ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিরাজগঞ্জে ধরা পড়ল ইলিয়াস মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি


সিরাজগঞ্জে ধরা পড়ল ইলিয়াস মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ইলিয়াস মোল্লা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সিদ্দিক মোল্লাকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার জামতলী কোবাত শেখের বাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আটক করা মো. সিদ্দিক মোল্লা সিরাজদিখান উপজেলার পশ্চিম কোলা এলকার মৃত মন্তাজ উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মো. ইলিয়াস মোল্লাকে (৫০) প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় ২০ জুন রাত ৮টা ৫ মিনিটে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১২টা ১৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার জামতলী কোবাত শেখের বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামি মো. সিদ্দিক মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এর আগে এ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করবে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২২ এম


বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করবে ভারত

দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হাইকমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশনে দুজন প্রেস অফিসার নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কি না, যাদের অতীতে ভারতবিরোধী ও বিতর্কিত পোস্ট দিতে দেখা গেছে।

এর জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আমাদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং আমরা আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে এখানকার হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’

সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের আসন্ন ঢাকা সফরের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবগতির প্রশ্নে জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

আসন্ন সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলবেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে একজন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


বান্দরবানে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে একজন নিখোঁজ

বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু বড় পাথর (রাজাপাথর) এলাকায় সাঙ্গু নদীতে একটি নৌকা ডুবে মো. জাওয়াদ উল ইসলাম (২৮) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়ে গেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিখোঁজ মো. জাওয়াদ উল ইসলাম ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে আলীকদম-থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকা দিয়ে নেমে ১৩ জন পর্যটক তিন্দু বাজারে পৌঁছান। এরপর স্থানীয় গাইড গর্জেন ত্রিপুরা তাদের গ্রহণ করেন। বিকেলে তিন্দু ঘাট থেকে দুটি নৌকায় করে তারা রেমাক্রির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। একটি নৌকায় ছয়জন এবং অপরটিতে সাতজন পর্যটক ছিলেন। রেমাক্রির পথ ধরে তিন্দু বড় পাথর (রাজাপাথর) এলাকায় পৌঁছালে সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতে ছয়জন আরোহী নিয়ে থাকা নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় সেখানে থাকা পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও জাওয়াদ নিখোঁজ হয়ে যান। তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা স্থানীয় এবং সংশ্লিষ্টরা চালিয়ে যাচ্ছেন।

থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি জে ওয়াই প্রু মারমা গণমাধ্যমকে জানান, পর্যটকরা আলীকদম-থানচি সড়ক দিয়ে তিন্দুতে এসে গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা থানচি উপজেলা প্রশাসনের দ্বারা নির্ধারিত নিবন্ধন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর ফলে নিখোঁজ পর্যটকের নাম-পরিচয়সহ তাদের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল গণমাধ্যমকে বলেন, নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পর্যটকরা থানচিতে এসে প্রশাসনিক নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন না করায় নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের নারী সদস্যদের নেতৃত্বে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


পুলিশের নারী সদস্যদের নেতৃত্বে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন দিগন্ত

১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্য নিয়োগের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর,

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নারীরা নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।

একসময় সহায়ক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা এখন বাহিনীর প্রতিটি স্তরে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।

কমিউনিটিতে টহলরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ সব ধাপে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রয়েছেন।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বলেন, "কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।"

শিল্প পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন,

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে অধিকাংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় শ্রম অসন্তোষ নিরসনে নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।

শিল্প পুলিশ ইউনিট-৩, চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম ১৬ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "বাহিনীর নারী সদস্যদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।"

তিনি বলেন, "পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে নারী কর্মকর্তারা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের মতো উচ্চ পদে পৌঁছেছেন, যা আরো বেশি নারীকে পুলিশে যোগদানে উৎসাহিত করছে।"

অপরাধ বিভাগে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মাহমুদা বলেন, ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা আমাদের কাছে এলে অনেক বেশি খোলামেলা ও খোলসা কথাবার্তা বলেন, কারণ তারা মনে করেন আমরা তাদের অনুভূতি বুঝতে পারি।

তিনি আরও বলেন, "অনেক নারী ও শিশু ভুক্তভোগী পুরুষ কর্মকর্তাদের সামনে তাদের ট্রমার অভিজ্ঞতা বলতে সংকোচ বোধ করেন। নারী তদন্তকারী হিসেবে দ্রুত আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়, যা তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের মান উন্নত করতে সহায়তা করে।"

পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, আগের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তার ভাষায়, "জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তারা যখন নবীন সহকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন, তখন তা পুরো বাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া তরুণীরা জানেন, নিষ্ঠা ও পেশাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।"

শিল্প পুলিশে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মাহমুদা,

নারী পোশাক শ্রমিকরা নারী কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তিনি সবসময় তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।

তাছাড়া, তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে বা পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে নারী শ্রমিকদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শ দেন।

যদিও নারী সদস্যদের সংখ্যা ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবুও নেতৃত্ব, তদন্ত ও অপারেশনাল পুলিশিংয়ে সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পথ এখনও অনেক বাকি বলে মনে করেন নারী কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নবিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম নারী সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় তাদের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক ও সীমিত পরিসরের ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধা অতিক্রম করে বর্তমানে কনস্টেবল, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই), পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার (এসপি), উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাহিনীতে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যা মোট জনবলের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।

নারী সদস্যরা বর্তমানে মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বনারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা অর্জন করেছে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

সংগঠনটির কৌশলগত অগ্রাধিকার হলো— সব পর্যায়ে নারী সদস্যদের représentativité বৃদ্ধি করা, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদে উন্নীত করা, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা বাড়ানো, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার করা।

কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশিক্ষণ-২) মোছা. শাহালা পারভীন নারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় সাইবার অপরাধ তদন্ত, সাইবার সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্পর্কেও বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং বিষয়ে কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং তদন্তে জেন্ডার-সংবেদনশীল পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিপিডব্লিউএন ও ইউএন উইমেনের প্রশিক্ষণে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তদন্ত, ট্রমা-সচেতন সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের জন্য সমন্বিত সহায়তা সেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মহানগর পুলিশ ইউনিটে কর্মরত একজন নারী উপপরিদর্শক বলেন, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনায়ও সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "সময় বয়ে যাচ্ছে ও আমাদের দায়িত্ব বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগও একইভাবে বাড়ানো উচিত। নারী কর্মকর্তারা বারবার প্রমাণ করেছেন যে আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে জটিল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।"

ঢাকা বিভাগীয় কর্মশালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের পক্ষে এনরিকো লরেনজোন বলেন, বিপিডব্লিউএনের কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের ওপর।

এদিকে ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ইউনিট-এর ব্যবস্থাপক শ্রাবণা দত্ত নারী কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতার ঘাটতি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন কার্যক্রমে নারীদের ক্রমেই কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে।

সাইবার অপরাধ তদন্ত জোরদার করা, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে বাহিনী ধীরে ধীরে তার কার্যক্রমে নতুন রূপ দিচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট সদস্যের মাত্র ৯ শতাংশের কিছু বেশি নারী হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী এবং নারী কর্মকর্তারা মনে করেন, নিয়োগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল দায়িত্ব বাড়ানো হলে কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নারীরা আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।

বিপিডব্লিউএনের ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা আশা করছেন, তাদের অগ্রযাত্রার আগামী অধ্যায় শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং সমান সুযোগ, আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং জনগণের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করে এমন একটি আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে চিহ্নিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে হাস্যরসের আড়ালে ট্রাম্পের কটাক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


‘প্রেস ফ্রিডম’ নৈশভোজে হাস্যরসের আড়ালে ট্রাম্পের কটাক্ষ

গুলির ঘটনার কারণে গত এপ্রিলে স্থগিত হওয়া হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির (ডব্লিউজিএ) নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যম নিয়ে রসিকতা করেছেন এবং সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের প্রশংসা করেছেন।

ওয়াশিংটনে তিন ভাইসুদের উদ্যোগে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উদ্‌যাপন ও সাংবাদিকতা শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই নৈশভোজের আয়োজন করে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতি। ট্রাম্প বক্তব্যের শুরুতে কিছু হালকা রসিকতা করেছিলেন, কিন্তু পরে তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ বলে অভিহিত করেন, সেগুলোর সমালোচনা করেন। সাংবাদিক ডন লেমন, লরেন্স ও'ডনেল, রাজনীতিক ক্রিস ক্রিস্টি, অ্যাডাম শিফ, এবং তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জেন ফন্ডাকেও তিনি কটাক্ষ করেন।

ট্রাম্প বলেন, আগের অনুষ্ঠানে তিনি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আরো কঠোর সমালোচনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'এই কক্ষে সম্ভবত ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন এমন মানুষই একসঙ্গে বসে আছেন। আগের নৈশভোজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনাদের কেউ কেউ ভাগ্যবান ছিলেন। কারণ, তখন আমি আপনাদের আরো কঠোরভাবে সমালোচনা করতে যাচ্ছিলাম।' প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতির নৈশভোজে অংশগ্রহণ। আগের মেয়াদে তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি। তবে এবার তিনি আগামী বছরও অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা জানান।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের অস্তিত্ব রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ হলো, ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিছু সাংবাদিকের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ সীমিত করেছে এবং সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হুমকি দিয়েছে। তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং পক্ষপাত দূর করার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%