আমাদের ভাইবোনদের জন্য উপহার সামগ্রী।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%