০৮:১২ পি.এম
বরিশাল সিটিতে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও তফশিল ঘোষণা করেনি, তবে আগামী বছরের শুরুতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করায় বিএনপি ও জামায়াতের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, এই ধারণা নগরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে। বরিশাল সিটিতে গত দুটি নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ ও আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। তবে ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াত অংশ নেয়নি।
বরিশালে বিএনপির অবস্থান সবসময় শক্তিশালী। এই সিটিতে মজিবুর রহমান সরোয়ার, আহসান হাবিব কামালের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মেয়র পদে ছিলেন। হারানো মসনদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি এবার মাঠে নেমেছে। তবে তাদের সামনে রয়েছে কোন্দল। এবারে বিএনপির অন্তত ১১ জন নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী দিয়ে মাঠ প্রস্তুত করছে।
বরিশাল নগরী, যা আয়তন ও ভোটারসংখ্যায় ছোট, সেখানে নানা সমস্যার সম্মুখীন। নগরবাসী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অপেক্ষায় রয়েছে। ভোটাররা এবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী: রাসিক প্রশাসক
বরিশালে প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে বিএনপির ১১ জন নেতা আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে ছিঁড়বে, তা বলা মুশকিল। তবে এবারের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের অনুপস্থিতি একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। যদিও দল থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তিনি নিজে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে সামান্যতম ভুল হলে বিএনপিকে তার খেসারত দিতে হতে পারে।
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান যখন এমন, তখন বিএনপিতে চলছে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য লড়াই। এই লড়াইয়ে ১১ জন বিএনপি নেতা মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-বিসিসির বর্তমান প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতউল্লাহ ও এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন, জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু, সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল এবং সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির। আলোচ্য ১১ নেতার মধ্যে শিরিন বিসিসির প্রশাসক পদে বসার সুযোগে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্য মনোনয়ন প্রার্থীদের পকেটের পয়সা খরচ করে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৪ জন বরিশালের পাশাপাশি ঢাকায়ও লবিং-তদবির করছেন। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে। ১১ নেতার মধ্যে দুজন শিরিন ঘরানার লোক হিসাবে পরিচিত। বাকিদের ঘনিষ্ঠতা সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে। নির্বাচনি মাঠে এই ঘরানা ও ঘনিষ্ঠতার বিরোধ বিএনপির জয়-পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর হবে বলে মনে করছেন সবাই।
জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতও নিজস্ব পদ্ধতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে তারা দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে হেলালকে বরিশাল সদর আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল জামায়াত, পরে তিনি চরমোনাই পীরের আসন হিসাবে সরে দাঁড়ান। হেলালের প্রচার-প্রচারণা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রস্তুতির প্রশ্নে তিনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা মাঠে সক্রিয়। তারা প্রায় প্রতিদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কৌশল হিসাবে আলাদা আলাদা মসজিদে নামাজ আদায় করছেন হেলাল। কুশল বিনিময় করছেন মুসল্লিদের সঙ্গে এবং অসহায় দরিদ্র মানুষের সহায়তাও দিচ্ছে দলটি।
এদিকে বাসদ-এর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বঞ্চিত মানুষের পক্ষ নিয়ে কথা বলার সময় হামলা-মারধরের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার হাত ভেঙে দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিগত জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে তিনি প্রায় ২৩ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই দাখিল হবে: কুমিল্লা পুলিশ সুপার
মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপি। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে বিশিষ্ট আইনজীবী শেখ আব্দুল্লাহ নাসিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মানবিক আইনজীবী নাসির তার পেশাগত জীবনে বহু দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া এনসিপির প্রার্থী এম আনোয়ার সিকদার। নাম ঘোষণার পর থেকে মাঠে রয়েছেন আনোয়ার। সবার দোয়া চেয়ে পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তার প্রচার-প্রচারণা।
দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ঘরানা-ঘনিষ্ঠতার বিরোধ দূর করতে না পারলে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী হেলালের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এই মন্তব্য দলের বহু মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীর।
বরিশালের জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব আগেও ছিল। তারপরও জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে এদেশের মানুষ। সর্বোপরি আমি মনে করি, দলের চেয়ারম্যান আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অজানা কিছু নেই। তার সিদ্ধান্তে যে ভুল হয় না, এর প্রমাণ আমরা আগেও পেয়েছি। তিনি বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন