০৬:৪১ পি.এম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনে ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণের পর, রাষ্ট্র নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ-সাক্ষ্য সাক্ষীদের মাধ্যমে আজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে পোশাককর্মী সাকিবের মৃত্যু, আহত ২
সর্বোচ্চ শাস্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুলু বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্যই যুক্তিতর্ক করব। কখন শুনানি করব তখন আপনারা বুঝবেন।’
ধর্ষণ হত্যার প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্র নিযুক্ত এই আইনজীবী বলেন, ‘অবশ্যই! যিনি পোস্টমর্টেম করেছেন, তিনি আজ উন্মুক্ত ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যে বলেছেন, এটা জোরপূর্বক ধর্ষণ ছিল। এখান থেকে বোঝা যায়, রামিসাকে আগে ধর্ষণ এবং পরে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ক্ষতবিক্ষত করে হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং ধর্ষণ এবং হত্যা সব কিছুই প্রমাণিত হয়েছে।’
আজ আদালতে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।
এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুফু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আকতার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন। এ সময় রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।
আরও পড়ুন: সরকার বিকল্প শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে
এদিকে আজ সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণের আগে তাদের এজলাসে নেওয়া হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় গত ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৪৯০ জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন