বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৭:৪৫ পি.এম
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করা হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকটি বুধবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই (Diaoyutai) অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এই স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবির এবং চীন কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং স্মারকে সই করেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত। উল্লেখযোগ্য যে, এটি ছিল দুই দলের মধ্যে প্রথমবারের মতো করা একটি সমঝোতা স্মারক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুসলিম সমাজে যুগ যুগ ধরে আশুরার রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে এই রোজা একদিন রাখা যথেষ্ট, নাকি দুইদিন রাখা আবশ্যক, এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা দেখা যায়।
এবং যদি আমরা হাদিস, ফিকহ, মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাখ্যা এবং সমকালীন ফতোয়া বোর্ডগুলোর সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করি, তাহলে এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান পাওয়া যায়।
আশুরার রোজার ভিত্তি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় এসে উপস্থিত হন, তখন তিনি দেখতে পান যে, ইহুদিরা ১০ মহররমে রোজা পালন করছে। যখন তিনি তাদের কারণে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তারা জানায় যে, এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আ. ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে ধ্বংস করেছিলেন।
এখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুসার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তোমাদের চেয়ে অধিক।’ এরপর তিনি নিজে আশুরার রোজা পালন করেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ বুখারি: ২০০৪, সহিহ মুসলিম: ১১৩০)
এখন দেখা যাচ্ছে, এই হাদিসে ১০ মহররমের রোজা হিসেবে আশুরার মূল রোজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এ দিন রোজা রেখেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পরে তিনি আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কেও বলেন, আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে। (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
অর্থাৎ, আশুরার দিনের রোজা নিজেই একটি স্বতন্ত্র সুন্নত এবং মহান ফজিলতের আমল।
তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) জীবনের শেষ দিকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। হজরত ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই নবম তারিখও রোজা রাখব। (সহিহ মুসলিম: ১১৩৪)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিস ও ফকিহরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ১০ মহররমের রোজা বাদ দেওয়ার কথা বলেননি, বরং ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ যুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
তার উদ্দেশ্য ছিল যে মুসলিম উম্মাহকে ইহুদিদের থেকে স্বতন্ত্র পরিচয় দেওয়া এবং ইবাদতে অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ করা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ইচ্ছা প্রকাশ করার পরবর্তী মহররম আসার আগেই ইন্তেকাল করেন। ফলে তিনি বাস্তবে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা পালন করতে পারেননি। কিন্তু তার এই ইচ্ছা ও নির্দেশনা থেকেই ফকিহগণ দুদিন রোজা রাখাকে অধিক উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন।
চার মাজহাবের ইমামদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনো মাজহাবই শুধু ১০ মহররমের রোজাকে অগ্রহণযোগ্য বলেনি। হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি সব মাজহাবের আলেমরা একমত যে, শুধু ১০ মহররমের রোজা রাখলেও আশুরার সুন্নত আদায় হয়ে যায় এবং এর ফজিলত লাভ করা যায়। তবে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা রাখা অধিক উত্তম এবং সুন্নতের অধিক পরিপূর্ণ অনুসরণ।
ইমাম নববী রহ. আশুরার রোজার স্তর বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সর্বোত্তম হলো ৯, ১০ ও ১১ মহররম তিনদিন রোজা রাখা। এরপর ৯ ও ১০ মহররম। এরপর ১০ ও ১১ মহররম। আর শুধু ১০ মহররম রোজা রাখাও একটি সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ কাজ।
সমকালীন বিশ্বের প্রধান ফতোয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানও একই। মিশরের দারুল ইফতা, সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি, দারুল উলুম দেওবন্দ, পাকিস্তানের মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি, শাইখ ইবনু বায, শাইখ ইবনু উসাইমীনসহ অসংখ্য আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শুধুমাত্র ১০ মহররমের রোজা রাখা বৈধ, সুন্নত এবং ফজিলতপূর্ণ। কিন্তু ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা রাখা অধিক উত্তম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ইচ্ছা, সাহাবিদের আমল এবং ফকিহদের ব্যাখ্যার আলোকে ৯ ও ১০ মহররম একত্রে রোজা রাখা অধিক উত্তম, আরও পরিপূর্ণ এবং সুন্নতের পরিপন্থী নয়।
ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি মানুষের জন্য সহজতা ও ভারসাম্যের পথ উন্মুক্ত রাখে। যে ব্যক্তি দুইদিন রোজা রাখবেন, তিনি অতিরিক্ত সওয়াব ও সুন্নতের পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হবেন। আর যে ব্যক্তি শুধুমাত্র ১০ মহররম রোজা রাখবেন, তিনিও আশুরার সুন্নত থেকে বঞ্চিত হবেন না।
উভয় আমলই শরিয়তের স্বীকৃত পরিসরের অন্তর্ভুক্ত, তবে মর্যাদার দিকে থেকে দুইদিন রোজা রাখা অধিক উত্তম ও অধিক পরিপূর্ণ সুন্নত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার লালমোহন উপজেলায় গত দুই দিনে কুকুরের কামড়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে সাতজন বিমার চিকিৎসা নেয়। এর পূর্বে বুধবার আরো ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ বদরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এছাড়া, কিছু কুকুরকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখা গেলেও সেগুলোর চিকিৎসা বা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই এই অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কুকুরের আক্রমণের ভয়ে শিশু, নারী ও বয়স্করা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। বিশেষ করে সকাল এবং সন্ধ্যার সময়ে কুকুরের উপদ্রব বেশি দেখা যাচ্ছে।
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু মাহমুদ তালহা উল্লেখ করেছেন, কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা আক্রান্তদের বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেছেন, সামনে কুকুরের প্রজনন মৌসুম আসছে তাই সকলকেই সতর্কতার সাথে চলাফেরা করতে হবে। সচেতনতা ও সাবধানতা অবলম্বন করলে কুকুরের কামড়ের ঝুঁকি অনেকভাবে এড়ানো সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামাজ ইসলামের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কেয়ামতের দিন প্রথম যার হিসেব নেয়া হবে, সেটি হল নামাজ। এটি আদায়ের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। এসব নীতিমালা মেনে আদায় না করলে নামাজ কবুল হবে না।
অনেকে জানতে চান, শেষ বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বৈঠক বা হাঁটুগেড়ে বসা নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুই রাকাতের নামাজের শেষে বৈঠক করা ফরজ, আর চার রাকাত ও তিন রাকাতের নামাজের প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ওয়াজিব এবং শেষ বৈঠক ফরজ। নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ পড়া ওয়াজিব, অপরদিকে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত।
যে কোনো ফরজ নামাজে যদি কেউ শেষ বৈঠক না করে তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে যেমন, ফজরের নামাজে দ্বিতীয় রাকাতের পর বৈঠক না করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াটা, মাগরিবের নামাজে তৃতীয় নামাজের পর বৈঠক না করে চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া অথবা জোহর, আসর ও ইশার নামাজে চতুর্থ রাকাতের পর বৈঠক না করে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো কার্যক্রম, সেক্ষেত্রে সিজদায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত যদি কেউ ভুল বুঝতে পারে, তাহলে তার করণীয় হবে ওই অবস্থান থেকে বৈঠকে ফিরে আসা এবং এই ভুলের কারণে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামাজ শেষ করা।
যদি কেউ অতিরিক্ত রাকাতের সিজদা করে ফেলানোর আগে ভুল বুঝতে না পারে, তাহলে সাহু সিজদার মাধ্যমে ওই ভুলের প্রতিকার করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে ওই নামাজটি নফল হিসেবে আদায় হবে। সিজদায় গিয়ে বা সিজদার পর ভুল বুঝতে পারার মতো হলে, নামাজের করণীয় হচ্ছে যথা নিয়মে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে ওই নামাজ নফল হিসেবে শেষ করা এবং ফরজ নামাজটি নতুনভাবে আদায় করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধা (৬৫) মারা গেছেন।
প্রতিনিধি জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে নরসিংদী শহরের বাসাইল রেলগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৃদ্ধার হাতে দুই প্যাকেট কাঁচা মাংস ও কিছু কাঁচা আম ছিল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
এ বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোথাও বেড়াতে বা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ