বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরীতে ছিনতাই ও চুরি হওয়া মুঠোফোনের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই এবং চুরি করে আসছিল। পরে চক্রটি চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে দেশের বিভিন্ন জেলাছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্প, মিয়ানমার ও ভারতে পাচার করত। পুলিশের নিয়মিত অভিযানে এ ধরনের অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়ে আইনের আওতায় এলেও অনেকেই জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান জানান, একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্ঘাটন করতে গিয়ে গত ২৪ জুন কোতোয়ালি থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাভেদুল হোসেন ওরফে মনিকে গ্রেপ্তার করে।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেল, সিদ্দিক মিয়া সজীব, মো. শামীম এবং ফাইসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ২৪টি আইফোন, ১৩৩টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, ২০৩টি মোবাইল সিম, একটি মাইক্রোস্কোপ, নগদ ১ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৪৪টি মোবাইল ফোনের কেসিং, মাদারবোর্ড এবং মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনে ব্যবহৃত একটি ফাইবার লেজার মার্কিং মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে তারা বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম দামে মোবাইল ফোন কিনে সংগ্রহ করত। পরে তারা বিশেষ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বর ও কেসিং পরিবর্তন করে বৈধ মোবাইল ফোন হিসেবে বাজারজাত করে।
তিনি আরও জানান, চক্রটি মোবাইলসহ বিভিন্ন ডিভাইসের তথ্য পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম। এছাড়া তারা মোবাইলের মাদারবোর্ড খুলে নতুন সেটিংসে প্রবেশ করিয়ে দেয়। এর পাশাপাশি ফাইবার লেজার মার্কিং মেশিন দিয়ে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে। ফলে চুরি যাওয়া মোবাইলটি নতুন একটি মোবাইলে পরিণত হয়। আইএমইআই পরিবর্তন হলে সেটি পুলিশের নজরদারির বাইরে চলে যায় এবং পরে ওই ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।
হাবিবুর রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তার সোহেলের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। এই চক্রের মূলহোতা সোহেল। তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চারটি এবং আবু সাঈদের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে আজ বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। সবাই পেশাদার অপরাধী।
চোরাই মোবাইল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের মোবাইল আমদানি বা ক্রয়ের কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। মাঝেমধ্যে আমরা মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরীক্ষা করব এবং ফোনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইব। ব্যবসায়ীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তারা যেন স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত বুধবার ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের সময়, স্থানীয় অনেক বাসিন্দা এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। যিনি অনুভব করলেন মাটিতে কম্পন শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে তাদের স্মার্টফোনে গুগলের সতর্কবার্তা ভেসে উঠেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিভিন্ন ব্যবহারকারী জানান যে, ভূমিকম্পটি তাদের অবস্থান থেকে প্রায় ৩৪১ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানা সত্ত্বেও গুগল আগেভাগেই নোটিফিকেশন পাঠিয়েছিল। ভূমিকম্পের প্রাথমিক সংকেত ঘটে যাওয়ার আগেই গুগল কীভাবে সেগুলি টের পায়, তার উত্তর পাওয়া যায় আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনে।
বিশ্বব্যাপী থাকা কোটি কোটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করে গুগল গড়ে তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প শনাক্তকরণ নেটওয়ার্ক বা সিসমোগ্রাফ। প্রতিটি আধুনিক স্মার্টফোনে রয়েছে ‘অ্যাক্সেলেরোমিটার’ নামের একটি সেন্সর, যা ফোনের স্ক্রিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘোরানোর কাজ করে। তবে এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, এটি সূক্ষ্ম কম্পনও পরিমাপ করতে পারে। যখন কোনও এলাকার কম্পন শুরু হয়, তখন অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলো গুগলের কেন্দ্রীয় সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত ও সম্ভাব্য অবস্থান পাঠায়। এই সার্ভার দ্রুত সময়ে ওই অঞ্চলের অন্যান্য ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করে, যদি একসঙ্গে অনেক ফোন থেকে একই ধরনের কম্পনের সংকেত আসে, তখন গুগল নিশ্চিত হয় যে একটি ভূমিকম্প আসছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতি ফোনের নেটওয়ার্ক সিগন্যালের গতি তুলনায় বেশি হওয়াতেই গুগল এই আগাম সতর্কতা দিতে পারে। ভূমিকম্পের সময় মূলত দুই ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়; প্রথমটি ‘পি-ওয়েভ’ বা প্রাইমারি ওয়েভ, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬ কিলোমিটার গতিতে ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু এটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এর ঠিক পরে প্রতি সেকেন্ডে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার গতিতে চলে আসে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ‘এস-ওয়েভ’ বা সেকেন্ডারি ওয়েভ, যা মূলত সব ক্ষয়ক্ষতি করে। স্মার্টফোনের সেন্সর দুর্বল পি-ওয়েভটি শনাক্ত করে হামলে গিয়ে সার্ভারে সংকেত পাঠায়, এবং সেই তথ্য আলোর গতিতে গুগলের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে ধ্বংসাত্মক এস-ওয়েভ মানুষের ঘরবাড়িতে পৌঁছানোর আগেই গুগল তথ্য যাচাই করে ব্যবহারকারীদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হয়।
অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের মাধ্যমে ভূমিকম্পের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে দুই ধরনের অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়ে থাকে। মৃদু কম্পনের ক্ষেত্রে ‘বি অ্যাওয়ার অ্যালার্ট’ ব্যবহারকারীদের প্রস্তুত করতে পাঠানো হয়, এবং মাঝারি থেকে তীব্র কম্পনের ক্ষেত্রে ‘টেক অ্যাকশন অ্যালার্ট’ ব্যবহার হয়, যা জীবন ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রচার করে। এই নোটিফিকেশনে ট্যাপ করলে ব্যবহারকারীরা সতর্কতার পদ্ধতি, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল এবং তীব্রতার বিস্তারিত মানচিত্র দেখতে পারেন। ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে চালু হওয়া গুগলের এই বিশেষ প্রযুক্তিটি অ্যান্ড্রয়েড ৫ বা তার উন্নত সংস্করণের ফোনে কাজ করে এবং ফোনে সার্বক্ষণিক ওয়াই-ফাই বা সেলুলার ডাটা কनेकশন চালু থাকতে হয়। যে কোন ব্যবহারকারী চাইলে ফোনের সেটিংস অপশনে গিয়ে এই সুবিধাটি বন্ধ করে রাখতে পারেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির খসড়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা উল্লিখিত হয়নি। তাছাড়া, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
এই সব কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী এই চুক্তি নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
তবে, এ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক শান্তি চুক্তি সম্পর্কে সন্দিহান উপসাগরীয় দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার রাতের স্থানীয় সময়ে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় পৌঁছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, এটি ছিল তিন দিনের আঞ্চলিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মিত্রদের আশ্বস্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তি তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা মনে রেখেই করা হবে। আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে।’
বাহরাইনে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘকালীন প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি করতে চায়, যা অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি বৈঠকে ওমানের প্রস্তাবিত নিরাপদ নৌ-চলাচল করিডোরকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই করিডোরটি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সহজ করতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হওয়ার পর, রুবিওর এই সফর ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ। সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে।
স্ক সফরের সময়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে, রুবিও আঞ্চলিক নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন কিছু করব না যা আমাদের দীর্ঘ দিনের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে।
তবে, চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে, কিন্তু তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
এছাড়া, ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতে দুপক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জিসিসিভুক্ত দেশগুলো (সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েত) যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র। যুদ্ধে তারা বিভিন্নভাবে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে ইরানি হামলারও শিকার হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছুটি না দিয়ে রাতভর কাজ করানোর ফলে গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানায় নারী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগে শ্রমিকরা তীব্র বিক্ষোভ করেছেন। সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ করে দিয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় ‘কালার কো লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় এই ঘটনা ঘটেছে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, লিজা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক অসুস্থ থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দেয়নি। বরং তাকে দিয়ে রাতভর কাজ করানো হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি কর্মরত অবস্থায় কারখানার ভেতরেই মারা যান। একই রাতে শোভা নামে আরও এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন।
সহকর্মীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আজ সকালে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এই সময়ে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ ও হয়রানির অভিযোগ করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে কালার কো লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা অবিলম্বে নারী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও তাদের হয়রানির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে। মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের অভিযোগ, তাদের ড্রোন হামলায় শহরের প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর রাজভোজায়েভ উল্লেখ করেছেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকতে পারে। তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া একটি বার্তায় বলেছেন, “শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে।” যদিও, এই পরিস্থিতিতেও জনগণকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানিয়েছেন, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে, রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর থেকেই ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এদিকে আতঙ্কিত অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষত চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর দ্বারা এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবী, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়।
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান। গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান একটি খুলা চিঠি পাঠিয়ে। কিন্তু পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করে ও সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতির আগে। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ