বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : যদি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটির বড় বাজারে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস।
বাসস’র প্রশ্নের লিখিত জবাবে দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানায়, চুক্তির সুবিধা গ্রহণের জন্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন শর্ত সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে শুল্কসুবিধা এবং পণ্যের উৎপত্তির নিয়ম সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এভাবে চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল অর্জন সম্ভব হবে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে স্বাক্ষরিত ইপিএ, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
জাপান দূতাবাস জানায়, চুক্তিটি কার্যকর হলে নির্ধারিত শুল্ক কাঠামোর আওতায় অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে। সেবা, বিনিয়োগ, শুল্কপ্রক্রিয়া, ই-কমার্স এবং মেধাস্বত্বের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকায় ব্যবসা পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও বেশি নিশ্চয়তা তৈরি হবে।
দূতাবাসের বক্তব্য, ‘তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করা এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।’ এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে দূতাবাস।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) মধ্যে চুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছে জাপান দূতাবাস। তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রচার ও যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে আরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চুক্তির আওতায় আসতে পারবে এবং নতুন বাণিজ্য কাঠামোর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য এ চুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের পরিকল্পনায় ব্যবসায়ীরা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো পাবেন।
দূতাবাসের মতে, চুক্তির সুফল হিসেবে বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দুই দেশের সরকার এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে দুই দেশ যৌথ কমিটিসহ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগাতে পারে।
পোশাকের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ
জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে দূতাবাস। এ ক্ষেত্রে চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, ওষুধ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা।
এ ছাড়া বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশসহ শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদনের মতো পশ্চাৎমুখী শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
তবে জাপানের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য দেশটির বাজারের চাহিদা ও মানদণ্ড সম্পর্কে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের আরও ভালো ধারণা থাকতে হবে। পণ্যের মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ, শ্রম ও পণ্যের মানসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে জাপানের পণ্য অনুমোদন ও উৎপাদনের মানসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উৎপাদনশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সরবরাহ ও পরিবহনসেবা এবং জ্বালানির কথা উল্লেখ করেছে দূতাবাস।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন (বিএসইজেড) জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জাপানি কোম্পানিগুলোর সংযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
দূতাবাস বলেছে, অবকাঠামোর উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উৎসাহিত হবে। এতে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
দূতাবাসের মতে, ইপিএ কার্যকর করা, শিল্প খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : তুরাগ নদী থেকে নৌ পুলিশ একটি সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
বুধবার বিকেলে উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিহত ব্যক্তির নাম তাহসিফ সৌরি, যার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। তিনি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বৃহস্পতিবার বাসসকে এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর- ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী ফাঁড়ির নৌ পুলিশ উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরাতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে। লাশের পরনে ছিল সাদা পাজামা এবং কালো জামা। হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আই ফোন পাওয়া যায়। মুখে হালকা দাড়ি ছিল। আই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাহসিফ গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬ শুরু হয়েছে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার সুযোগকে সম্প্রসারণ করা। এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি দেশের পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী আজ আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) মেলার ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রদর্শনীর প্রতিপাদ্য হলো ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’, যা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) দ্বারা আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়া মেলায় অংশ নিচ্ছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব ও আজারবাইজান।
মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল অংশীদার দেশ হিসেবে মেলায় উপস্থিত রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কইনোলেট বক্তৃতা প্রদান করেন।
নুরুন নাহার চৌধুরী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে।’
সচিব আরও বলেন, বিটিটিএফের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল পর্যটনচর্চায় উৎসাহ প্রদান করে। তিনি সরকারের, বেসরকারি খাতের এবং অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
এ প্রদর্শনী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে ট্যুর অপারেটর, বিমান সংস্থা, হোটেল, ভ্রমণসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটনশিল্পের পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০টির বেশি প্রদর্শক, ২৫০ জনের বেশি যোগ্য ক্রেতা এবং ২ হাজার ৫০০-এর বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নিচ্ছেন।
মেলায় তিন দিনে ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চারটি বিষয়ভিত্তিক হলে আয়োজিত এ প্রদর্শনী দেশি-বিদেশি পর্যটন খাতের অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সফলভাবে ১৩টি আসর আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বিটিটিএফ ২০২৬-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের সামনে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরা হবে।
এছাড়া, দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিদেশি অংশীদারদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। তিনি বলেন, ‘এই মেলার মাধ্যমে দেশীয় পর্যটনকে প্রাসঙ্গিক ও সমসাময়িকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে পর্যটনসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই পর্যটন গন্তব্য ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণচর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মেলার টাইটেল স্পন্সর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ারলাইন পার্টনার হিসেবে রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, এনএসডিএ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এ আয়োজনকে সহযোগিতা করছে।
মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৯৯ হাজার ৮০০ শলাকা সিগারেট আটক করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। আটককৃত সিগারেটের বাজারমূল্য ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭৬০ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৭০ টাকা।
আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় এ নিবারক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে আটক সিগারেটের ব্র্যান্ড ‘মার্বেল’ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো হেরিটেজ টোবাকো।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কক্সবাজার জানায়, রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন, ফাঁকিকৃত রাজস্ব আদায় এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপতথ্য, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অপতথ্য মোকাবিলা করতে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।
আজ রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি (এমআইএল) উইক ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ভুল তথ্য, অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশেষ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এসব তথ্য সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও ডিজিটাল বিষয়ে মানুষের সচেতনতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় সরকার যৌক্তিক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেবে। কিন্তু আইন প্রণয়নের পাশাপাশি মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়স্কদের অসচেতনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অনেক শিক্ষিত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যখন কোনো খবরের উৎস জানতে চান, তখন তারা বলেন, তারা ফেসবুক থেকে সেটি পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়াই বয়স্ক ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংস্পর্শে এসেছেন। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, সত্য সব সময় স্বস্তিদায়ক হয় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম’ পঙক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য জানতে চাইলে কখনো কখনো অস্বস্তিকর তথ্যও মেনে নিতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে মানুষ নিজের পছন্দমতো তথ্য পেতে পারে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রতিষ্ঠান এআইয়ের জন্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরির পক্ষে কথা বলছে। তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে আলোচনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বাংলাদেশসহ সব দেশকে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। অপতথ্য মোকাবিলায় শুধু দেশের ভেতরে উদ্যোগ নিলেই হবে না, বৈশ্বিক পর্যায়েও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের কারণে সঠিক তথ্য ছড়ানো কঠিন উল্লেখ করে শোশানা জুবফের বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষের রাগ, ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহাসহ নেতিবাচক আবেগকে গুরুত্ব দেয়। ফলে খারাপ খবর ও অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও তথ্য যাচাই এবং সঠিক তথ্য প্রচার একইভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় না।
তিনি বলেন, অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা মোকাবিলার চেয়ে আগে থেকেই মানুষকে সচেতন করা বেশি জরুরি। কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করার আগে তার সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণমাধ্যম ও তথ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এমআইএল সপ্তাহ পালন করছে, যা প্রশংসনীয়। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের পাশাপাশি মা-বাবা ও বয়স্ক আত্মীয়স্বজনকেও তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। কারণ, তাদের অসচেতনতা অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম সুযোগ তৈরি করে।
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আশিক মোসাদ্দিক, বাংলাদেশে ইউনেস্কোরের প্রধান ড. সুজান ভাইজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক দিলারা বেগম।
এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইউনেস্কো প্রতিনিধি, শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ