রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪১ পি.এম
চিলির ৭০ বছর বয়সী ইভোনে ভিলদোসোলা আবারও প্রমাণ করলেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করার একটি অনন্য ও অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। চিলির জাতীয় নারী ক্রিকেট দল 'লাস লোইকাস'-এর হয়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওপেনার হিসেবে মাঠে নেমে এই কীর্তি অর্জন করেন তিনি।
এই ঐতিহাসিক ম্যাচের সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং আবেগঘন দিকটি ছিল, যখন ইভোনে ভিলদোসোলা দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যাপ মাথায় নিচ্ছিলেন, তখন তার ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলা ওয়ারস দলের অধিনায়কত্ব করছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাতনির অধীনে দাদির খেলার এমন ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম।
যেভাবে ক্রিকেটে আগমন
ইভোনের ক্রিকেটীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। চিলির নিউবলে অঞ্চলে নারী ক্রিকেট দলের তৎকালীন অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেসের উদ্যোগে একটি 'মা-মেয়ে' ক্রিকেট ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নাতনি ক্যামিলার বিশেষ অনুরোধে প্রথমবার মাঠে গিয়ে ক্রিকেটের ব্যাট-বলের সাথে পরিচয় ঘটে এই প্রবীণের। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। কঠোর পরিশ্রম এবং খেলার প্রতি ভালোবাসা তাকে ৭০ বছর বয়সে চিলির জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছে।
রেকর্ড বইয়ে ইভোনে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে (পুরুষ ও নারী উভয় ক্যাটাগরিতে) সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করার বিশ্বরেকর্ড এখন ইভোনের দখলে। সামগ্রিক পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ৭২ বছর বয়সে ভারতের রাজা মহারাজ সিংয়ের প্রথম শ্রেণির অভিষেকের পর ভিলদোসোলা সবচেয়ে প্রবীণতম ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে নামলেন।
অভিষেক ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও জয়েন্টের সমস্যার কারণে তিনি বল করতে পারেন না, তবে ক্রিকেটীয় টেকনিক মেনে সোজাসুজি শট খেলে ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন।
ম্যাচ শেষে চিলির অধিনায়ক ও নাতনি ক্যামিলা ওয়ারস জানিয়েছেন, মাঠে তার দাদির উপস্থিতি পুরো দলের জন্য এক বিশাল শক্তির উৎস ছিল। রানের খাতার চেয়ে বয়সকে জয় করে মাঠে নামার এই মানসিকতা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকালীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের সীমান্ত নিরাপত্তা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের সময় সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি বাংলাদেশের সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কারিগরি সহায়তার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক পরিধি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে শিগগিরই বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ হাইকমিশনার নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশের সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। উগ্রবাদ মোকাবিলা, পুলিশের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সিঙ্গাপুর মিশন প্রধানের উত্তরসূরি ফিলিপ ওং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিঙ্গাপুর মিশনের দ্বিতীয় সচিব ধান্য লিঙ্গেশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন পুলের ভাড়া করা বাসের দুর্ঘটনায় আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবার মৃত্যু ঘটেছে। এর পর ক্ষতিপূরণসহ ৬ দফা দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যানারে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে স্মারকলিপি জমা দেন। এর আগে, মীর মোশাররফ হোসেন ভবন থেকে স্লোগান দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিলে, প্রক্টরিয়াল বডি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কাছে তাদের নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের হাতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই, ভাড়ায় চালিত গাড়ি বন্ধ চাই, সেফ রোড সেফ জার্নি, ফিটনেস বিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে, উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা প্লেকার্ড দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— অভিযুক্ত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর যাবতীয় দায়িত্ব প্রশাসনের গ্রহণ করা।
এছাড়া নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্র্যাফিক ব্যবস্থা জোরদার ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন, বাসের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ে স্থায়ী কমিটি গঠন, নিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, চালকদের ডোপ টেস্ট করানো এবং ভাড়ায় চালিত বাসের গতিসীমা লঙ্ঘন বা উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ভাড়া করা বাসের মাধ্যমে ১১ মাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে নতুন করে হাম উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২২৮ শিশু। ১৫ মার্চ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ ৮৮ হাজার ২৮ শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১৩ শিশু। ১৫ মার্চ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ২১২ শিশু।
১৫ মার্চ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৩১০ শিশু। একই সময়ে, সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৫১৯ শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৯৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে কারো মৃত্যু হয়নি, এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে ১০১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘অবিলম্বে চাঁদাবাজদের জিম্মিদশা থেকে প্রিয় মাতৃভূমি মুক্তি পাবে, ইনশাআল্লাহ।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে নাহিদ ইসলাম এই কথা বলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক আরও জানান, ‘রাতের আঁধারে জুলাইয়ে আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভাঙচুর ও লুটপাটের পেছনে দুই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, চাঁদা না দেওয়া অথবা সম্পত্তি দখল। আবার এবার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর আসনে। প্রধানমন্ত্রীর আসনে চাঁদা তোলা কিংবা সম্পত্তি দখলের দুঃসাহস কাদের হতে পারে?’
নাহিদ বলেন, ‘কোনো স্থাপনা যদি অবৈধ হয়ে থাকে, কেউ দখল করে রাখে তা উদ্ধারের জন্য আইন-আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ আছে। আইনি পথ বাদ দিয়ে সারা দেশে ক্ষমতাসীনদের এমন উন্মত্ত আচরণ কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব এখন শুরু হয়নি। শুরু হয়েছে পাঁচ আগস্ট বিকাল থেকে। যখন গোটা দেশের তারুণ্য বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর তখন বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী সারা দেশে ফ্যাসিবাদীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আরও ভয়াবহ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের শোষণের সাম্রাজ্য দখল করেই এরা ক্ষান্ত হয়নি। চাঁদাবাজি-দখলবাজির পরিমাণ ও আওতা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। আঠারো কোটি মানুষ আজ এদের কাছে জিম্মি।’
‘সরকার বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে, এসবের বিচার চাওয়া অর্থহীন। তবে আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে চাঁদাবাজদের জিম্মিদশা থেকে প্রিয় মাতৃভূমি মুক্তি পাবে, ইনশাআল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ