ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শতভাগ ফেল করা কলেজ নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী


শতভাগ ফেল করা কলেজ নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের ২৯৩টি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান এবং সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এসব প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ না করে বরং পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাস করার চিন্তা করছে। শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, নিহত এক ভারতীয় নাগরিক

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা এটা জানি যে অনেক জায়গায় অযাচিত অনেক কলেজ হয়েছে। রাতারাতি তো বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তবে সেগুলোকে সীমিত পরিসরে কিভাবে আমরা রি-অ্যাডজাস্ট করব, সে ব্যাপারে আমাদের ভাবনা রয়েছে।"

তিনি আরো বলেন, "জিরো পার্সেন্টেজ এবারও বেড়েছে, মানে জিরো পাস করা প্রতিষ্ঠানেরও সংখ্যা বেড়েছে। তো সেগুলোকে নিয়ে আমরা কনসিডার করব, কিভাবে পার্শ্ববর্তী জায়গায় মার্জ করা যায় কি না। তবে শিক্ষকদের চাকরি যাবে না, এটা আমি নিশ্চিত করতে পারি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিপ্লব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিপ্লব

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) দেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে, যা পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি ২২টি ফসলের ১৩৯টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ৯৬টি জাত সরাসরি মিউটেশন ব্রিডিং বা বিকিরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে।

এছাড়া, বিনা ১০টি জীবাণুসার এবং ৫৭টি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তারা মূলত প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং বা পরমাণু বিকিরণ (যেমন-গামা রশ্মি, এক্স-রশ্মি বা আয়ন বিম) প্রয়োগের মাধ্যমে উদ্ভিদের জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন নতুন ফসলের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে।

বিনা’র বিজ্ঞানীরা তাদের সফল ও যুগোপযোগী গবেষণা কর্মকাণ্ডের জন্য দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত বিনা ৩১টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা পদক-২০১৯ সহ জাতীয়ভাবে ২২টি এবং আন্তর্জাতিকভাবে ৯টি পুরস্কার রয়েছে।

বিনা’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক শরীফুল হক ভুঁইয়া জানান, "পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে অনেক পরিবর্তন এনেছে বিনা। এ পর্যন্ত ২২টি ফসলের মোট ১৩৯টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।" তিনি বলেন, এর মধ্যে পারমানবিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ৯৬টি জাত উদ্ভাবন করেছে বিনা।

বিনা’র কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি ধান, পাট, গম, ডাল, তেলবীজ, সব্জি ও মসলা জাতীয় শস্যের ২২টি ফসলের উচ্চ ফলনশীল এবং উন্নত গুণাবলী সম্পন্ন ১৩৯টি জাত উদ্ভাবন করেছে। ফসলের উন্নত জাতগুলো ছাড়াও ডাল ও শিম জাতীয় তেল ফসলের নাইট্রোজেনের বিকল্প হিসেবে ইনস্টিটিউট ১০টি জীবাণুসার উদ্ভাবন করেছে। বর্তমানে ছোলা, মসুর, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মাষকলাই, বরবটি ও ধৈঞ্চা’র জীবাণু সার ইনস্টিটিউট থেকে তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব জীবাণু সার প্রয়োগে সয়াবিনে ৭৫ থেকে ১৫০ ভাগ এবং ডাল ও শিম জাতীয় শস্যে ২০ থেকে ৪৫ ভাগ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি পায়। জীবাণু সার প্রয়োগের ফলে ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফসফো-ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারের মাধ্যমে মৃত্তিকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ফসফেটিক সারসহ অন্যান্য রাসায়নিক সারের সাশ্রয় হয়। এছাড়াও বিনা ৫৭টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

পারমাণবিক পদ্ধতিতে বিনার প্রধান উদ্ভাবন ও সাফল্যের মধ্যে বিনাধান-১৪ উল্লেখযোগ্য। সাধারণত প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের একটি নতুন জাত তৈরি করতে ৮ থেকে ১২ বছর সময় লাগে। কিন্তু বিনা আয়ন বিম প্রযুক্তির সাহায্যে মাত্র ৪ বছরে স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চ ফলনশীল জাত বিনাধান-১৪ উদ্ভাবন করেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটি এবং দেশের বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য বিশেষ জাত (যেমন- বিনাধান-১০, বিনাধান-২৩ ইত্যাদি) উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর ফলে উপকূলের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ভাগ পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে। ধান ছাড়াও তারা বিনা সরিষা, বিনা মুগ, বিনা মসুর, বিনা সয়াবিন, বিনা টমেটো এবং বিনা চিনাবাদামের মতো উচ্চ ফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী জাত তৈরি করেছে।

মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে বিনা ১০টি জীবাণু সার উদ্ভাবন করেছে। এই জীবাণু সার ব্যবহারে ডাল ও শিম জাতীয় শস্যের ফলন ২০ থেকে ৪৫ ভাগ এবং সয়াবিনের ফলন ৭৫ থেকে ১৫০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এটি ব্যবহারে জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, যা কৃষকের খরচ বাঁচায় এবং পরিবেশ রক্ষা করে। বিনা দেশীয় ফসলের জিনগত বৈশিষ্ট্য গভীরভাবে জানার জন্য জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে তারা খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, রোগবালাই এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত তৈরি করছে।

বিনা উদ্ভাবিত ফসলের জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে- ধান ২৬ টি’র মধ্যে আউশ জাতের ধান ২টি, আমন জাতের ধান ১৪টি, বোরো জাতের ধান ১০টি, গম ১টি, তেল জাতীয় ফসল ৩৭ টির মধ্যে সরিষা ১২ টি, চিনাবাদাম ১২ টি, সয়াবিন ৭টি, তিল ৬টি, ডাল জাতীয় ফসল ৪১টির মধ্যে মসুর ১২টি, মুগ ১৩টি, ছোলা ১১টি, মাষ ৩ টি, খেসারী ২টি, উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল ২৫টির মধ্যে টমেটো ১৩টি, লেবু ৩টি, পিঁয়াজ ২টি, মরিচ ২টি, হলুদ ১টি, রসুন ১টি, কুল ১টি, সফেদা ১টি, কালিজিরা ১টি, আঁশ জাতীয় ফসল ৪টি ও পাট ৪টি।

এ ছাড়া বিনা উদ্ভাবিত উল্লেখযোগ্য কিছু প্রযুক্তিসমূহের মধ্যে প্রধান প্রধান শস্য পরিক্রমায় সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, ধান ভিত্তিক শস্য পরিক্রমায় ফসফেট সারের ব্যবস্থাপনা, ধান চাষে নাইট্রোজেন সারের ব্যবস্থাপনা, ফসফেটিক জীবাণু সার, লবণাক্ত জমিতে গম চাষ, মাটিতে দস্তার প্রয়োজনীয়তা নির্ণয়, পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বরেন্দ্র এলাকার জন্য নতুন শস্য পরিক্রমা, আর্সেনিকমুক্ত পানি উত্তোলনের জন্য অগভীর নলকূপ স্থাপন, ধানগাছের মাধ্যমে আর্সেনিক শোষণ, মাটি-উদ্ভিদে আর্সেনিকের স্থানান্তর, লবণাক্ত এলাকায় ফসলের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় টমেটো গাছের ঢলে পড়া রোগ দমন, রোগ প্রতিরোধী শস্য জাত উদ্ভাবন ও বিস্তার, মাটির স্বাস্থ্য সেবা, লবণাক্ত এলাকায় সূর্যমুখী, ভূট্টা ও সয়াবিন চাষে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ত এলাকায় ফারো রোপন পদ্ধতি, লবণাক্ত এলাকায় গম চাষে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা, মাল্টার কলম করার কলাকৌশল এবং সফেদার বংশবিস্তার কলাকৌশল অন্যতম।

কৃষি গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইনস্টিটিউট ১৯৭৯-৮০ সালের কৃষি উন্নয়নে ‘রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার’ লাভ করেছে। কৃষি গবেষণা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০-৮১ ও ১৯৮১-৮২ সালে ‘রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার’ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি।

কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে বায়োটেকনোলজি বিভাগ, বিনা ২০১৩ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় কৃষি পুরষ্কার রৌপ্য পদক লাভ করে। কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১৪ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় কৃষি পুরস্কার স্বর্ণ পদক লাভ করে।

এ ছাড়া কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৬’ স্বর্ণ পদক অর্জন করে। কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্বাধীনতা পদক-২০১৯ অর্জন করে।

ফুড সিকিউরিটিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম (প্রাক্তন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) জাতিসংঘের এফএও-আইএইএ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ লাভ করেন। কৃষি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিনা ২০১৬ সালে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ‘আইডিবি প্রাইজ ২০১৬ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ পুরষ্কার লাভ করে।

লবণ ও জলমগ্নতা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম এবং উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগকে ২০১৮ সালে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম কৃষি গবেষণায় মিউটেশন ব্রিডিং এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে ওমেন ইন প্ল্যান্ট ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড অফ এফএও-আইএইএ অফ দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস পুরষ্কার লাভ করেন। মিউটেশন ব্রিডিং এর মাধ্যমে ফসলের জাত উদ্ভাবনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিনা ২০২১ সালে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ অর্জন করে।

বিনা’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান খান প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবনী সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, "বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত একটি জাতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিনা, যার প্রধান কাজ হলো- পারমাণবিক কৌশল ও বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলের উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা-সহনশীল জাত উদ্ভাবন করা।" বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে পৃথিবীর অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩০ পর্যন্ত শেয়ারবাজারের মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


২০৩০ পর্যন্ত শেয়ারবাজারের মূলধনি মুনাফায় কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ

দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, বাজারের তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ডিবিএর পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পেশ করা হয়।

বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি রয়েছে এবং এর অতিরিক্ত মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য। ডিবিএ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহাল করার পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে করব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই উদ্যোগ লেনদেন বৃদ্ধি, মুনাফার পুনর্বিনিয়োগ, দেশীয় সঞ্চয়ের উৎপাদনশীল ব্যবহার এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির ইকুইটি অর্থায়নে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তিকৃত যোগ্য লেনদেনের মূলধনি মুনাফা করমুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। তবে স্পনসর, পরিচালক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বিদ্যমান করব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে ডিবিএ।

উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু হলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাবের প্রক্রিয়া সহজতর হবে বলে মনে করে ডিবিএ। এই বিবেচনায়, সিসিবিএল-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়া তথা আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই মূলধনি মুনাফার ওপর কর অব্যাহতি চায় সংগঠনটি।

ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, "ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।" একই সঙ্গে এটি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।

সংগঠনটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুললেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুললেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ষড়যন্ত্রের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইনাল হারার প্রশ্নই ওঠে না। বরং টানা সফর, ঠাসা সূচি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবের কারণে দলের শারীরিক ক্লান্তি ছিল প্রধান কারণ।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মানুষ দাবি করেন, মাঠের বাইরের কোনো প্রভাব বা সমঝোতার কারণে আলবিসেলেস্তেরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচটি হেরেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও এনজো ফার্নান্দেজের পর এমিলিয়ানো মার্তিনেজও এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সম্প্রতি আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন ও এস্তেবান এদুলের অনুষ্ঠানে ‘লস এদুল’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এসব ষড়যন্ত্রতত্ত্ব শুনলে আমার হাসি পায়। পুরো ৫১ দিনের সফর আর আমাদের পরিশ্রম আমি নিজের চোখে দেখেছি। আরও একটি দিন বিশ্রাম পেলে আমরা ভালো অবস্থায় থাকতাম। বিশ্বকাপের ফাইনালে কে হারতে চায়? যত টাকাই দেওয়া হোক, এটা অসম্ভব।”

আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য বিশ্বাস করার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন। তার কথায়, “আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা আসে, মানুষ তা-ই বিশ্বাস করে। এসব তত্ত্ব কোথা থেকে এসেছে, সেটাই বুঝতে পারি না।”

এনজো ফার্নান্দেজও ফাইনাল নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব আলোচনা এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে তার মা-বাবাও ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, আসলে কী ঘটেছিল। এনজো বলেন, “আমার মা-বাবা ফোন করে জানতে চাইছিলেন, কী হয়েছিল। আসলে কিছুই হয়নি। সব মিথ্যা, সব বানানো কথা। স্পেন আমাদের যোগ্যভাবেই হারিয়েছে। প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো উচিত।”

স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বও স্বীকার করেছেন এনজো। তার ভাষায়, “ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এটা মেনে নিতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে যে প্রতিপক্ষই ভালো ছিল।”

পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলেছিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। তিনি দাবি করেছিলেন, ফাইনালে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। বরং শারীরিকভাবে প্রায় নিঃশেষ হয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। অ্যাকিলিস টেন্ডনের সমস্যার কারণে নিজেও ফাইনালের আগে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার।

এবার মার্তিনেজও পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে শারীরিক ক্লান্তির কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, টুর্নামেন্টের ঠাসা সূচি, একের পর এক দীর্ঘ সফর এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল।

বিশেষ করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মধ্যবর্তী সময় নিয়ে অসন্তুষ্ট মার্তিনেজ। তিনি বলেন, “কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবারের বিশ্বকাপে সবকিছু অনেক বেশি বাণিজ্যিক বিষয়কে কেন্দ্র করে হয়েছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাঝে মাত্র তিন দিন সময় পেয়েছিলাম। এর মধ্যে সফর করতে হয়েছে, অনুশীলনও সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে। আমরা পুরোপুরি ক্লান্ত ছিলাম।”

তবে শারীরিক ক্লান্তির কথা বললেও স্পেনের জয়কে খাটো করেননি মার্তিনেজ। বরং ফাইনালে প্রতিপক্ষ যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে ম্যাচের ফল নিয়ে একটি আক্ষেপ এখনও রয়ে গেছে দিবুর। তার বিশ্বাস, ফাইনাল টাইব্রেকারে গড়ালে জয় পেত আর্জেন্টিনাই।

মার্তিনেজের দাবি, স্পেনের ফুটবলাররাও টাইব্রেকারে যেতে চাইছিলেন না। তিনি বলেন, “ওদের বলতে শুনেছিলাম, এখানেই ম্যাচ জিততে হবে, টাইব্রেকারে যাওয়া চলবে না। আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, দিনটা আমারই হবে।”

এনজোও একই আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “টাইব্রেকারে গেলে আমরাই জিততাম। আমাদের দলে দিবু ছিল। আমরা জানতাম, ওখানে সে কখনো ব্যর্থ হয় না।”

ফাইনালে ১১টি সেভ করেও শেষ পর্যন্ত দলকে শিরোপা জেতাতে পারেননি মার্তিনেজ। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের জয়সূচক গোলটি আটকাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে টাইব্রেকারে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগও আর পাননি আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে কন্দাল ফসলের উন্নয়ন নিয়ে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


যশোরে কন্দাল ফসলের উন্নয়ন নিয়ে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

যশোরে কন্দাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণা জোরদার ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, যশোরের সভাকক্ষে দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) গাজীপুরের ‘কন্দাল ফসল গবেষণা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার শতাধিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজীপুরের কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. খোরশেদ আলম।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল কাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. মো. আনোয়ার হোসেন খান এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাগণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আশফাকুর রহমান বলেন, "দেশে আলুর চাহিদা পূরণে উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও উন্নত জাতের আলুর চাষ দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।"

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় যশোর অঞ্চলের ৬টি জেলা- যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার কৃষি বিজ্ঞানীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%