১২:৫৬ পি.এম
মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মনু ও ধলাই নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, ঢলের পানিতে ডুবে রাজনগর উপজেলায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় মনু নদীর রক্ষা বাঁধের রাজনগর উপজেলার একামধু এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা গেছে। এর ফলে, রাজনগরের উজিরপুর ও একামধু এবং কুলাউড়া উপজেলার শিকরিয়া সহ মোট তিনটি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। উন্মুক্ত এসব স্থান দিয়ে হু হু করে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।
এতে রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার টেংরা ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলার মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর দুটি স্থানে ভাঙন হয়েছে এবং এর ফলে ইসলামপুর, আদমপুর সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নবাসীর আমৃত্যু সেবক হয়ে কাজ করতে চান,চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নাসির মিয়া
বসতবাড়িতে পানি ওঠায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং অনেকেই নিজেদের গবাদিপশু নিয়ে মনু নদীর বাঁধে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
সরেজমিনে মনু নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় পানির প্রচণ্ড চাপ লক্ষ করা গেছে। স্রোতের তীব্রতার কারণে ভাঙনের আকারও ক্রমশ বড় হচ্ছে। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অন্তত ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম মনু নদীর উজিরপুর এলাকার ভাঙন পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পানি নেমে যাওয়ার পর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য ৯১৫ ব্যাগ শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন আলফাডাঙ্গা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মিলন মোল্লা
এদিকে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া ঢলের পানিতে ডুবে আকুয়া গ্রামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন